পূর্বসূরীর থেকে শিক্ষা নিয়ে গ্রামীণ ভারতে বিনিয়োগ মোদীর

সৌমিক কর্মকার: অতীত থেকেই শিক্ষা নিতে হয়৷ অতীতের ভুলত্রুটিগুলিকে শুধরে নিয়ে সুরক্ষিত করতে হয় ভবিষ্যৎকে৷ জীবনের সাফল্য পাওয়ার উপায় বাতলাতে গিয়ে দার্শনিক এই কথাগুলি অনেকেই বলে থাকেন৷ এবার ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট দেখে এই কথাগুলিই বলছেন কেউ কেউ৷

আরও পড়ুন: মোদীর বাজেটে সবচেয়ে বেশি লাভ কি দিদির?

কেন উঠছে এই কথাগুলি? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৪ বছর আগে৷ ২০০৪ সালে৷ ওই বছরই ভারতের ইতিহাসে কোনও অকংগ্রেসী সরকার পূর্ণমেয়াদ শেষ করেছিল৷ কিন্তু ওই পর্যন্তই৷ পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়েছিল প্রথম এনডিএ সরকার৷ প্রায় ছ’মাস নির্বাচন এগিয়ে এনেও লাভ হয়নি বিজেপির৷ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ভারত উদয়ের স্লোগানের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন ভারতবাসী৷

- Advertisement -

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, শহুরে ভারত আর গ্রামীণ ভারতের মধ্যে আকাশপাতাল তফাৎ৷ শহুরে ভারতের জন্য ভারত উদয় বা ইন্ডিয়া সাইনিং হয়তো ভাল ছিল, কিন্তু গ্রামীণ ভারতের জন্য ওই স্লোগান মোটেও কার্যকরী হয়নি৷ আর গ্রামীণ ভারতের আয়তন সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সেবার কংগ্রেসের কাছে ক্ষমতাচ্যূত হতে হয়েছে৷

আরও পড়ুন: বাংলার দূষিত মাটিতে আর মণীষী জন্মাচ্ছে না

সম্ভবত সেই হারের কথা মাথায় রেখে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ আর তাই ২০১৯-এর ভোটে জিততে তিনি গ্রামীণ ভারতের উপরই বাজি ধরেছেন৷ কারণ, এবারই ছিল মোদী সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট৷ তাছাড়া বাজেট অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতির ভাষণে ভোট এগিয়ে আনার ইঙ্গিত রয়েছে৷ চলতি বছরের শেষের দিকে এই ভোট হবে বলেও জল্পনা চলছে৷

অর্থনীতিবিদ তথা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা আশিস সরকারের মতে, তাঁদের সরকার দেশের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কাজ করতে চায়৷ দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ গ্রামীণ অর্থনীতির উপর নির্ভরশীল৷ তাই তাঁদের ভাল করাই মোদী সরকারের একমাত্র লক্ষ্য বলেই মনে করছেন আশিসবাবু৷ সেই কারণেই এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোর দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানাচ্ছেন৷ এর সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই তাঁর মত৷ তাঁর কথায়, ‘‘সবকাজই কি ভোটের দিকে তাকিয়ে করব?’’

আরও পড়ুন: বিজেপিকে ঘায়েল করতে মমতার ১০ শক্তিশেল

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অবশ্য ভিন্নমত প্রকাশ করছেন৷ তাঁদের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার কথা এবারের বাজেটে বারবার বলা হয়েছে৷ বেতনভুক বা ব্যবসায়ীদের প্রতি এবারের বাজেট সেভাবে দরাজ হয়নি৷ বরং ‘আয়ুষ্মান ভারত’ নামে গ্রামীণ ভারতের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে৷ বাঁশ চাষে উৎসাহ দিতে আনা হচ্ছে ন্যাশনাল বাম্বু মিশন৷ জৈব সার তৈরিতে গোবর-ধন প্রকল্পের প্রস্তাব রাখা হয়েছে৷ কৃষির উন্নতিতে একাধিক প্রস্তাব বাজেটে রাখা হয়েছে৷

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী এক বছরের মধ্যে এই প্রকল্পগুলিকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে, গ্রামীণ ভারত থেকে ভোটের ঝুলি সহজেই ভরিয়ে নিতে পারবেন নরেন্দ্র মোদী৷ তাহলে তিনি তাঁর পূর্বসূরী অটলবিহারী বাজপেয়ীর রেকর্ড ভেঙে প্রথম অকংগ্রেসী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরপর দু’বার ক্ষমতায় থাকতে পারবেন৷

আরও পড়ুন: গেরুয়া মোকাবিলায় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়েই ভরসা মমতার

কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের এই যুক্তি মানতে নারাজ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা আশিস সরকার৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের কাছে দেশ ও দেশের জনগণই প্রথম৷ আমাদের রাজনীতি দেশের সবার জন্য৷’’ তাই ভাল কাজ করার পর ভোটের ময়দানে কী ফল হবে, তা সাধারণ মানুষের হাতেই ছাড়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি৷ ভারত উদয় বা ইন্ডিয়া সাইনিং ব্যর্থ ছিল বলে মানতে নারাজ আশিসবাবু৷ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘অনেক সময় ভাল পরীক্ষা দিয়েও তো খারাপ নম্বর আসে৷’’

তাই এখন দেখার ভারত উদয়ের পরীক্ষায় অটলবিহারী বাজপেয়ী খারাপ ফল করলেও নরেন্দ্র মোদীর গ্রামীণ ভারতের উপর বিনিয়োগ সাফল্যের মুখ দেখে কি না!

আরও পড়ুন: বিজেপির বিরোধিতায় বৈঠকে কংগ্রেসসহ ১৭ দল

Advertisement
---