মেয়াদ উত্তীর্ণ ভিটামিন পাউডার শিশু-প্রসূতিদের, তালা অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রে

স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: মেয়াদ পার করে গিয়েছে ভিটামিন পাউডার৷ তাই দেওয়া হচ্ছে প্রসূতি, শিশুদের৷ মিড-ডে মিল রান্নাও চলছে খোলামেলা ভাবে৷ প্রতিবাদে অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দিলেন এলাকার লোকজন৷ সাঁইথিয়া থানার মাঠপলশা গ্রামপঞ্চায়েতের এই ঘটনা ঘিরে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা৷ স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি৷

মাঠপলশা গ্রামপঞ্চায়েতের ব্রাহ্মনডিহি গ্রাম৷ তারই ৯৯ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ির ঘটনা৷ গ্রামবাসীরা বলেন, ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই প্রথম থেকে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলা হচ্ছিল৷ কিন্তু সেসব অঙ্গনওয়াড়ির কর্মীরা কানেই তুলত না৷ বাধ্য হয়ে তালা ঝুলিয়েছেন৷ যদিও ওই কেন্দ্রের কর্মী বিজুলি সাহা বলেন, ‘‘আমি সহায়িকাকে জ্বালানী জোগাড় করে রান্না করতে বলেছি৷ তিনি না করায় এই বিপত্তি৷’’

এদিন এক অভিভাবক দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে শতাধিক গ্রামবাসী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে চড়াও হন৷ সেখানে গিয়ে দেখেন, এদিনও খড়ের জ্বালানী দিয়ে মিড ডে মিলের খিচুড়ি রান্না হচ্ছে৷ আর যে পাত্রে খিচুরি রান্না হচ্ছে, তার মুখ খোলা৷ ফলে পুড়ে যাওয়া খড়ের কালো ছাই উড়ে গিয়ে খিচুড়িতে পড়ছে৷

গ্রামবাসীদের কথায়, ‘‘আমরা অনেক আগেই মিড ডে মিলের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। জ্বালানীর নামে যেসব জিনিস ব্যবহার করা হচ্ছে তা অত্যন্ত ক্ষতিকর৷ শিশু, প্রসূতিরা এই খাবার খান৷ এই ঘটনায় অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রের দুই কর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত নিন্দনীয়৷’’

এই কেন্দ্র থেকে ৬২ জন নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পান৷ এই তালিকায় আট জন গর্ভবতী, ১০ জন প্রসূতিও রয়েছেন৷ তাঁদের পুষ্টির নামে কী খাবার দেওয়া হচ্ছে তা জানতে চাওয়া হয়৷ দিলীপ দাস এদিন কেন্দ্র থেকে দেওয়া পুষ্টিকর ভিটামিন পাউডারটি দেখিয়ে দাবি করেন, গত বছর মে মাসে এটির মেয়াদ উত্তীর্ন হয়ে গিয়েছে৷ এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই পাউডার পুষ্টির নামে শিশু ও গর্ভবতীদের খাওয়ানো হচ্ছে৷ অথচ বারবার এ নিয়ে আমরা শিশুবিকাশ কেন্দ্রে অভিযোগ করেও তার প্রতিকার পাইনি৷

তাই এদিন সকালে অঙ্গনওয়ারিকেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়৷ পাশাপাশি এই কেন্দ্রের কর্মী ও সহায়িকাকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান গ্রামের মানুষ৷ দেড় ঘণ্টা আটক থাকার পর সাঁইথিয়া থানার পুলিশের হস্তক্ষেপে সমস্যার প্রাথমিক সমাধান হয়৷ যদিও অঙ্গনওয়ারি কর্মী বিজুলি সাহা বলেন, ‘‘আমাদের খাবারের দ্রব্য পাঠানো হয়৷ ফলে সেটি মেয়াদ উত্তীর্ন কি না তা দেখার কথা দফতরের৷’’ যদিও শিশুবিকাশ দফতরের তরফে এ ব্যাপারে কেউ মুখ খোলেননি৷