মাঝেরহাট সেতুর অবস্থা খতিয়ে দেখতে মনিটারিং সেল

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: একের পর এক দুর্ঘটনা যখন ঘটছে তখন ব্রিজগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে৷ ব্রিজ ধরে ধরে সমীক্ষা করতে হবে৷ এর জন্য হাইপাওয়ার ইনভেসটিগেশন কমিটি গঠন করে দিয়েছি৷ বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি এদিন আরও জানান, ব্রিজ ইনস্পেকশন ও মনিটারিং সেল তৈরি করে নিয়মিত ব্রিজগুলির পরিবহণ ক্ষমতা পরীক্ষা করতে হবে৷

মঙ্গলের বিকেলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভেঙে পড়ে শহরের ব্যস্ততম মাঝেরহাট ব্রিজের একাংশ৷ ব্রিজের সমান্তরালে মেট্রো রেলের কাজ চলছিল৷ ব্রিজটির নীচে ছিল মেট্রো কর্মীদের ঝুপড়িও৷ অস্থায়ী ব্রিজ তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে৷

পড়ুন: ব্রিজ ভাঙলেও তার নীচেই সংসার পেতেছে কলকাতা

- Advertisement -

অভিযোগ যে, দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত গাড়ির চাপে মাঝেরহাট ব্রিজ দুর্বল হয়ে পড়ছিল৷ ব্রিজে ফাটল দেখা গিয়েছিল, সাময়িকভাবে ফাটল বুজিয়ে দায়িত্ব সেরেছিল পূর্ত দফতর৷ বড়সড় মেরামতির জন্য গত বছর জুলাই মাসে টেন্ডার ডাকা হয়৷ কিন্তু লাল ফিতের বাঁধনে সেই টেন্ডার আর ফলপ্রসূ হয়নি৷ মুখ্যমন্ত্রী এদিন মাঝেরহাট ব্রিজের মেরামতির প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘আইআইটি খড়গপুর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে৷ তাদের রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ ব্রিজ ভাঙার পিছনে কাদের গাফিলতি রয়েছে তা দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘পোর্ট ট্রাস্ট এই ব্রিজ তৈরি করে পূর্ত দফতরের হাতে দেয়৷ অনেক নথিই অমিল৷ অনেক ক্ষেত্রেই প্ল্যান না থাকায় কাজে হাত দেওয়া যাচ্ছে না৷’’

ব্রিজের রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষার বিষয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ‘‘মূলত ভারী মালবাহী পরিবহণের জন্যই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেতুর পিলারগুলি৷ পোর্ট ট্রাস্টের ২০ চাকার গাড়িগুলির পক্ষে এই ধরনের ব্রিজ কাজের নয়৷’’ ওই পণ্যবাহী গাড়িগুলি ব্রিজে ওঠার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে নির্দেশ দেওয়া হয় সিপিকে৷ ব্রিজে ওভারলোড গাড়ি যাতে বেআইনিভাবে না ওঠে সেদিকেও কড়া নজরদারি চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

পড়ুন: মাঝেরহাট দুর্ঘটনা: যানজটে ৪০ মিনিটের রাস্তা এখন দুঘন্টায়

যতদিন পর্যন্ত না মাঝেরহাট ব্রিজের দুর্ঘটনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের রিপোর্ট আসে ততদিন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে মেট্রো রেলের কাজ৷ এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সে কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়৷ এক্ষেত্রে প্রথমে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে৷ তারপর আবার কাজ শুরু করতে বলা হবে৷ পাশাপাশি আর যেসব সেতুর অবস্থা শোচনীয়, সেগুলি সারাইয়ের বিষয়েও উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী৷

প্রসঙ্গত, প্রচলিত ট্রাফিক নির্দেশিকার তোয়াক্কা না করে বেশ কয়েক দশক ধরেই কলকাতা সংলগ্ন সেতুগুলি দিয়ে ভারী পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত বেড়ে গিয়েছিল৷ অত ভারী গাড়িগুলির ধারণক্ষমতা এইসব ব্রিজের ছিল না৷ তার উপর, মাঝেরহাটের মতো বন্দর এলাকা লাগোয়া ব্রিজের গায়েই সিপিএম-পরিচালিত বাম জমানায় বানানো হয়েছিল এমন একটি উড়ালপুল যার দরুন পুরানো ব্রিজটির পিলারগুলি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ কিন্তু সেদিকে নজর না দিয়ে শুরু হয়ে যায় মেট্রোর পিলার বসানোর কাজ৷ তার পরেও ব্রিজের উপর দিয়ে ভারী পণ্যবাহী ট্রাকগুলি পুরোদমে যাতায়াত করছিল৷ সব মিলিয়ে এই সেতু বিপর্যয় এক রকম ডেকে আনাই হল বলা চলে৷

Advertisement
---