স্টাফ রির্পোটার: তিন ম্যাচে নয় পয়েন্ট, জয়ের হ্যাটট্রিকে লিগের শীর্ষস্থানে উঠে আসায় স্বভাবতই খুশির হাওয়া বাগানের অন্দরে৷ জর্জের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় প্রসন্ন হয়ে কোচ শংকরলাল দলকে একশোয় একশো দিয়েছেন৷ কিন্তু বাগানের খেলা দেখে অনেক প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে৷

তিন ম্যাচেই প্রথমার্ধে বাগানের আক্রমণ দানা বাঁধতে পারেনি৷ এদিনের ৭ মিনিটে সেটপিসে ডিকা’র সুযোগ পাওয়া ছাড়া প্রথম অর্ধে সেরকম আক্রমণ কোথায়৷সেই ফ্রি-কিক অবশ্য পোস্ট লেগে বেড়িয়ে যায়৷ প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও রক্ষণে বাধা পেয়ে বাগানের আক্রমণ ভাগের ফুটবলাররা দিশা হারাচ্ছে৷

Advertisement

আরও পড়ুন: ডিকার গোলে বাগানের জয়

অসুস্থ হেনরিকে পুরো ম্যাচেই খেললেন৷আনফিট হেনরি সাধ্যমত চেষ্টা করলেও তাঁর পায়ে গোল আসেনি৷ডিকা ছাড়া গোল করার লোক নেই বাগানে৷দ্বিতীয়ার্ধে মেহতাব-তীর্থঙ্কর নামতে প্রতি ম্যাচেই খেলার মোড় ঘুরছে৷ পাঠচক্র ম্যাচের মতো এদিনও তীর্থর বাঁ-পায়ের বাড়ানো বলেই দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দরজা খোলে সবুজ-মেরুন৷ পাঠচক্র ম্যাচের মতো এদিনও গোল এল সেই ৭০ মিনিটের পর৷

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোতে চান বাগান কোচ

৭২ মিনিটে তীর্থ’র মাপা সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ডিকা৷আগের ম্যাচে এমন একটি হেডে পিছিয়ে পড়ে রেনবোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরেছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড৷ সেদিন সেন্টার নিয়েছিলেন মেহতাব৷ সব দিন তীর্থ-মেহতাবরা আশানুরূপ খেলে যাবেন, আর মোহনবাগানের ঝুলিতে তিন পয়েন্ট ঢুকবে এমনটা প্রত্যাশা না করাই ভাল৷ পাঠচক্র-জর্জের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গোলের দেখা পেতে ৭০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করত হচ্ছে ডিকাদের৷ লিগের সামনের দিনে কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চাপ সামলাতে পারবে তো বাগান!

আরও পড়ুন: সাত রঙ ফিকে করে জয়ে ফিরল সাদা-কালো

তিন ম্যাচে নয় পয়েন্ট,জয়ের হ্যাটট্রিক দিয়ে লিগ শুরু৷ পড়শি ক্লাবে যখন সুভাষ গো ব্যাক স্লোগান বাগানের পালে তখন খুশির হাওয়া৷ দল টানা তিন ম্যাচ জিতলেও একাধিক ভুলত্রুটি রয়েছে মানছেন বাগানের হেডস্যার৷ তবে ঘর গুছিয়েই আক্রমণে উঠতে চান বলে জানান শংকরলাল৷

এদিন ম্যাচ জিতে তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধে গোল আসেনি বলেই খারাপ খেলেছে বলা যাবে না৷ বিপক্ষ দল হোমওয়ার্ক করেই মাঠে নেমেছিল৷ সেকারণেই মাঝমাঠে লোক বাড়িয়ে আমাদের আক্রমণের ধার কমিয়ে দিয়েছে৷প্রথমার্ধে দুই উইং ডানা মেলতে পারেনি৷ দ্বিতীয়ার্ধের পরিকল্পনা পরিবর্তন এনে আমরা ডিফেন্সে লোক কমিয়ে আক্রমণে উঠি৷ তীর্থ-মেহতাবকে নামাতে মাঠমাঝ সচল হয়৷’

আরও পড়ুন: বাগান জার্সি খুলে রাখতে চলেছেন মেহতাব

তীর্থ-মেহতাবকে নামতেই ম্যাচের রঙ পাল্টাচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে সামনের দিনে কি শুরু থেকেই দুজনকে ব্যবহার করার কথা ভাববেন বাগান কোচ? শংকর বলছেন, ‘এখনই ওদের শুরু থেকেই খেলানো পরিকল্পনা নেই৷সব বিভাগেই এখনও মেরামতি প্রয়োজন৷’

এদিন শিল্টনের পরিবর্তে মরশুমে প্রথমবার সুযোগ পেয়ে ৮৬ মিনিটে ব্যাক টু ব্যাক সেভ করে ম্যাচের সেরা হয়েছেন শংকর রয়৷ তাঁর খেলার শংকরলালের মনে ধরেছে বলেন জানান তিনি৷

----
--