‘মোদী এ দেশের বাপ’

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামের আগে জুড়ল আরও একটি বিশেষণ৷ এবার তাঁকে সরাসরি ভারতের বাবা বলে দাবি করলেন বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র৷ গুজরাত ভোট চলাকালীন এক টিভি বিতর্ক শোয়ে অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি করেন৷

শনিবার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়৷ যথারীতি দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক৷ সুযোগ বুঝে আসরে নেমে পড়েছে কংগ্রেসও৷ এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিজেপির ওই নেতা আসলে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকেই অপমান করেছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়৷ কংগ্রেসের স্পষ্ট দাবি, বিজেপিকে এর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে৷ সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়ে যায় ট্রোল৷ অনেকেই পোস্ট করেন যে, মোদী তাদের বাবা নন৷ এছাড়াও আরও ব্যঙ্গ ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, #BJPInsultsBapu.

আরও পড়ুন: সাইবার আক্রমণ গণতন্ত্রের পক্ষে যথেষ্ট ভয়ের বিষয় : নরেন্দ্র মোদী

এমনিতেই গুজরাত বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ঘুম উড়েছে বিজেপির৷ ২২ বছরের সরকার এবারও টিকিয়ে রাখতে মরিয়া মোদী-অমিতরা৷ প্রচার থেকে শুরু করে সবকিছুতেই জোর দেওয়া হয়েছে৷ তাই গোটা দেশের মিডিয়ার নজরও এখন গুজরাত ভোটে৷ বিভিন্ন বৈদ্যুতিন মাধ্যমে নিয়মিত এ নিয়ে বিতর্ক শোয়ের আয়োজনও করা হচ্ছে৷ তেমনই একটি শোয়ে সম্প্রতি হাজির হয়েছিলেন বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র৷ তাঁর উল্টোদিকে ছিলেন বাম ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমার৷

কথা বলতে বলতে ওই দুই নেতা বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন৷ সেই সময় সম্বিত বলে ফেলেন, ‘‘এই দেশের বাপ মোদী৷’’ আর এই মন্তব্য ঘিরে সঙ্গে সঙ্গে বিতর্ক শুরু হয়ে যায়৷কারণ, ভারতবাসী জাতির জনক বলতে একজনকেই বোঝে৷ তিনি মহাত্মা গান্ধী৷ নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন সময় মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে নিজের শ্রদ্ধা জানিয়েছে৷ স্বচ্ছভারত মিশনের প্রচার বাপুকে সামনে রেখেই হচ্ছে৷ ফলে মোদী ও বাপুকে এক পংক্তিতে বসিয়ে দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি৷ যদিও শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিজেপির তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷

আরও পড়ুন: হিন্দু নন নরেন্দ্র মোদী: কপিল সিব্বল

প্রসঙ্গত, নরেন্দ্র মোদী নানা সময় নানা বিশেষণ দেওয়া হয়েছে৷ তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর তাঁকে বলা ‘মওত কা সওদাগর’৷ ২০০৭ গুজরাত বিধানসভা ভোটের সময় সোনিয়ার বলা সেই মন্তব্যের লাভ সম্পূর্ণভাবে তুলেছিল বিজেপি৷ ফলে কয়েকদিন আগে যখন কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আইয়ার মোদীকে ‘ছোটলোক’ বলে কটাক্ষ করল, তখন বিজেপি সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনায় সরব হয়েছিল৷ মনে করা হচ্ছিল, এই মন্তব্যের সুফল গুজরাত ভোটে সুদে আসলে তুলে নেবে৷ কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা রীতিমতো পণ্ড করে দিলেন সম্বিত৷ গুজরাতের ঘরের লোক বাপুকে জড়িয়ে সম্বিতের এই মন্তব্য যে বিজেপিকে বিপদে ফেলতে পারে, সেই আশঙ্কা ইতিমধ্যে করতে শুরু করেছে৷ ফলে তারা এই বিষয়ে এখন থেকেই সাবধানী৷

আরও পড়ুন: ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আবেদন নরেন্দ্র মোদীর

কিন্তু তাতে কী? কংগ্রেস এখনই চাইছে বিজেপি ক্ষমা চেয়ে নিক৷ ব্যবস্থা নিক সম্বিতের বিরুদ্ধে৷ কারণ, মণিশঙ্কর আইয়ারকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করেছে কংগ্রেস৷

----
-----