১৯টি উপনির্বাচনের ফলে বিজেপির চিন্তা ২০১৯

নয়াদিল্লি: ত্রিপুরায় প্রবল জয় পেয়ে ক্ষমতায় বিজেপি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী জোট আইপিএফটি৷ সেই আনন্দের মাঝেই উত্তর প্রদেশ ও বিহারের সদ্য উপনির্বাচনের ফল যেন বিষফোঁড়া হয়েই যন্ত্রণা দিচ্ছে মোদী সরকারকে৷

দেশজুড়ে চলতে থাকা মোদী উন্মাদনা কি কমার দিকে ? একাধিক উপনির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিল৷

আরও পড়ুন: পঞ্চায়েত ভোটের দায়িত্ব থেকে সরানো হল মেয়র শোভনকে

- Advertisement -

সদ্য উত্তর প্রদেশের দুটি লোকসভা আসন ফুলপুর ও গোরক্ষপুরে পরাজয় বিজেপির কাছে বড় ধাক্কা৷ গোরক্ষপুর থেকে সাংসদ ছিলেন উত্তর প্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ৷ আর উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যের কেন্দ্র ছিল ফুলপুর৷ তাঁরা সাংসদ পদ ত্যাগ করতেই উপনির্বাচন হয়৷ তেমনই বিহারের কয়েকটি আসনের উপনির্বাচনে খুব একটা বড় কিছু করতে পারেনি বিজেপি-জেডিইউ জোট৷

জাতীয় স্তরের সংবাদ মাধ্যম ‘আজ তক’ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন উপনির্বাচনে মোদী সরকার কেমন ধাক্কা খাচ্ছে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে দেশে মোদী ঝড়ের দাপটে বিশাল ক্ষমতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এনডিএ সরকার৷ কিন্তু গত ১৯টি উপনির্বাচনে বিজেপির পক্ষে ফল রীতিমতো চিন্তাজনক৷

আরও পড়ুন: আমাদের দাদাই পরের ‘ক্যাপ্টেন’, তরজায় মেতে কর্মীরা

২০১৪ (মৈনপুরী ও ভদোদরা) উপনির্বাচন: লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই উত্তর প্রদেশের মৈনপুরী ও গুজরাতের ভদোদরা লোকসভা কেন্দ্রে হয় উপনির্বাচন৷ মৈনপুরীতে জয়ী হন সমাজবাদী পার্টির তেজ প্রতাপ যাদব৷ আর ভদোদরা কেন্দ্রে বিজয়ী হন বিজেপির রঞ্জন বেন৷ দুটি কেন্দ্রেই বিজয়ীদের ঘরে গিয়েছিল বড় ভোট৷

২০১৫ (ওয়ারঙ্গল, বনগাঁ, কৃষ্ণগঞ্জ) উপনির্বাচন: এই বছর তেলেঙ্গানার ওয়ারঙ্গল ও পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণগঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন হয়৷ ওয়ারঙ্গল থেকে নির্বাচিত সাংসদ টিআরএস সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হন৷ আসনটি খালি হয়৷ আর বনগাঁ ও কৃষ্ণগঞ্জের সাংসদ প্রয়াত হন৷ উপনির্বাচনে ওয়ারঙ্গলে জয়ী হয় টিআরএস৷ অন্যদিকে কৃষ্ণগঞ্জ ও বনগাঁ ধরে রাখে তৃণমূল কংগ্রেস৷

আরও পড়ুন: ভোটচুরি না করলে নন্দীগ্রামে জিতবে না তৃণমূল: বিস্ফোরক বিজেপি

২০১৬ (তমলুক, কোচবিহার, শাহডোল ও লখিমপুর) উপনির্বাচন: এই বছর চারটি লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়৷ ৷ পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও মধ্যপ্রদেশের শাহডোল কেন্দ্রের সাংসদদের প্রয়াণে আসন দুটি খালি হয়েছিল৷ কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেস ও শাহডোল থেকে বিজেপি জয়ী হয়৷ তমলুকেও মসৃণ জয়ী হয় টিএমসি৷ অসমের লখিমপুর থেকে হওয়া সাংসদ সর্বানন্দ সোনোওয়ালকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়৷ সেই আসনের উপনির্বাচনে বিজেপি একতরফা জয়ী হয়৷

