বাগদাদ: সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএসআইএস-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৩০০ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ইরাকের আদালত৷ সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেক বিদেশিও রয়েছেন৷
সূত্রের খবর, বুধবার জানা গিয়েছে, উত্তর ইরাকের মোসুলে এবং বাগদাদের আদালতে সন্দেহভাজনদের নিয়ে মামলা চলে৷ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ৯৭জন নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে৷ এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়েছে৷ যে মহিলাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ তুরস্কের৷

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আবদেল সত্তার জানান, মোসুলের কাছে একটি আদালতে ২১২জনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে৷ একসময় এই জঙ্গি সংগঠন দেশের এক তৃতীয়াংশে কব্জা করে নিয়েছিল৷ তবে পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হয়৷

পড়ুন: সুষমার আসন্ন চিন সফরে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি দেখছে চিন

প্রসঙ্গত, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তুলে ধরা একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ইরাকে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে মহিলা এবং শিশুদের ওপর শাস্তিস্বরূপ চলছে যৌন নির্যাতন৷ এমনকি বাড়িও ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না তাদের, বিভিন্ন ক্যাম্পে তাদের ওপর চলছে অত্যাচার, মঙ্গলবার এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷

লন্ডনের মানবাধিকার বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থা আটটি ক্যাম্পের ৯২ জন মহিলার সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করেই এই রিপোর্ট পেশ করে বলে জানা যায়৷ এই ক্যাম্পে অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হচ্ছে মহিলাদের৷ রয়েছে ধর্ষণের হুমকিও৷ অনেকে ধর্ষণের সাক্ষী হয়েছে, কেউবা সেই ভয়াবহ অত্যাচারের চিৎকারও শুনেছে৷

পড়ুন: চন্দ্রশেখরের জোটতত্ত্ব নিয়ে মমতার ‘পথে’ই সিপিএম

প্রসঙ্গত, তালিবান এবং বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী এই এলাকায় সক্রিয় হলেও, এই ঘটনার দায় এখনও কেউ স্বীকার করেনি বলে জানা গিয়েছে৷

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরেই জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে ইরাক সরকার৷ সরকারি সংবাদ মাধ্যমে ভাষণ দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি যুদ্ধের ইতি টানেন৷
আইএসের অন্যতম বড় ঘাঁটি ইরাকের মোসুল অনেক আগেই দখল করেছে কুর্দিস-ইরাকি সেনা৷ সেনা অভিযানে তাদের সাহায্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ মোসুল ঘিরেই নৃশংসতার ভয়াবহ নজির তৈরি করেছিল ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা৷

বিশেষজ্ঞরা জানান, যুদ্ধ সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও আইএসের উগ্র ধর্মীয় ও নৃশংস তত্ত্ব এখনই শেষ হচ্ছে না৷ অন্য কৌশল নিয়ে ইসলামিক স্টেট ফের হামলা চালাতে মরিয়া৷ সেক্ষেত্রে তাদের অবস্থানের দিকে নজর রাখছে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা এজেন্সি৷

--
----
--