ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির অস্ত্র পাচারে হদিশ বড় মাথাদের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির অস্ত্র পাচার কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য এল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ-এর হাতে। জড়াতে পারে আর অনেক রাঘব বোয়ালদের নাম। এমনই মনে করছে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল।

অস্ত্র পচারচক্রে জড়িত ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির অস্থায়ী কর্মী উমেশ রায় সহ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজারের এসটিএফ। ওই অস্ত্র তৈরির কারখানার অস্থায়ী সাফাই কর্মী উমেশ রায় ওরফে ভোলা সমগ্র পাচার প্রক্রিয়ায় খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল। ইছাপুরের বাসিন্দা ভোলাকে নিয়ে মঙ্গলবার সমগ্র ঘটনার পুনঃনির্মাণ করে তদন্তকারীরা।

এই জানালার ভাঙা গ্রিল থেকেই পাচার হতো স্ক্র্যাপ

রাইফেল ফ্যাক্টরির অব্যবহৃত সামগ্রী চুরি করে বাইরে পাচার করা হতো। তারপরে সেই সকল উপাদান দিয়েই তৈরি করা হতো অস্ত্র। এর সমগ্র বিষয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাইফেল ফ্যাক্টরির দুই পদস্থ কর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

- Advertisement -

ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে কলকাতা পুলিশের হাতে এসেছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেখানে জড়িয়ে যেতে পারে ওই বিশাল সামরিক অস্ত্র কারখানার পদস্থ কর্তা বা দাপুটে ঠিকাদারদের নাম। এমনই জানা গিয়েছে লালবাজার সূত্রে।

কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো ‘হয়েছে যে মঙ্গলবার ধৃত উমেশ ওরফে ভোলাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রাইফেল ফ্যাক্টরিতে। সমগ্র ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছে তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এত বড় সামরিক অস্ত্র কারখানা হলেও ইছাপুরের রাইফেল ফ্যাক্টরির রক্ষণাবেক্ষণে ছিল গড়ায় গলদ। এমনই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

এদিন ইছাপুরে গিয়ে ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখা এক তদন্তকারী জানিয়েছেন যে ওই রাইফেল ফ্যাক্টরিতে স্ক্র্যাপ আইটেম বা অব্যবহৃত দ্রব্যের কোনও রেকর্ড রেকর্ড রাখা হতো না। সেগুলির কী অবস্থা হচ্ছে সেটির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হতো না। সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়েছিল পাচারকারীরা। আর এই পাচারচক্রে দুই ওয়ার্কস ম্যানেজার জড়িত থাকায় খুব সহজের চলতো পাচারের কাজ।

কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে রয়েছে ইছাপুরের দু’টি অস্ত্র তৈরির কারখানা রাইফেল ফ্যাক্টরি ইছাপুর এবং মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরি। সর্বক্ষণের জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা থাকে প্রায় সমগ্র ইছাপুর জুড়েই। বছর খানেক আগেও দুই ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এলাকায় উঁচু বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে নানারকম নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।

সমগ্র কারখানা জুড়ে সর্বক্ষণ ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও কী করে এই পাচার সম্ভব হল? অস্ত্র পাচারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরায় ধৃতেরা ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির একাধিক স্টাফ এবং স্ক্র্যাপ আইটেমের একাধিক ঠিকাদারের নাম বলেছে। সবকিছু যাচাই করার পরে সেই সকল ব্যক্তিদেরকেও জেরার জন্য ডাকা হতে পারে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে এই কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা আর বাড়তেও পারে।

আরও জানা গিয়েছে, এই পাচারচক্রে বিহারের এক বড় মাথার নাম উঠে এসেছে। পণ্ডিত নামের ওই ব্যক্তি ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরি অস্ত্র পাচারকারীদের সাহায্যে উত্তর-পূর্বের জঙ্গিদের কাছে রাইফেল পাচার করত।

Advertisement
-----