‘এত ভয় কীসের?’ বিরোধী তিন রাজ্যকে তোপ প্রধানমন্ত্রীর

নয়াদিল্লি: রাজ্যকে না জানিয়ে সিবিআই তদন্ত ও তল্লাশি করা যাবে না রাজ্যে৷ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অন্ধ্র, বাংলা ও ছত্তিশগড় সরকার৷৷ বিরোধী শাসিত এই তিন রাজ্যে সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদী৷ দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি৷ জানতে চান কেন হঠাৎ এই পদক্ষেপ? দোষ না করলে সিবিআইয়ের এই তল্লাশি নিয়ে কীসের ভয়?

আরও পড়ুন: নয়ে নয়, সাত দফায় ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে মোদী-রাহুলের

তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে জেহাদ নয়, বিরোধী এই তিন রাজ্যের পদক্ষেপকে আসলে তদন্ত রুখে দুর্নীতি চাপার কৌশল বলেই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী৷ টিডিপি, তৃণমূল ও কংগ্রেস নিশানা করতে এদিন মোদী মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলেন৷ জানান, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় কংগ্রেস তাঁকে নানাভাবে হেনস্থার চেষ্টা করে সিবিআইকে ব্যবহার করে৷ তুলে ধরেন সেই সময় কংগ্রেসের এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথা৷

- Advertisement -

জানান সেই মন্ত্রী নাকি গুজরাতে গিয়ে বারংবার ভবিষ্যতবাণী করে বলেন মোদীর জেলে যাওয়া কার্যত সময়ের অপেক্ষা মাত্র৷ কিন্তু গুজরাত সরকার কোনও ভুল না করায় কোনও প্রভাব পড়েনি৷ ভোটেও কোনও হেরফের হয়নি৷ তাঁর প্রশ্ন কেন তবে বর্তমানে ওই তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা ভয় পাচ্ছেন?

আরও পড়ুন: মুকুলের আশঙ্কাই সত্যি, দলত্যাগী সৌমিত্রর বিরুদ্ধে মামলা

এদিন প্রধানমন্ত্রীর কথায় বারবার দেশের, কথা উঠে আসে৷ আইনের উর্ধ্বে দেশের কেউ নয় বলে মনে করেন তিনি৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে দেশ৷ তাই দেশের আইনকে সম্মান দেয় বিজেপি৷ তিনি বলেন, একটি মামলায় সিটের তদন্তে ডিস্ট্রিক্ট স্তরের পুলিশেরও মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ প্রায় ছ’ঘন্টা চলে জিজ্ঞাসাবাদ৷ ’এরপরও বিষয়টি নিয়ে কোনও কথা বলা হয়নি গেরুয়া শিবিরের তরফে৷

বিরোধীদের কিছুটা হুঁশিয়ারি দিয়েই মোদী বলেন, ‘দোষ না করলে নিয়মে বদলের প্রয়োজন পরে না৷ আমরাও রাজ্যে সিবিআইকে আটকানোর নিয়ম জানতাম৷ কিন্তু তা প্রয়োগ করিনি৷’ তুলনা টেনেই এদিন বিজেপি ও বিরোধী রাজ্য সরকারগুলির স্বরূপ প্রকাশ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী৷

আরও পড়ুন: ভাইরাল ভিডিও: রাহুল-মোদীর রাফায়েল চুক্তির পার্থক্য বোঝাল আট বছরের মেয়ে

উল্লেখ্য, বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন সংস্থাকে নিজেদের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে বিজেপি৷ সিবিআই, ইডি সহ নানা সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ মিথ্যে অভিযোগ তুলে তাদের ফাঁসানো হচ্ছে৷ রাজনৈতিকভাবে এর বিরুদ্দে আন্দোলনে তৃণমূল সব অন্যান্য বিরোধীরা৷ কিন্তু তাতেই থেমে না থেকে প্রশাসনিক পদক্ষেপে তৎপর বিরোধী পরিচালিত রাজ্যগুলি৷

এক্ষেত্রে পথ দেখিয়েছিলেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু৷ সেই পথের পথিক শরিক হন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী৷ সদ্য সেই তালিকায় নাম তুলেছে কংগ্রেস শাসিত ছত্তিশগড়ের বাঘেল সরকার৷ রাজ্যে তদন্ত ও তল্লাশির ক্ষেত্রে সিবিআইকে দেওয়া অনুমতি বাতিল করে দিয়েছে এই তিন রাজ্য৷ ফলে এখন থেকে আর রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া অন্ধ্র, বাংলা ও ছত্তিশগড়ে তল্লাশি চালাতে পারবে না কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারীকরা৷

আরও পড়ুন: মায়াবতী-অখিলেশ জোটকে স্বাগত জানালেন মমতা

ইস্যু সিবিআই৷ তা নিয়েই শাসক বিরোধী তরজা৷ আসন্ন লোকসভা ভোটের প্রচারে বিষয়টি যে উভয় শিবিরের কাছেই হাতিয়ার হতে চলেছে তা স্পষ্ট৷