কলকাতা: মাঠে তখন ইনজুরি টাইমের ম্যাচ চলছে৷ অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক মিনিটের৷

শেষ বাঁশি বাজার আগেই তাই সবুজ-মেরুন মশাল জালিয়ে সবে সেলিব্রশন শুরু করেছেন বাগান জনতা৷ কেউ কেউ আবার হাতে হাত ঠুকে তালি দিয়ে জয়ের সেলিব্রশনের ট্রেলর শুরু করে দিয়েছেন৷ বাগান গ্যালারির উৎসবের এই চিত্রগুলোই পাল্টে গেল ৯১ মিনিটে৷ ক্রোমার শট বাগানের জালে জড়াতেই হতাশার মুখ ঢাকল বাগান গ্যালারি৷ কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন, কেউ বা বিশ্বাসই করতে পারছেন না৷ এভাবেই হাজার ওয়াটের মোবাইল ফ্ল্যাশে আলোকিত গ্যালারিতে পয়েন্ট হারানোর যন্ত্রণায় তখন যেন বাকরুদ্ধ৷

আরও পড়ুন- ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের হারের কারণ খুঁজে দিলেন পাক অধিনায়ক

বাগান কোচ শংকরলালও যেন লিগের চতুর্থ ম্যাচে এসে শেষ মূহর্তে পয়েন্ট হারানোটা মেনে নিতে পারছেন না৷ ম্যাচ শেষে কোচের মুখেও হতাশা৷ তিরে এসে তরী ডোবা মেনে নিতে পারছেন না শিল্টনদের হেডস্যার৷ ঠিক কোথায় পয়েন্ট হারালেন? প্রশ্নের জবাবে শংকর বলেন, ‘গোলের সুযোগ হাতছাড়া করার খেসারত দিতে হল৷’ ফুটবলারদের মনসংযোগের অভাবকেই কাঠগড়ায় তুললেন শংকর৷

গত ম্যাচে জর্জ টেলিগ্রাফের বিরুদ্ধে নামার আগে শংকর শুনিয়েছিলেন, ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ফুটবলারদের ডোবাতে পারে৷ প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেই গা ছাড়া দেওয়া চলবে না৷’ রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে এই মন্ত্রই দলের ফুটবলারদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া কথা বলেছিলেন শংকর৷ ম্যাচে এদিন অবশ্য উলটো চিত্র দেখা গেল৷

হেনরির হেডে ৭১ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পর আজহার-কিংসলেদের ঢিলে ঢালা মনোভাবই দলকে ডোবাল৷ ৮৮ মিনিটে বাগানের হয়ে আজহারউদ্দিন ফাঁকা গোলে বল জড়াতে ব্যর্থ হন৷ ক্রোমার গোলটাও এল কিংসলের গা ছাড়া ট্যাকেলের ভুলে৷ প্রথম ম্যাচ বাদ দিলে শেষ তিন ম্যাচেই বাগান ডিফেন্স গোল হজম করল৷ চার ম্যাচে তিন গোল হজম কিংসলদের৷ এতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে শংকরের কপালে৷ সেই সঙ্গে মাঠকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন বাগান কোচ৷ ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এই মাঠের হাল খারাপ হয়েছে৷ ফলে খেলার মান পড়ছে৷’ জানালেন শংকরলাল৷

আরও পড়ুন- প্রাক্তন বাগান তারকার গোলে পয়েন্ট হারাল সবুজ-মেরুন

কোচ অবশ্য বলছেন, ‘পয়েন্ট হারানোয় বাড়তি চাপ নেই৷ এখান থেকে বাকি ম্যাচ জিততে দল ঘুরে দাঁড়াবে৷ সেই সঙ্গে মাঝমাঠ ও ডিফেন্সের গলদ খুব তাড়াতাড়ি শুধরে নিতে হবে৷’

আরও পড়ুন- স্বাধীনতা দিবসের দিন ভুলে ট্রোলড ভারত অধিনায়িকা

ম্যাচ ড্রয়ের করে পিয়ারলেস কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন এই ম্যাচ ৪-২ গোলে তারা জিততে পারত৷ সেই মন্তব্যের পালটা দিয়েছেন শংকর৷ বাগান কোচ বলেন, ‘সেক্ষেত্রে ম্যাচটা বিশ্বজিৎদাকে আবার দেখাতে হবে৷ স্কোরলাইন নিয়ে আলোচনা করতে চাই না, কিন্তু পিয়ারলেসের ফুটবলাররা যেখানে মাঠে হামেসাই পড়ে যাচ্ছে, ফুটবলাররা দ্বিতীয়ার্ধে দেরিতে মাঠে ঢুকছে৷ তাঁদের এই সব নিয়ে মন্তব্য মানায় না৷’

--
----
--