দেবময় ঘোষ ও দেবযানী সরকার, কলকাতা: দিদি আর তার উন্নয়নমূলক কাজ ছাড়া বাংলা কিছুই ভাবতে পারেনা৷ যাত্রাপথের প্রতি দু-পা অন্তর একথাটাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বোঝাতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ সেকারণেই কলাইকুন্ডা বিমানঘাটি থেকে মেদিনীপুর শহর- প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা মুড়ে ফেলা হয়েছে তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে৷মোদীর যাত্রাপথের শোভা বাড়াতে দিদির সাত বছরের উন্নয়নের খতিয়ানও রাস্তার ধারে সারিবদ্ধ করা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন- স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক সমকামিতা: মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড

সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ মেদিনীপুরে সভা করবেন তিনি৷ তাঁর ভোট ব্যাঙ্কের প্রধান টার্গেট গ্রাম-গরিব-কিষাণ৷ কিন্তু সেই টার্গেটে পৌঁছনোর আগেই মোদীকে সজোড়ে ধাক্কা দিতে চায় জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব৷ তাই তাঁর সফরের আগে গোটা মেদিনীপুরকে ‘মমতাময়’ করে তুলেছে তারা৷ রাস্তার দু-ধারে দু-তিন পা অন্তর থাকছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাইফ-সাইজ কাট-আউট৷ হাত জোড় করা সেই ছবি দেখে মনে হবে পিসি-ভাইপো একসঙ্গে যেন প্রধানমন্ত্রীকেই স্বাগত জানাচ্ছেন৷

স্থানীয় তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এটা ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি৷তবে প্রধানমন্ত্রীর এরাজ্যে আগমণের খবর পেয়ে সেই প্রস্তুতি একটু আগেই সেড়ে ফেলেছে তারা৷ মেদিনীপুর শহরে প্রায় ৭৫ হাজার ছোট-বড় লাইফ-সাইজ কাট-আউট লাগানো হয়েছে৷ এছাড়াও থাকছে হাজার হাজার উন্নয়নের খতিয়ান৷ রাজ্যের কৃষকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী করেছেন সেসব তো থাকছেই সেইসঙ্গে, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবশ্রী, সবুজ সাথী সহ সমস্ত প্রকল্পের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে৷ এসব দেখতে দেখতেই সভাস্থলে পৌঁছে যাবে মোদী৷

আরও পড়ুন- শরিয়ত আদালত নিয়ে অবস্থান বদল মুসলিম ল বোর্ডের

কয়েকদিন আগে এরাজ্যে এসে পুরুলিয়া সফরে গিয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ তাঁর সফরেও মমতার ছবিতে ঢেকে গিয়েছিল পুরুলিয়া৷পরে সেটাকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি মোদীর এই ডানহাত৷ জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত বলেছিলেন, ”আমাকে দেখানোর জন্যই মমতাজি এইসব করেছেন।” কিন্তু তারপরও বিজেপিকে চাপে রাখতে মোদীর সফরে তার তিন গুন কাট আউট লাগানো হয়েছে৷

জেলার কার্যকরী সভাপতি নির্মল ঘোষের বক্তব্য, “ঝাড়খন্ড, বিহার, ওডিশা থেকে রাজ্য মোদীর সমর্থকরা এসেছেন৷ আমরা আটকালে আটকাতে পারতাম৷ কিন্তু ওদের আটকাইনি৷ কারণ ওরা এসেছে বলেই মাঠে ত্রিশ হাজার লোক হবে৷নয়তো দশ হাজারও হত না৷ কলেজ মাঠে একলাখ লোক ধরে৷”

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এদিনই রাহুল সিনহা বিজেপি কর্মীদের আটকানোর অভিযোগ করেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷

----
--