উচ্চবর্ণের জন্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ, বড় ঘোষণা মোদী সরকারের

নয়াদিল্লি: উচ্চবর্ণের জন্য এবার সংরক্ষণ চাকরিতে। ১০ শতাংশ সংরক্ষিত থাকবে আসন। সোমবার এই প্রস্তাবে অনুমোদন দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

লোকসভার আগে এই ঘোষণা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া উচ্চবর্ণের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই সংরক্ষণ থাকবে।

তবে শুধুমাত্র সরকারি চাকরি নয়, সংবাদসংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই সংরক্ষণ কার্যকরী হবে। জানা যাচ্ছে, আট লক্ষের কম রোজগার আছে, এমন নাগরিকরাই এই সুবিধা পাবেন। মঙ্গলবার লোকসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ করা হবে।

প্রতীকী ছবি
- Advertisement -

সম্প্রতি পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলাফলে যে ছবি উঠে এসেছে, তাতে কিছুটা হলেও চিন্তায় গেরুয়া শিবির। তাই বিশেষজ্ঞমহলের মতে, সাধারণ মানুষকে একটা কোনও চমক দিতেই হত মোদী সরকারকে। সেইজন্যই হয়ত তড়িঘড়ি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

লোকসভা নির্বাচনের আগে যখন বেকারত্বের প্রশ্ন সামনে আসছে বারবার। তখনই সরকারের এই সিদ্ধান্ত।

এছাড়া, সম্প্রতি মোদী সরকার শুরু করছে বিশেষ ‘অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’ প্রোগ্রাম। ২০১৯ থেকেই সেই প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা। বিশেষত ‘হিউম্যানিটিস’- ও এই ধরনের বিষয়ে যারা পড়াশোনা করছেন তাঁদের এই সুযোগ দেওয়া হবে। সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা এই সুযোগ পাবে। এই বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নিলে তারা পড়াশোনা শেষে সহজেই চাকরি পেতে পারে।

ডিগ্রি কোর্সের শেষ বছরে ছাত্রছাত্রীরা এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন। ৬ থেকে ১০ মাসের এই বিশেষ কোর্স করানো হবে। এর জন্য সরকারের তরফে স্টাইপেন দেওয়া হবে। বিভিন্ন সংস্থা থেকে এই ট্রেনিং প্রোগ্রাম করানো হবে।

সাধারণত যেসব ছাত্রছাত্রীরা টেকনিক্যাল কোর্সের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাদের পক্ষে চাকরি পাওয়া সহজ হয়। কিন্তু নন-টেকনিক্যাল ডিগ্রি অর্থাৎ ইতিহাস, সমাজবিদ্যার মত বিষয়ে পড়াশোনা করলে সব ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়া সহজ হয় না। তাই তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ কোর্স করানো হচ্ছে। এই কোর্স করলে আগামিদিনে তারা কী ধরনের কাজ পেতে পারে, সেটাও অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

এই প্রোগ্রামে উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই মানব সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রক ও শ্রম মন্ত্রকের মধ্যে এই বিষয়ে বৈঠক হয়ে গিয়েছে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে অন্তত ১০ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে এই প্রোগ্রামের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

‘ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোমোশন স্কিম’-এর জন্য ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে সরকারের।