এক দশকে উত্তরবঙ্গে সব থেকে দেরীতে বর্ষা

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: দশ বছরে উত্তরবঙ্গে সবথেকে দেরিতে প্রবেশ করেছে বর্ষা। এমনটাই জানা যাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে। বর্ষার স্বাভাবিক গতিপথের উল্টোদিকে হেঁটে দক্ষিণবঙ্গ দিয়ে প্রবেশ করেছে। সেটাই বদলে দিয়েছে উত্তরবঙ্গে বর্ষা প্রবেশের গত এক দশকের রেকর্ড।

বর্ষা প্রবেশের পরেও উত্তরবঙ্গে বর্ষার প্রভাব তেমন পড়েনি। গত তিন চারদিনের তুলনায় তাপমাত্রা বেশ খানিকটা কমলেও বর্ষার বৃষ্টি তুলনামূলক বেশ কম বলে জানা যাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে। এই মরসুমে উত্তরবঙ্গে বর্ষা আগমনের রেকর্ড অবাক করার মতো। হাওয়া অফিস বর্ষা আগমনের আগেই জানিয়েছিল স্বাভাবিক সময়েই উত্তরবঙ্গ দিয়ে বর্ষা প্রবেশ করবে। পাহাড় দিয়ে বর্ষা প্রবেশের সেই নিয়ম বদল হয়েছে। দেখা যাচ্ছে গত দশ বছরে সবথেকে দেরিতে উত্তরবঙ্গে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছে।

হাওয়া অফিসের গত এক দশকের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৮-এ বর্ষা এসেছিল সাত জুন। ২০০৯ সালে ২৫ মে বর্ষা এসেছিল উত্তরবঙ্গে। দশ বছরের রেকর্ডে যা সব থেকে দ্রুত। ২০১০ এ বর্ষা এসেছিল ২ জুন। ২০১১ সালে ৪ জুন, ২০১২ তে ৬ জুন। ২০১৩ টে ৫ জুন উত্তরবঙ্গের মাধ্যমে বর্ষা প্রবেশ করেছে পশ্চিমবঙ্গে। এর পরে ২০১৪ ২০১৫ সালে যথাক্রমে ১০ জুন ও ৬ জুন বর্ষা এসেছিল ১৪ তারিখ । ২০১৭ সালে বর্ষা এসেছিল ২ জুনেই।

রেকর্ডের আমূল বদল ২০১৮ তে। ১১ জুন বর্ষার মেঘ যখন অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরাচ্ছে কলকাতাসহ আরও কয়েকটি জেলায় তখন উত্তরবঙ্গ পুড়ছে রোদে। ১২ তারিখ দুপুরেও উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপের গতিবিধি ছিল ধীর। পাহাড়ে বর্ষা আগমনের তেমন কোনও আভাসও দিচ্ছিল না হাওয়া অফিসকে। শেষে দুপুরের দিকে হাওয়ার গতিবেগ বৃদ্ধি পায়। মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুর-দুয়ার ও জলপাইগুড়িতে। রেকর্ড অনুযায়ী যা অনেকটাই দেরি।

কেন এমন দেরি হল? আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশ-কুমার দাস বলেন, “১১ জুন দুপুর অবধি বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপটি কোনও শক্তি পায়নি বা কোনও বিশেষ হাওয়ার টান পায়নি। পরে একটি বাতাসের ধাক্কায় হুর-মুরিয়ে প্রবেশ করে কলকাতার দিকে। উত্তরবঙ্গের দিকে বর্ষার এই ধাক্কার অপেক্ষাতেই ছিল। যা মেলেনি।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “১২ জুনেও পরিস্থিতি সেই একইরকম ছিল। প্রয়োজনীয় ধাক্কা মেলে দুপুরের পরে। বর্ষা প্রবেশ করে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায়।”

তবে বর্ষা প্রবেশ করেও বিশেষ লাভবান হয়নি উত্তরবঙ্গ। বিকেল থেকে রাত অবধি যখন কলকাতায় বর্ষার দাপট চলছে। তখন উত্তরবঙ্গে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকেও খুবই সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে হাওয়া অফিস সূত্রে। কলকাতায় যেখানে ২০.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সেখানে জলপাইগুড়ি কালিম্পঙে কোনও বৃষ্টিই হয়নি। দার্জিলিং-এ বৃষ্টি হয়েছে ছয় মিলিমিটার।

এদিকে হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবারের পর আবার মৌসুমি বায়ু শক্তি হারাবে। ফলে বৃষ্টির হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে সমগ্র রাজ্যে। আগামী সপ্তাহের আগে তা বিশেষ শক্তি সঞ্চয় করবে না বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তরবঙ্গের বর্ষা ভাগ্য যে আবার খারাপ হতে চলেছে তা বলা যায়।