২০১৭ (গুরুদাসপুর, শ্রীনগর, অমৃতসর) উপনির্বাচন: গত বছর হওয়া বিভিন্ন উপনির্বাচন থেকেই বিজেপির পক্ষে হাওয়া প্রতিকূল হতে শুরু করেছে৷ এমনই রিপোর্ট দিয়েছে ‘আজ তক’৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরের সাংসদ বিনোদ খান্না প্রয়াত হতেই উপনির্বাচনে কংগ্রেস বিপুল জয় পেয়েছে৷ ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন৷ অন্যদিকে অমৃতসর কেন্দ্রেও জয়ী হয় কংগ্রেস৷ ২০০৪ ও ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয়ী হন বিজেপির নভজ্যোৎ সিং সিধু৷ উপনির্বাচনে কংগ্রেস এখানে জয় পেয়েছে৷ জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর কেন্দ্রটি ক্ষমতাসীন দল তথা বিজেপির জোটসঙ্গী পিডিপির দখলে ছিল৷ সাংসদ ইস্তফা দিতেই হয় উপনির্বাচন৷ এতে পিডিপি বিরোধী ন্যাশনাল কনফারেন্স ও কংগ্রেসের জোট প্রার্থী ফারুক আবদুল্লা জয় পান৷

আরও পড়ুন: বাংলার পদ্মফুল কার হাতে উৎকণ্ঠায় কর্মীরা

২০১৮ (আজমেঢ়, আলোয়ার, উলুবেড়িয়া, আরারিয়া, গোরক্ষপুর ও ফুলপুর) উপনির্বাচন: সবকটি কেন্দ্রেই বিজেপি প্রবল ধাক্কা খেয়েছে৷ উপনির্বাচনের এই ফল পদ্ম শিবিরের কাছে বেশ চিন্তাজনক৷ কারণ সরকারের মেয়াদ ২০১৯ সাল পর্যন্ত৷ অর্থাৎ মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে আবার সাধারণ নির্বাচনের মুখে দাঁড়াতে হচ্ছে৷ এমনই পরিপ্রেক্ষিতে ৬টি কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল বলে দিয়েছে গেরুয়া দলের জনসমর্থনে ভাটার টান৷

রাজস্থানে চলছে বিজেপি সরকার৷ আর আজমেঢ় ও আলোয়ার কেন্দ্র দুটির উপনির্বাচনে পরাজিত হয়েছে বিজেপি৷ জিতেছে কংগ্রেস৷ ফল বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে দুটি লোকসভার অধীনে থাকা ৮টি করে বিধানসভার প্রতিটিতেই কংগ্রেস জয়ী৷ স্পষ্টই জনাদেশ গিয়েছে মোদী সরকারের বিপরীতে৷ পশ্চিমবঙ্গের উলুবেড়িয়াতেও প্রত্যাশিত জয় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের৷ আর সবথেকে বড় চিন্তা হল উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর, ফুলপুর আসন দুটি হাতছাড়া বিজেপির হওয়া৷ এই কেন্দ্রে বিএসপির সমর্থনে জয়ী হয়েছেন সপা প্রার্থী৷ বিহারের আরারিয়া লোকসভা আসনে আরজেডির কাছে পরাজিত হয়েছে বিজেপি৷

আরও পড়ুন: আঁটঘাট বেঁধে বঙ্গ দখলের লক্ষ্যেই সেনাপতির নাম ঘোষণায় সাবধানী মোদী

Advertisement
----
-----