নয়াদিল্লি: সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে ভোট রাজনীতির খেলায় মেতেছে মোদী সরকার৷ এমনটাই অভিযোগ কংগ্রেসের৷ বুধবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে কিছু ভিডিও প্রকাশ্যে আসে৷ তারপরই চাঁচাছোলা ভাষায় মোদী সরকারের সমালোচনা করেন কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা৷ বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘‘মোদী সরকার জয় জওয়ান জয় কিষাণ স্লোগানকে ভিত্তিহীন করে দিচ্ছে৷ সার্জিক্যাল স্ট্রাইককে হাতিয়ার করে ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করছে৷’’

এখানেই না থেমে মোদী সরকারকে রণদীপের কটাক্ষ, সরকার এমন ভাব করছে যেন তাদের আমলেই সেনা অভিযান হয়েছে৷ অতীতে কখনও হয়নি৷ বাজপেয়ী ও মনমোহন জমানার প্রসঙ্গ তুলে মোদীকে খোঁচা মেরে তিনি বলেন, ‘‘অটল বিহারী বাজপেয়ী বা মনমোহন সিংয়ের আমলেও অনেক সেনা অভিযান হয়েছিল৷ তাঁরা কী কখনও সেই অভিযান নিয়ে কৃতিত্ব দাবি করেছে? কখনও করেননি৷ ভারতীয় জওয়ানরা অতীতেও দেশকে গর্বিত করেছে৷’’

Advertisement

নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি জানান, যখনই তাঁরা হারতে বসেন তখনই তাঁরা সেনার বীরত্ব ও সাহসিকতাকে হাতিয়ার করে সেখান থেকে ফায়দা তোলে৷ বুধবার রাতে দু’বছর আগে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সেই রাতের কিছু ভিডিও ফুটেজ সামনে আসে৷

২০১৬-র ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রবেশ করে ভারতীয় সেনা৷ গোপনে খবর আসে, সীমান্তের ওপারেই লুকিয়ে জঙ্গিরা৷ যে কোনও সময় ঢুকে করতে পারে ভারতে৷ দেরি না করে, পাকিস্তানের ঘরে ঢুকেই জঙ্গিদের সমূলে উৎপাটন করা হয়৷ কমান্ডোদের হেলমেটে থাকা ক্যামেরা ও ড্রোণ ক্যামেরায় ওঠে সেই গোপন হামলার ভিডিও৷ উরি হামলায় ১৭ সেনার শহিদের পরই সার্জিকাল স্ট্রাইকের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী৷

সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই আসরে নামে কংগ্রেস৷ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিতে কথা বলতেই উঠে আসে কাশ্মীর প্রসঙ্গ৷ রণদীপ সুরজেওয়ালা জানান, কাশ্মীরে সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার৷ ডোকলাম পরবর্তী সময়ে সেনার আধুনিকীকরণে এক পয়সাও ব্যয় করেনি সরকার৷ রিপোর্ট বলছে ৬৮ শতাংশ অস্ত্র পুরানো ও ব্যবহারের অযোগ্য৷ সেনাদের খাবর সরবরাহ করা বন্ধ করে দিয়েছে৷ আর জওয়ানদের বীরত্বকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে৷

----
--