বাগানে মিটল বেতন সমস্যা

কলকাতা: বেতন সমস্যা মিটল মোহনবাগানে৷ শনিবার পুলিশ ম্যাচের পরই ফুটবলারদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিলেন ক্লাব সচিব অঞ্জন মিত্র৷মোহনবাগান প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি থেকে নয় এই বেতন মেটানো হল ক্লাবের কোষাগার থেকেই৷ ম্যাচের পর মোহনবাগান অধিনায়ক শিল্টন পালের হাতে চেক তুলে দেন অঞ্জন মিত্র৷ এরপর একে একে বাকি ফুটবলার, কোচ, সার্পোট স্টাফদেরও বেতন মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে৷

সপ্তাহ ঘুরলেই ডার্বি৷ তার আগে ফুটবলারদের বেতন সমস্যা দলের অন্দরে প্রভাব ফেলেছিল৷সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ না খুললেও বিদেশি ফুটবলাররা বকেয়া না মেটায় মাঠে নামতে নারাজ ছিলেন৷ এরপরই সাতদিনের মধ্যে খেলোয়াড়দের বেতন মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সচিব অঞ্জন মিত্র৷ সাতদিন পার হওয়ার আগেই অবশ্য বেতন পেয়ে গেলেন ফুটবলাররা৷পুলিশ ম্যাচে পাঁচ গোলে জয়, দিনের শেষে বকেয়া বেতন, বাগান আকাশে কালো মেঘ সরে পূর্ণিমার চাঁদ উঠতে হাসি মুখে তাঁবু ছাড়লেন ফুটবলাররা৷

তবে সচিবের উদ্যেগে নন, বেতন জট কাটল তিন সদস্যের প্রাক্তন বিচারপতিদের কমিটির বৈঠকে৷ শনিবার অভিজাত একটি ক্লাবে বিদায়ী সহসচিব সৃঞ্জয় বসু ও সচিব অঞ্জন মিত্রের সঙ্গে বৈঠকে বসে নির্বাচনের জন্য তৈরি হওয়া প্রাক্তন বিচারপতিদের কমিটি৷ সেই বৈঠকেই ফুটবলারদের বকেয়া বেতন কিভাবে মিটিয়ে দেওয়া হবে ঠিক হয়৷এর আগে বেতন না মেটানো নিয়ে বিচারপতিদের কমিটির কোর্টে বল ঠেলে দিয়েছিলেন সচিব অঞ্জন মিত্র৷ জানিয়েছিলেন বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্তের জন্যই বেতন দিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তারা৷ সেই উক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠক শেষে বিচারপতি অসীম কুমার রায় বলেন, ‘কমিটির পক্ষ থেকে ফুটবলারদের বেতন আটকে রাখার কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি৷হাইকোর্টের নির্দেশ অনুয়ায়ী বড় অঙ্কের লেনদেন হলে, তা কমিটিকে অবগত করতে হবে৷ কোনও ধরনের লেনদেন না জানিয়ে করা হলে সেটা আদালত অবমাননার মধ্যে পড়ে৷’ সঙ্গে তিনি আরও জোড়েন, ‘এর আগে ফুটবলারদের বেতন সংক্রান্ত তথ্য কমিটিকে জানানো হয়নি বলেই সমস্যা তৈরি হয়েছে৷ বিচারপতিদের কমিটির সম্পর্কে ভুল মন্তব্য করার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বাগান সচিব৷’

- Advertisement -

দুপুরের বৈঠকের পরই সন্ধ্যেয় পুলিশ ম্যাচ শেষে ফুটবলারদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ বেতন মিটিয়ে দেওয়া হলেও বিতর্ক কিন্তু রয়ে গেল৷ এদিন ক্লাবের ফান্ড থেকে বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে৷সেক্ষেত্রে ফুটবলাররা চুক্তিবদ্ধ মোহনবাগান প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সঙ্গে৷পরবর্তীকালে ক্লাব লাইসেন্সিং-য়ের সমস্যায় পড়তে পারে ঐতিহ্যশালী মোহনবাগান ক্লাব৷সচিব অঞ্জন মিত্র ও বিদায়ী সহসচিব সৃঞ্জয় বসু অবশ্য বলেন, এই পদ্ধতিতে বকেয়া মেটানোয় কোনও সমস্যা তৈরি হবে না, হলে পরবর্তীকালে সমাধানসূত্র খোঁজা হবে৷

Advertisement ---
---
-----