স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘‘দুর্নীতিগ্রস্ত কেন্দ্র৷ আগে দিল্লি সামলাক, তারপর বাংলার স্বপ্ন দেখবে ওঁরা’’৷ বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

লোকসভা ভোটে এরাজ্যে থেকে বড় সাফল্যের আশায় গেরুয়া শিবির। ১৯ রাজ্যের পর ২০১৯-এ এবার তাই বিজেপির লক্ষ্য বাংলা জয়ের৷ দুদিনের রাজ্য সফরে এসে লোকসভা ভোটে এরাজ্যে ৫০ শতাংশ আসন দখলের লক্ষ্যমাত্রাই বেঁধে দেন অমিত শাহ।

এদিন অমিত শাহ জানান, ‘‘২০১৯-এ মমতার ঘুম ছুটিয়ে দেব, পায়ের তলার জমি কেড়ে নেব’’৷ এরই পালটা হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন জানান, ‘‘শুকনো কলসি বাজে বেশি৷ মূর্খের স্বর্গে বাস করছে বিজেপি৷ এখানে ধর্মের ভিত্তিতে সমাজ ভাগ হয় না৷ এখানকার মানুষ উন্নয়ন ও সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের রথ কেউ থামাতে পারবে না৷’’

পড়ুন: রাজ্যের দিকে দিকে রথযাত্রা করবে বিজেপি

বৃহস্পতিবার তারাপীঠে পুজো দিয়ে পুরুলিয়া যান অমিত শাহ৷ পুরুলিয়ার সভায় তৃণমূলকে একহাত নেন তিনি৷ অমিত শাহ সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে এদিন জানান, ‘‘হিংসা বাংলার সংস্কৃতি নয় ৷ এখন বাংলায় বোমা-গুলির শব্দ শোনায় তৃণমূল ৷ সন্ত্রাস করে বেশিদিন সরকারে থাকা যাবে না ৷’’

তাঁর আরও দাবি, ‘‘পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়নে বাধা দেওয়া হয় ৷ মানুষকে ভোট দিতেও বাধা দেয় তৃণমূল ৷ আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে ৷ ভোটে ২০ জন বিজেপি কর্মী নিহত হয়েছে ৷’’ যদিও অমিতের এই দাবি খারিজ করেছেন তৃণমূল সচিব৷ তাঁর পালটা দাবি, ‘‘ভোট দিতে না পারলে মহেশতলায় ভোট হল কি করে? ৫০ শতাংশর বেশি ভোটে আমরা জিতছি৷ যত ভোট হচ্ছে ততই তৃণমূলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে৷ এসব মিথ্যা প্রচার করে কোনও লাভ নেই’’৷

তবে মমতা বন্দ‍্যোপাধ্যায় যে বিজেপির চিন্তার প্রধান কারণ তা কিন্তু এদিন বুঝিয়ে দেন অমিত শাহ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়ে বার বার মোদি সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়েছেন। তাই মমতার মহাজোট তৎপরতাকে কটাক্ষ করে পুরুলিয়ার সভা থেকে অমিত শাহের হুঁশিয়ারি, ‘‘দিল্লিতে মহাজোট করতে যাচ্ছেন ৷ আগে বাংলা সামলান। পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে’’। অন্যদিকে অমিত শাহকে পাল্টা কটাক্ষ করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ৷ তিনি বলেন দুর্নীতিগ্রস্ত কেন্দ্র। আগে দিল্লির সরকার বাঁচাক বিজেপি।

কেউ বলে দিল্লি সামলান, তো কারও হুঙ্কার বাংলা সামলান৷ একে অপরকে কটাক্ষ করতে একইঞ্চিও জমি ছাড়েনি কেউ৷ তবে টার্গেট যে ২০১৯-এর লোকসভা ভোট তা বুঝতে বাকি নেই কারর৷ এই তরজার অবসান করতে তাই ২০১৯-কেই পাখির চোখ করছে রাজনৈতিক মহল৷

----
--