মাদলের শব্দে মন ভালো করতে ঘুরে আসুন মোরাম

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: সপ্তাহভর শহরের কোলাহলে বিরক্তি ধরে গিয়েছে। মনটা পালাই পালাই করছে ? মনে হচ্ছে কংক্রিটের বেজান শহরটাকে দিন দুয়েকের জন্য ভুলে যেতে? আর দেরী করবেন না। ঘণ্টা চারেকের পথ। তারপরেই ভেসে আসবে লাল মাটির গন্ধ। কানের সামনে বাজবে মাদলের সুর। মোরাম।

শহর ছেড়ে দিন দুয়েকের সেরা ডেসটিনেশন হতে পারে বোলপুরের এই আদিবাসী গ্রাম। রয়েছে মোরাম রেসর্ট। রয়েছে মাদলের তাল। রয়েছে মাটির টান।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: ফ্লাশিং মেডোয় এপিক ম্যাচ জিতলেন নাদাল

শান্তিনিকেতন অল্প দূরে কোপাই নদীর কাছে এক আদিবাসী গ্রাম। সেখানেই রয়েছে ইকো রেসর্ট ‘মোরাম’। মোরাম নামটা শুনেই চোখে ভেসে ওঠে একটি ক্যানভাসে আঁকা ছবি। লালমাটির পথ, হেলে পড়া সূর্য, পথে চলতি সাঁওতাল মেয়েদের দল। কল্পনা ও বাস্তব মিলে যাবে ইকো রেসর্টে পৌঁছলেই।

শিয়ালদহ থেকে চেপে বসুন মা তারা এক্সপ্রেসে। সকাল সাতটা ৩২ মিনিটে ছাড়ে ট্রেনটি। শহর ছাড়িয়ে ট্রেন যতো এগোবে চোখ ভরবে প্রকৃতির সবুজে। কখনও সবুজ রঙ আবার হলুদ। কবি কবি ভাব হলেই শুধু প্রকৃতিকে উপভোগ করা যায় সেই ধারণা ভুল। শুধু উপভোগ করতে জানতে হবে।

আরও পড়ুন: এই বদ অভ্যেসটি আপনার আছে নাকি?

অজান্তে মন বলে উঠতে পারে ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর’। বাংলার মায়ের রূপ জৌলুসকে চোখে ভরে নিন ঘণ্টা চারেক। তারপর নেমে পড়তে হবে প্রান্তিক স্টেশনে। রবি ঠাকুরের বোলপুরের পরের স্টেশন। ঘর বুক করে মোরাম যাওয়া উচিৎ।

এরপর টেনশন ফ্রি। স্টেশন থেকে রিসর্টের গাড়িতে আসবে। কোপাই নদীকে পাশে রেখে পিচের সড়ক পেরিয়ে গাড়ি গ্রামের মোরাম এর পথ ধরবে। এবার শুধুই সঙ্গী দুপাশের সবুজ ধান ক্ষেত, মুক্ত বাতাস। কখন এসে পড়বেন ‘মোরামের’ দুয়ারে মালুম হবে না।

আরও পড়ুন: প্রতিবাদী মহিলাকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মার দুষ্কৃতীদের

রেসর্টে প্রবেশ করতেই অদ্ভুত অনুভূতি। এমন আতিথেয়তা মেলে না। একদল মেয়ে শাঁখ বাজিয়ে কপালে চন্দন পরিয়ে বরণ করে নেবে। এসবই আসলে গ্রামের সাবেকি অতিথিবরণ।

এরপর নরম গদির বিছানা, ইটের দেওয়াল ছেড়ে প্রবেশ মাটির ঘরে। ওপরে খড়ের ছাউনি দেওয়া গোলাকৃতি একটি খোলামেলা ঘর। কিছুক্ষণ পরেই চলে আসবে ওয়েলকাম ড্রিংক। প্রতিটি ঘরই এমন। রয়েছে শৈল্পিক ছোঁয়া । ফ্রেশ হয়ে চলে আসুন রেসর্টের দরজায়। এবার ঘুরে দেখার পালা।

