মিসের ফোয়ারাতেও তিন গোলে টালিগঞ্জ ‘বধ’ বাগানের

কলকাতা: এ যেন একে অন্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার লড়াই! শনিবার এরিয়ানের বিরুদ্ধে তিন গোলে ম্যাচ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল৷ পরের দিন বাগান টালিগঞ্জকে হারাল একই ব্যবধানে৷

আক্রমণ…আক্রমণ…আক্রমণ৷ এত আক্রমণের শেষে গোল মাত্র তিনটি! যে ম্যাচ অনায়াসে ছয় গোলের ব্যবধানে জেতা যেত সেই ম্যাচই মোহনবাগান জিতল মাত্র তিন গোলে৷ এদিন ডিকা-আজহাররা যেন বড়লোক বাবার বকাটে ছেলে৷

দুই ফুটবলারই গোল করে বাগান জনতার মুখে হাসি ফুটিয়েছেন, নিসন্দেহে প্রশংসনীয়৷ কিন্তু গোলমিসও তো কম করলেন না৷ যা অবশ্যই কোচের চিন্তা বাড়াল বলা চলে৷ দুই গোলে এগিয়ে যেতে দ্বিতীয়ার্ধে যেন গা ছাড়া  মনোভাব৷ সেই সঙ্গে ফিনিশিংয়ে অদক্ষতা৷ লিগের শেষ ল্যাপে গোলপার্থক্য ট্রফি খোয়াতে হলে এই ম্যাচকেই শেষে দুষতে না হয়! সমর্থকরা অবশ্য গোলপার্থক্যের কচকচানির হিসেব গুনতে নারাজ৷ সুপার সানডে’তে ম্যাচ জিততেই বাগান গ্যালারিতে শুরু অকাল দীপাবলি৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন- আমনা ম্যাজিকে লিগ শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল

শুরুতে ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল মিস দিপান্ডা ডিকার৷ বাঁ-দিকে শরীর ছুঁড়ে দিয়ে ডিকার অতি সাধারণ মানের শট বাঁচিয়ে দেন টালি গোলরক্ষক সৌরভ রায়৷ দ্বিতীয়ার্ধে আবার গোলকিপারকে একা পেয়ে ৬৯ মিনিটে পোস্টের উপর দিয়ে বল উড়িয়ে দেন ক্যামেরুনের এই স্ট্রাইকার৷ এর আগে ব্রিটোর শট সৌরভের হাতে লেগে ফিরে আসে৷ একই দিনে বহুরূপে পাওয়া গেল ডিকাকে৷ শুরুতে গোল মিস করলেও চাপ বাড়তে দেননি৷ ২৯ মিনিটে অরিজিত বাগুইয়ের সেন্টার থেকে মাথা ঠেকিয়ে বাগানের প্রথম গোলটি করেন ডিকাই৷

প্রথম গোল পেতেই বাগানের খেলার গতি আসে৷ ৩৫ মিনিটে অরিজিতের কর্নার থেকে বাগানের দ্বিতীয় গোল৷ এবার হেডে গোল দিতে ভোলেননি আজারউদ্দিন৷ এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৮০ মিনিট পর্যন্ত একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সবুজ মেরুন ব্রিগেড৷ ৬০ মিনিটে ফাঁকা পোস্টে মারতে ব্যর্থ হন আজহার৷ সেই আজহারের ঠিকানা লেখা পাস থেকে ৮৩ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০করে পরিবর্ত ফুটবলার উইলিয়াম৷

আরও পড়ুন- লাল-হলুদে এবার স্প্যানিশ কোচ!

তিন গোলে ম্যাচ জিতলেও গোলমিসের বন্যার কারণে সমালোচনায় বিদ্ধ ফুটবলাররা৷ হেনরি নেই, দলের ভাঙাচোড়া অবস্থা৷ এর মাঝে তিন পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ফিরে পেলেও স্ট্রাইকাররা গোল মিসের যে নিদর্শন রাখলেন এই জয়ের পরও তাতে শংকরের চিন্তা বাড়ল বই কমল না৷

Advertisement ---
-----