জঙ্গি নয় খরাতেই বিধ্বস্ত আফগানিস্তান: রিপোর্ট

নিউইয়র্ক: জঙ্গি বিধ্বস্ত আফগানিস্তান দীর্ঘ বছর ধরে খরার গ্রাসে৷ রাষ্ট্রসংঘের সমীক্ষা বলছে, জঙ্গি হামলা, সংঘর্ষে আফগানিস্তান যতটা জেরবার, তার চেয়ে কয়েক গুন বেশি জেরবার খরায়৷ পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, খরা বিধ্বস্ত এলাকা থেকে প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার আফগান ঘরছাড়া হয়েছেন, জঙ্গি বিধ্বস্ত এলাকায় সেই সংখ্যাটা ৫২,০০০৷ রাষ্ট্রসংঘের হতবাক করা রিপোর্টে স্পষ্ট, জঙ্গির চেয়েও খরায় বেশি বিপর্যস্ত কাবুলিওয়ালার দেশ৷

একটা সময়ের সেই রঙিন আফগানিস্তান, দীর্ঘ বছরের গোলাগুলি, যুদ্ধে প্রকৃতির রুক্ষতাকেই টেনে বার করেছে৷ দেশের ৪৫ শতাংশ এলাকা চাষের অযোগ্য৷ প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ জলাভাবের মুখোমুখি৷ না খেতে পেয়ে বেশিরভাগ গবাদি পশুর মৃত্যু, পরিস্থিতি আরও ভয়ানক করে তুলেছে৷ যেখানে দেশের ২০ মিলিয়ন মানুষ কৃষিজীবী, সেখানে বেশিরভাগ জমিই চাষের অযোগ্য৷ কয়েক বছরের হিসেব বলছে,

আফগনিস্তানের কৃষি ফলন এতটাই কম যে, বিক্রি করার মতো পরিস্থিতিও নেই কৃষকদের কাছে৷ মাটির রুক্ষতা কৃষি জমিকেও চাষের অযোগ্য করে তুলেছে৷ আফগানিস্তান কৃষি মন্ত্রকের তরফ থেকে পাওয়া তথ্যে এই রিপোর্ট দিচ্ছে রাষ্ট্রসংঘ৷

- Advertisement -

প্রতিদিনের রিপোর্ট অনুসারে, গত কয়েক মাসে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ খরা বিধ্বস্ত এলাকা থেকে কাল-এ-নাও শহরে আশ্রয় নিয়েছেন৷ দ্বিতীয় রিপোর্ট অনুসারে, অগাস্ট মাসের মধ্যে মোট ১ লাখ মানুষ খড়া বিধ্বস্ত এলাকা থেকে বেরিয়ে এসেছেন৷ এই বছরেই প্রায় ৩০ লাখ আফগান খরায় জর্জরিত৷ এদিকে, কালাম-এ-নাও শহরে লক্ষ নিরাশ্রয়ের ভিড় বাড়ায় আরও প্রকট হচ্ছে খাদ্য সংকট৷ খরার ফলে গত ১ বছর ধরে বাদঘি গ্রামের ৯৯ শতাংশ মানুষ প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন৷ রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট বলছে, এক বছর ধরে জমিতে কোনও ফলন নেই৷ আর সেই কারণেই, আফগানিস্তানে বাড়ছে অনাহার৷

খরার জেরে গোটা দেশের আর্থিক অবস্থায় ধস নেমেছে৷ যার মেরামতিতে প্রয়োজন বিপুল আন্তর্জাতিক অনুদানের৷ রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট অনুসারে, আফগানিস্তান যেভাবে খরার গ্রাসে পড়ছে, তাতে তালিবান বা আইসিস নয়, বরং খরা নামক ‘জঙ্গি’ কাবুলিয়ালাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে৷

Advertisement ---
---
-----