আরও পড়ুন: কীভাবে কমাবেন কাজের চাপ? জানুন সহজ উপায়

প্রায় সাত বিঘে জমির উপর এই ইকো রিসর্টের এক বিশাল কর্মকান্ড। মহানগরেরই এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্হা ‘এইম’ এর উদ্যোগে আশেপাশের প্রায় ৪৫টি গ্রামের মেয়েরা এখানে বিভিন্ন হাতের কাজের ট্রেনিং নিচ্ছেন। হয়ে উঠছেন স্বনির্ভরশীল।

মেয়েরা ড্রেস মেটারিয়াল, জুয়েলারি, বিভিন্ন হাতের কাজের জিনিস তৈরী করে কোলকাতার বালিগঞ্জে ওদের নিজস্ব স্টোর ‘দেশজ’ এবং ভারতবর্ষের বিভিন্ন মেলাতে নিজেরাই বিক্রি করতে যায়।

আরও পড়ুন: কীভাবে কমাবেন কাজের চাপ? জানুন সহজ উপায়

প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েদের স্বনির্ভরশীলতা মন ভালো করে দেবে। ইচ্ছে হলে কিনতে পারেন ওদের তৈরী ড্রেস ,জুয়েলারি। ডিসপ্লে সেন্টারে গেলেই মিলবে সমস্ত জিনিস। এরপর দুপুরের খাওয়া। কাঁসার গ্লাসে চলে আসবে জল। তারপর কাঁসার থালাতেই ভাত এবং বিভিন্ন খাবারের পদ। একটু অন্যরকম ফিল গুড ফ্যাক্টর কাজ করতেই পারে। মাছ মাংস বাদে সবই অরগ্যানিক ভেজিটেবল।

অফিস জীবন শুরু হতেই ভাত ঘুম মোটামুটি পালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এবার সেই সুযোগ চলে এসেছে। জানালা দিয়ে যত দূর চোখ যায় শুধুই সবুজ। সোনাঝুরী গাছ হাওয়ায় দুলছে। পাতায় পাতায় ঘসা লেগে মিষ্টি আওয়াজ। হাঁস ঘুরে বেড়াচ্ছে ছোট পুকুরে। নানা দৃশ্য দেখতে দেখতে চোখ জরিয়ে আসবে ঘুম। বিকালে চলে আসবে ওর হাতে দেখলাম চা আর এক প্লেট গরম পকোড়া।

আরও পড়ুন: সুখবর! জিও গ্রাহকরা পাবেন এই অ্যাপ দুটি

একটু পরেই কানে ভেসে আসবে মাদলের সুর। খুব কাছ থেকে। রেসর্টের নিচেই আদিবাসী নাচ ব্যবস্থাপনা রয়েছে। মনে পরতেই পারে জন অরন্য ছবির কথা। অদ্ভূত মেঠো সুর ,তাল ,ছন্দ। রাতে খাবার খেয়ে ব্যালকনিতে বসতে পারেন। হাতে একটা সিগারেট ধরিয়ে ঝিঁঝিঁর ডাক।

পুকুরের জলের শব্দ অনুভব করতেই পারেন। ঘুম ভাঙবে বাঁশির সুরে। ব্যালকনি থেকেই দেখা যাবে সেই বাঁশিওয়ালাকে। হ্যামলিনের সেই বাঁশিওয়ালার থেকে খুব একটা কম মোহময় নয়। রোজ গাড়ির হর্ন, বাজারের কোলাহলের সকাল আর বাঁশির সুরে সকাল। মন আপনা থেকেই ভালো হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: যশোর রোডে গাছ কাটতে মিলল হাইকোর্টের অনুমতি

সকালের জলখাবার খেয়ে একবার বিশ্বভারতী ঘুরে আসতে পারেন। বেশিদূর নয়। তারপর সময় ট্রেন ধরার। ফিরে আসা কোলাহলের শহরে।

যোগাযোগের মাধ্যম http://Moramearth.com

ফোন নম্বর -9830378944

আরও পড়ুন: ধর্ষণের সুবিচার মেলেনি, ছেলে-সহ অগ্নিদগ্ধ মা

Advertisement
----
-----