মমতার মন্ত্রী এবার প্লে ব্যাক সিঙ্গার

দেবযানী সরকার, কলকাতা: একসময়ের নামী বক্সার৷ এখন তিনি রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী৷ দক্ষ শ্রমিক নেতা হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট সুনাম আছে৷ এবার এই মানুষটিই গান গাইবেন সিনেমাতে৷ পরিচালক ঈপ্সিতা রায় সরকার ও রাজেশ দত্তের আগামী ছবিতে সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়৷

আপাদমস্তক রাজনীতিক৷ তবে তাঁর রাজনৈতিক কাজকর্মের বাইরেও একটা জগৎ রয়েছে৷ যে জগতে তাঁর অনেক গুন একসঙ্গে পাশাপাশি অবস্থান করে৷ সেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় একাধারে অভিনেতা, কবি, গায়ক আবার পুরোহিত৷ এর মধ্যে তাঁর অনেক গুনপ্রকাশ্যে এলেও গায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে কজন চেনেন? কিন্তু এবার চিনবে৷ পরিচালক ঈপ্সিতা রায় সরকার ও রাজেশ দত্তের আগামী ছবি ‘আবার বসন্ত বিলাপ’-এ তাঁর কন্ঠে একটি গান শোনা যাবে৷ ১৫-২০ দিনের মধ্যেই গানের রেকর্ডিং শুরু হওয়ার কথা৷ এই ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুনমুন সেন। আর ছবিতে এই প্রজন্মের নতুন জুটি হচ্ছেন অনুভব কাঞ্জিলাল ও দেবলীনা।

ছবিতে গান গাওয়ার প্রস্তাব নিয়ে শোভনদেববাবুর বাড়িতে যান ঈপ্সিতা রায়৷ প্লে ব্যাকে রাজি হলেও পরে শোভনদেববাবু জানিয়েছেন, গানের কথা তাঁর পছন্দ হয়নি৷ তাই পরিচালকদের তিনি জানিয়েছেন গানের কথা তাঁর মনের মতো না হলে তিনি গাইবেন না৷ মন্ত্রীর কথায়, ‘একটা কমেডি ছবির গানের কথা কখনও এত শক্ত হয় নাকি? আমি ওদের বলেছি কথা আরও সহজ কর, আরও মজার করে লেখ৷ তাহলেই গাইব৷ পরিচালকরা আমাকে জানিয়েছেন, ওরা আমাকে দিয়েই গাওয়াতে চায়৷ তারজন্য যা করার হয় করবে৷’

মন্ত্রী নিজেও খুশি এই গান গাওয়ার প্রস্তাব পেয়ে৷ শুধু খুশিই নন, উচ্ছ্বসিতও৷ বিনা পারিশ্রমিকেই গান গাইবেন তিনি৷ আবেগপ্রবণ হয়ে শোভনদেববাবু বলেন, ‘আমাদের পরিবারের রক্তে গান আছে৷ আগে রাতে বাবার কাছে শুতাম৷ বাবা খুব ভাল ভজন-কীর্তন গাইতেন৷ আমিও বাবার থেকে গান শিখেছি৷ বহুবছর ধরে মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছি৷ গলা একদম ভেঙে গেছে৷ কবে যে হারমোনিয়াম নিয়ে রেওয়াজ করেছি তা মনে নেই৷ তবে এখনও দোলের দিন পাড়ায় ঘুরে ঘুরে গান গাই৷’
সদাহাস্য মানুষটির কথায়, ‘আমি বক্সিং করেছি, সিরিয়ালে অভিনয় করেছি, নাটকের দল চালিয়েছি, লোহার ব্যবসা করেছি, রাজনীতি করছি, শুধু সিনেমায় গান গাওয়াটা বাকি ছিল৷ সেটাও হতে চলেছে৷’

আলাদা কিছু করার জন্য যাঁরা কাজের চাপ, বয়সের অজুহাত দেন তাঁদের কাছে শোভনদেববাবু জ্বলন্ত উদাহরণ৷ বক্সিং, রাজনীতি, বিধায়ক পদ সামলে রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের গুরুদায়িত্ব পালন করার পর গানের শখ বজায় রাখা তাঁর পক্ষেই সম্ভব৷ বাংলার রাজনীতিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সত্যিই একটি রঙীন বর্ণময় চরিত্র৷

----
-----