ব্যুরো রিপোর্ট: ক্রমশ রাজ্যে জাল বিস্তার করে চলেছে মোমো৷ মোমো আতঙ্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না জেলাবাসীর৷ কখনও বাঁকুড়া তো কখনও কোচবিহার৷ আবার কখনও মুর্শিদাবাদ৷ একের পর এক জেলাকে যেন টার্গেট করে চলেছে এই মোমো৷ বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে খবর আসতে থাকে মোমো ম্যাসেজের৷ যার তালিকা থেকে ছাড় পায়নি খোদ আইনজীবীও৷

প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে মোমোর তরফে হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ পান বাঁকুড়া জেলা আদালতে কর্মরত এক আইনজীবী। দীপক পাল নামে ওই আইনজীবী বলেন, ‘‘আমার কাছে যে নম্বর থেকে মোমোর নাম করে ম্যাসেজ এসেছে সেটি পশ্চিমবঙ্গেরই একটি বিএসএনএল নম্বর।’’ এই ঘটনায় তিনি যথেষ্ট আতঙ্কিত বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় আধার নম্বর লিঙ্ক করানোর ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে।

Advertisement

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন পলাশতলায় এক ছাত্রের মোবাইলে একটি অজানা নম্বর থেকে মোমোর ম্যাসেজ আসে। মোমো নিয়ে নানা খবর জানার পর যথেষ্ট আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ওই ছাত্র। সৌরজিৎ বল নামে ওই ছাত্র বলেন, ‘‘মঙ্গলবার রাতে মোমো ম্যাসেজ আসার পর থেকেই যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছি। বিষয়টি বাঁকুড়া সদর থানায় জানানো হয়েছে৷’’ পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলা হয়েছে৷ বিষয়টি তাঁরা সাইবার ক্রাইম সেলে জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে বলেও জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: টিএমসিপির পরবর্তী সভাপতি বারাসতের তৃণাঙ্কুর !

অন্যদিকে, মোমো আতঙ্ক ছড়িয়েছে কোচবিহারের তুফানগঞ্জে। এক সঙ্গে প্রায় ১২ জন ছাত্রের মোবাইলে মোমোর ম্যাসেজ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকেই এদের মোবাইল ফোনে মোমো গেম খেলার প্রস্তাব দিয়ে ম্যাসেজ আসতে শুরু করে। ঘটনার পর অনেকেই সেই নম্বর ব্লক করে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, এদের মধ্যে বেশীর ভাগই একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্র৷ পাশাপাশি ওই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষকের কাছেও একই ম্যাসেজ এসেছে। এই বিষয়ে তুফানগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বাঁকুড়া বা কোচবিহারেই সীমাবদ্ধ নেই এই মোমোর যন্ত্রণা৷ মোমো ম্যাসেজ পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে কান্দিবাসীও। মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রাম থানার নগর এলাকার বাসিন্দা মেহেরুল আলম বুধবার কান্দি পৌরসভা আসেন তাঁর কন্যার জন্ম সার্টিফিকেট নিতে। অভিযোগ, কান্দি পৌরসভা আসলে তাঁর মোবাইলে আচমকা মোমো ছবি ও নাম দিয়ে একটা ওয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ আসে৷ কলও আসে বার দু’য়েক৷ জানানো হয় তাঁর মোবাইল সহ সমস্ত কিছু হ্যাক করা হয়েছে।

মোট আটটি ম্যাসেজ তাঁর মোবাইলে এলে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে৷ তড়িঘড়ি কান্দি থানায় আসেন তিনি৷ সেখানে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মেহেরুল আলম। এই ঘটনার জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মেহেরুল৷ মেহেরুল আলম বলেন, ‘‘বিগত দু’দিন ধরে আমার বন্ধুর কাছে এই রকম মোমো সংক্রান্ত ম্যাসেজ আসে৷ এরপর আমার মোবাইলে আজ ম্যাসেজ আসে৷ আমার মোবাইল সমস্ত কিছু হ্যাক করা হয়েছে বলে ভয় দেখানো হয়। কান্দি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি৷ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে কান্দি থানার পুলিশ।’’

আরও পড়ুন: বিকিনি ফটোশ্যুটে তাক লাগিয়ে দিলেন দীপিকা

এছাড়াও মোমোর ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য এলাকার বিভিন্ন জায়গায় লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার করা হয়৷ যাতে কেউ এই মোমোর খপ্পরে না পড়ে৷ আগেভাগেই সতর্কতা চলছে জেলায় জেলায়৷

 

----
--