কলকাতা: ‘কাহাথা না, কারারা জবাব মিলেগা’। আটবছর পর মোহনবাগানের লিগ জয়ে যেন গ্যালারির আপ্তবাক্য হয়ে রইল এটাই। লাল-হলুদের অশ্বমেধের ঘোড়া থামিয়ে দীর্ঘ আটবছর পর ফের কলকাতা লিগের রঙ সবুজ-মেরুন। মঙ্গলবার মিনি ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের হারে কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাগানের লিগ জয়। বুধবার কাস্টমসকে হারিয়ে সেই জয়ে সিলমোহর দিলেন মোহনবাগান ফুটবলাররা। কাস্টমসকে ২-০ হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই আটবছর পর কলকাতা লিগ জয় নিশ্চিত হল মোহনবাগানের। বাগানের হয়ে জোড়া গোল হেনরি কিসেকার।

আরও পড়ুন: ট্রফি জয়ে ‘পুত্রসন্তান’ লাভের আনন্দ টুটুর

২০০৯ শেষবার সংগ্রাম মুখার্জির নেতৃত্বে কলকাতা লিগ লেখা হয়েছিল সবুজ মেরুনের নামে। এরপর টানা আটবছর ট্রফি জয়ের স্বাদ ছিল অধরা। গত মরসুমে তীরে এসেও ডুবেছিল তরী। একই পয়েন্ট সংগ্রহ করেও স্রেফ গোলপার্থক্যের নিরীখে লিগ হাতছাড়া করতে হয়েছিল চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের কাছে। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। কাস্টমসকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই লিগ জয় নিশ্চিত করল মোহনবাগান।

আরও পড়ুন: প্রয়াত দুই প্রধানে খেলা ফুটবলার

লিগ জয় নিশ্চিত করতে এদিন শুরুতেই গোল তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বাগান কোচ শংকরলাল চক্রবর্তী। কোচের কথা যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন ফুটবলাররা। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই গোল তুলে নিয়ে বাগানকে এগিয়ে দেন হেনরি কিসেকা। অরিজিৎ বাগুইয়ের ক্রস নিজের দখলে নিয়ে দুরন্ত কোনাকুনি শটে কাস্টমস গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন উগান্ডান স্ট্রাইকার।

আরও পড়ুন: ইস্টবেঙ্গলের হারে কার্যত চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান

এরপর আহামরি ফুটবল না খেললেও বাগানের খেলায় লিগ জয়ের খিদে ছিল স্পষ্ট। ডানদিক থেকে হেনরি, ডিকাদের উদ্দেশ্যে একের পর এক বল বাড়িয়ে গেলেন অরিজিৎ বাগুই। বড় ম্যাচে বাগানের দুটি গোলের পিছনেও ছিল তাঁরই অবদান। একাধিক সুযোগ নষ্ট করলেও প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে কিসেকার দ্বিতীয় গোলের পিছনে অবদান রাখলেন ডিকা। দুই ডিফেন্ডারের মধ্যে দিয়ে তাঁর ফরোয়ার্ড পাস গোলে রাখতে ভুল করেননি হেনরি। ওখানেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় বাগানের ৩০ তম লিগ জয়।

আরও পড়ুন: ফের ভারতে বসতে চলছে বিশ্বকাপের আসর

বিরতির পর পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করে কাস্টমস ফুটবলাররা। কিন্তু বাগান গোলরক্ষক শংকরকে পেরিয়ে ডেডলক খুলতে পারেনি তারা। অন্যদিকে বিক্ষিপ্ত আক্রমণে গোলের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে মোহনবাগানও। ৫৮ মিনিটে আজহারের হেড পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে ফিরতি বল ফাঁকায় পেয়েও গলে রাখতে ব্যর্থ হন ডিকা। বেশ কিছু সহজ সুযোগ নষ্ট করে কাস্টমসও। সবমিলিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে কোন দল গোল না পাওয়ায় ২-০ গলে ম্যাচ জিতেই আটবছর পর লিগ জয় নিশ্চিত হয় বাগানের।

আরও পড়ুন: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে লড়ে হার ভারতের

জয়ের পর গোটা মোহনবাগান স্টেডিয়াম আক্ষরিক অর্থেই উৎসবমঞ্চে পরিণত হয়৷ গ্যালারি ছাপিয়ে উন্মত্ত সমর্থকদরে উচ্ছ্বাস নেমে আসে মাঠে৷ হাজার-হাজার সমর্থককে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি নিরাপত্তারক্ষীদের পক্ষে৷ মাঠের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ক্লাবের বিশাল বিশাল পতাকা হাতে সমর্থদের দৌড় শেষমেশ বাংলার ফুটবলপ্রেমকেই প্রতিষ্ঠিত করে৷

----
--