শহরে এবার মোমো আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: জেলার পর মোমোর আতঙ্ক এবার শহরে৷ মোমো গেমের প্রস্তাব পেলেন উত্তর ২৪ পরগণার সোদপুর এইচ বি টাউনের বাসিন্দা রাজশ্রী উপাধ্যায়৷ তিনি কলকাতার তথ্য প্রযুক্তি সংস্থার কর্মী৷ হোয়াটস অ্যাপে মেসেজের মাধ্যমে প্রথমে মোমোর গেম খেলার প্রস্তাব আসে রাজশ্রীর কাছে৷

রাজশ্রী দেবী আতঙ্কে ওই নম্বরের মেসেজটি না খুলে সোজা কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে যোগাযোগ করেন৷ সেখানে গিয়ে তিনি জানতে চান তাঁর এখন কী করা উচিত৷ কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ তাঁকে পরামর্শ দেয় যে মোবাইল নম্বর থেকে মোমো গেমসের ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে সেই নম্বরটি ব্লক করে দেওয়ার জন্য। তিনি তাঁদের কথা মত নম্বরটি ব্লক করে দেন৷

- Advertisement -

তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং এক সন্তানের মা। তিনি বলেন, ‘আমি সেই রকমভাবে সোশ্যাল মিডিয়াতে সক্রিয় নই৷ তবুও আমার হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে এই রকম মেসেজ এলো। সকলের উদ্দেশ্যে আমার বার্তা একটাই কেউ যেন ওই মেসেজ শখ করেও না পড়েন৷ প্রথমেই যেন নম্বরটি ব্লক করে দেন। শুধুমাত্র হীনমন্যতায় যারা ভুগছেন তারাই মোমো গেমসের ম্যাসেজ পাচ্ছেন৷ এই ধারণাটা ভুল। যে কেউ এই ধরণের ম্যাসেজ পেতেই পারেন। তবে এই ধরণের মেসেজগুলিকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত।’

কয়েকদিন আগেও এক ভয়ঙ্কর মারণ খেলায় মেতে উঠেছিল গোটা বিশ্ব৷ নাম ছিল ব্লু হোয়েল৷ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হত সেই খেলায়৷ আর না পারলে মৃত্যু অপেক্ষা করত সামনে৷ সেই ব্লু হোয়েলকে টেক্কা দিতে হাজির আরও এক মারণ খেলা৷ নাম মোমো গেম৷ ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে গিয়েছে মোমো গেম নামে এই মারণ খেলাটি৷ নিস্তার মেলেনি রাজ্যবাসীরও৷

মোমো গেমটি আসলে কী? প্রথমে মোবাইলের হোয়াটস অ্যাপে মোমো গেমের মেসেজ আসবে। সেই মেসেজের জবাবে “মোমো” লিখে সেন্ড করতে হবে। আর তাতেই উলটো দিকে মৃত্যুর ফাঁদ পেতে অপেক্ষারত মোমোর পরিচালকরা বুঝে নেন যে গেম খেলার সম্মতি জানানো হল।

এরপরেই একের পর এক চ্যালেঞ্জ আসতে শুরু করবে। ব্লু হোয়েলের মতো এই গেমেও চুড়ান্ত পর্যায় হল খেলোয়াড়ের মৃত্যু। ব্লু হোয়েলের মতোই বিভিন্ন অছিলায় খেলোয়াড়কে আত্মহত্যায় বাধ্য করানোটাই হল মোমোর আসল উদ্দেশ্য।

Advertisement ---
---
-----