ছবি-মিতুল দাস

কলকাতা  ‘এটাই আমাদের লোকাল গ্র্যামি’- বললেন চন্দ্রাণী৷ বাংলা গানের ভরা সংসার হাততালি দিয়ে জানাল এই বিশেষণ সকলের কতটা মনে ধরেছে৷ আসর বসেছিল মির্চি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের চতুর্থ বছরের খুঁটিনাটি ঘোষণাকে করতে৷ পরিচালনার চেয়ার ছেড়ে তাই সঞ্চালনার মাইক্রোফোন হাতে তুলে নিয়েছিলেন সুদেষ্ণা রায়৷ জুরি হয়ে তাঁর আশেপাশে তখন উপস্থিত কল্যাণ সেন বরাট, পণ্ডিত দেবজ্যেতি বোস থেকে শুরু করে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, সুরজিৎ, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র থেকে শুরু করে চন্দ্রাণী, পরমা সকলেই৷ জুরিদের থেকে সঞ্চালিকা জানতে চান বছরভরের বাংলা গান শুনতে শুনতে আর নম্বর দিতে দিতে কার কী অনুভূতি হল৷ আর সেখানেই একে একে সকলের কথাতে উঠে এল এই অ্য্যওয়ার্ড বাংলা গানের জগতে কতটা প্রতীক্ষার৷

আসলে বাংলা গানের সংসারে সমৃদ্ধি কম নেই কোনওকালেই৷ তবে খামতি ছিল স্বীকৃতির৷ সুরজিৎ যেমন তাই আক্ষেপ করে বললেন, ‘বাংলা গানের আর তো কোনও অ্যাওয়ার্ড নেই৷’ একই সুর গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের কথাতেও৷ বললেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে একমাত্র অ্যাওয়ার্ড, যেখানে বাংলা গেনর উপর সঠিক ফোকাস করা হয়৷’ বাংলা গানের ভুবনে সেরাদের সম্মান জানাতে বছর চারেক আগে এগিয়ে এসেছিল রেডিও মির্চি৷ মির্চি মিউজিক অ্যাওয়ার্ড বাংলা গানের দুনিয়ায় তাই ভালোবাসার৷  অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় তাই বললেন, ‘বাংলা গানের জগতে এটা আমাদের অ্যানুয়াল ইভেন্ট৷ শুধু গানের জন্য এরকম একটা পুরস্কারের আয়োজন, আমাদের জন্য বিরাট পাওয়া৷’

Advertisement

এবার নমিনেশনে ছিল প্রায় ১৫৩১ টি গান৷ এর মধ্যে ছায়াছবির গানের সংখ্যা ছিল ৩৯৭ টি৷ ব্যান্ডের গান ১১০টি ও বাংলা আধুনিক গান ৩৩৬টি৷ বিভিন্ন ক্যাটেগোরিতে ভাগ করে বিচারকরা গান শুনেছেন মার্কিং করেছেন৷ গান শোনার এই প্রক্রিয়া চলেছে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে৷ সিধু যেমন বললেন, ‘সাগরে গেলেও গাড়িতে সর্বক্ষণ এই গান শুনতে শুনতে গেছি৷’ আবার কল্যাণ সেন বরাট জালালেন, ‘গান শোনাটা একটা অভ্যাসের মতো হয়ে গিয়েছিল৷ নানারকমের গান শোনা হয়েছে এই পর্বে৷ এখন এই গানগুলো না শোনা হলেও, গান শোমার রেওয়াজটা জারি আছে৷’ প্রতিষ্ঠিত গায়কদের পাশাপাশি নবাগত প্রতিভাদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হবে এই মঞ্চে৷ এছাড়া আনসাং হিরোদেরও দেওয়া হবে বিশেষ সম্মান৷ এভাবেই গানের জগতের অজানা, না শোনাকেও তুলে আনা এই অ্যাওয়ার্ডের এই বৈশিষ্ট৷ তারই প্রশংসা  শোনা গেল সৌমিত্রের গলায়৷ পরমা যেমন বললেন, ‘ছবির গান যেমন ছবির প্রয়োজনে অনেক সময় বাদ পড়ে যায়৷ এখানে অন্তত সেই সমস্যা নেই৷ ছবির গানেরও ঠিকঠাক রেকগনিশন হয়৷’

নানা দিক থেকে, নানা প্রেক্ষিতে তাই বাংলা গানের ভুবনে গুরুত্বপূর্ণ এই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড৷ তবে এ ঘোষণা তো ট্রেলর মাত্র৷ আসল পিকচারের জন্য অপেক্ষা ১৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত৷ নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে এই অনুষ্ঠান৷

----
--