পুরোহিতদের সম্মেলনের প্রধান অতিথি সংখ্যালঘু বিধায়ক

দেবযানী সরকার, কলকাতা: সম্প্রীতির নিদর্শন দেখাল পুরোহিতরা ৷ সমাজের তথাকথিত ‘উচ্চবর্ণ’ ব্রাক্ষণ পুরোহিতদের আসরে মধ্যমণি সংখ্যালঘু বিধায়ক ৷ শুক্রবার পুরোহিতদের সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রশিদ ৷ আর পুরোহিতদের এমন অভ্যর্থনায় আপ্লুত এদিন বিধায়ক ৷

পশ্চিমবঙ্গে সংস্কৃত শিক্ষা ও সেই শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত পন্ডিতদেরও যথাযথ মর্যাদার দাবিতে অনেকদিন ধরেই আন্দোলন করছে নিখিল বঙ্গ সংস্কৃত সেবি সমিতি ৷ শুক্রবার হাওড়া সংস্কৃত সাহিত্য সমাজ রামগোপাল মঞ্চে পন্ডিতদের সম্মেলনের আয়োজন করে৷ বিভিন্ন জেলার পুরোহিত ও পন্ডিতরা সেই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন৷ ঘটনাচক্রে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হয়ে যান বীরভূমের হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক মিল্টন রশিদ৷

পুরোহিত ও পন্ডিতদের কাছ থেকে সম্মান পেয়ে ভীষণ খুশি মিল্টন রশিদ৷ তিনি বলেন, “ওরা আমাকে এত সম্মান দিয়েছেন তারজন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ৷ আমি মনে করি আমার এ জন্ম সার্থক৷ একজন মানুষ হিসেবে সকলের সমান অধিকারের জন্য সারাজীবন লড়াই করতে চাই ৷ বিধায়ক হিসেবে আমি পুরোহিত ও পন্ডিতদের ভাতার জন্য লড়ব৷ শুধু তাই নয়, সংস্কৃত ভাষাকেও যাতে মর্যাদা দেওয়া হয় সেটাও বিধানসভায় তুলে ধরব৷ প্রত্যেক জেলায় সংস্কৃত কলেজ ও প্রত্যেক শ্রেনীতে পঠন-পাঠন যাতে হয় তার জন্যও আমি লড়াই করব৷”

- Advertisement DFP -

নিখিল বঙ্গ সংস্কৃত সেবি সমিতির রাজ্য কমিটির এক সদস্য সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের রাজ্যে ২৯৪জন বিধায়কের মধ্যে অধিকাংশই হিন্দু৷ কিন্তু কেউ কোনওদিন বিধানসভায় আমাদের হয়ে কথা বলেননি ৷ আমাদের জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেননি ৷ কিন্তু একজন সংখ্যালঘু বিধায়ক হয়ে তিনি আমাদের জন্য বিধানসভায় সরব হয়েছেন৷ গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাস্তাতেও নেমেছেন৷ তাই ওকে আমরা আমাদের কাছের মানুষ মনে করি৷”

মিল্টন রশিদ ছাড়াও এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলর শাম্মী জাহানকেও।

Advertisement
----
-----