শত্রুকে মাত দিতে কোন দুই যুদ্ধবিমানের উপরে ভরসা করছে বায়ু সেনা?

নয়াদিল্লি: ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে নৌবাহিনীর জন্য MiG-29 K ফাইটার জেট তৈরি করবে রাশিয়া। মস্কোর এই সিদ্ধান্ত নরেন্দ্র মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র একটা বড়সড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভারতীয় বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-কে মাথায় রেখে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছে সুইডেনের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘স্যাব’। নিজেদের ‘গ্রিপেন’ যুদ্ধবিমানকে ভারতের বায়ু সেনার হাতে তুলে দিতে চায় তারা৷ তাদের আশ্বাস, ভারতের হাতে যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তির ‘সম্পূর্ণ ক্ষমতা’ দেওয়া হবে।

এবার এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে গ্রিপেন ও মিগের দৌড়ে কে কোথায় দাঁড়িয়ে:

মিগ ফাইটার জেট: গত জানুয়ারি মাসে ৫৭টি মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট কেনার জন্য বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিমান নির্মাণকারী সংস্থার থেকে রিক্যোয়েস্ট ফর ইনফরমেশন চেয়ে পাঠায় ভারত। বর্তমানে, ৬টি যুদ্ধবিমান নৌসেনার চাহিদার যোগ্যতা বিচারের অধীন রয়েছে। সেগুলি হল—রাফায়েল (দাসো, ফ্রান্স), এফ-১৮ সুপার হর্নেট (বোয়িং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), মিগ ২৯-কে (মিগ, রাশিয়া), সাব (গ্রিপেন, সুইডেন), এফ-৩৫বি এবং এফ-৩৫সি (দুটিই লকহিড মার্টিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)। এর মধ্যে রাফাল ও মিগ-২৯কে হল দুই-ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমান, অন্যগুলি এক-ইঞ্জিন বিশিষ্ট। ভারতী নৌসেনার জন্য মিগ-২৯কে হল সবচেয়ে ভাল। ভারতীয় নৌসেনায় ৪৫টি মিগ-২৯কে যুদ্ধবিমান রয়েছে। মিগ-৩৫ এক আসন বিশিষ্ট এবং মিগ-৩৫ডি দু-আসন বিশিষ্ঠ। মিগ-৩৫ হচ্ছে মিগ-২৯এম ২-এর উন্নত ভার্সান৷ যাতে রয়েছে এইএসএ ব়্যাডার৷ ১৬০ কিলোমিটারের মধ্যে শত্রু বিমান শনাক্ত করতে সক্ষম এটি৷ এছাড়া ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে মাটিতে যেকোনও কিছু শনাক্ত করতে পারে এই যুদ্ধবিমান৷ তিনটি বাহ্যিক ইঞ্জিন নিয়ে মোট ৩১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সক্ষম এই বিমান।

- Advertisement -

গ্রিপেন কমব্যাট এয়ারক্রাফট: ২০১১ সালে ভারতীয় বায়ু সেনার আধুনিকীকরণের জন্য ১২৬টি মিডিয়াম মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমএমআরসিএ)-র নির্মাণ ও সরবরাহর বরাত পেয়েছিল স্যাব। নিজেদের ‘গ্রিপেন’ যুদ্ধবিমানকে তারা তুলে ধরেছিল। কিন্তু, চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা দাসো এভিয়েশনের তৈরি ‘রাফালে’-র কাছে তারা হেরে গিয়েছিল৷ এরপরই বায়ু সেনা জানায়, নিজেদের পূর্ণ ক্ষমতায় পৌঁছতে আরও অন্ততপক্ষে ৬টি স্কোয়াড্রন গঠন করতে ১০৮টি রাফায়েল বা সেইমানের কোনও যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন রয়েছে। এতেই এই সুইডিশ সংস্থা স্যাবের সামনে নতুন করে দরজা খোলে বলে মনে করেছ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। জানা গিয়েছে, এদেশে বসে নিজেদের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের ‘গ্রিপেন’ যুদ্ধবিমান তৈরির কারখানা গড়ার প্রস্তাব কেন্দ্রকে দিয়েছে স্যাব। পাশাপাশি, আগামী ১০০ বছরে এদেশের এরোস্পেস (বিমান প্রযুক্তি) ক্ষমতার উন্নয়ন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট (এলসিএ) ‘তেজস’ এবং পরিকল্পনার স্তরে থাকা অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ)-র এর পরবর্তী প্রজন্মের নির্মাণেও সহায়তা করবে তারা। শুধু তাই নয়, সংস্থার তরফে এ-ও জানানো হয়েছে যে, ভারতের হাতে যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তির ‘পূর্ণ ক্ষমতা’ দেওয়া হবে।

Advertisement ---
---
-----