মমতার হাত ছাড়লেন ২০০০ মুসলিম তৃণমূল কর্মী

কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের আগে বড় সংখ্যালঘু শিবির থেকে বড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলবদল করলেন সহস্রাধিক সংখ্যালঘু মুসলিম তৃণমূল কর্মী। এই তালিকায় ঘাস ফুল শিবিরের সংখ্যালঘু সেলের এক শীর্ষনেতাও রয়েছেন।

ভারতের জাতীয় কংগ্রেস রাজ্যে সাইন বোর্ড হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করে তৃণমূল নেতারা। বছর খানেক ধরে ধরে বাংলায় গজিয়ে ওঠা পদ্মের নেতারাও এই একই সুরে কটাক্ষ করে দেশের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন রাজনৈতিক দলের পশ্চিমবঙ্গ শাখাকে। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের সকল রাজনৈতিক দলগুলিকে নিজেদের দাপট দেখাল কংগ্রেস।

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস নাউ-এর প্রতিবেদন অনুসারে রাজ্যের আড়াই হাজার রাজনৈতিক কর্মী কংগ্রেসে নাম লিখিয়েছেন। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই হাজার কর্মী রয়েছেন। আরও বড় বিষয় হচ্ছে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সহ-সভাপতি শাকিল আনসারিও রয়েছেন এই দলবদলের তালিকায়। সিপিএম এবং বিজেপি থেকেও অনেক মুসলিম রাজনৈতিক কর্মী কংগ্রেসের হাতে হাত মিলিয়েছে।

রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ। গত এক দশকে যার অনেকটাই নিজেদের দখলে আনতে সক্ষম হয়েছে তৃণমূল। গত কয়েক বছরে সেই ভোট ব্যাংকে কিছুটা হলেও ভাগ বসিয়েছিল বিজেপি। সেই ভাগাভাগির খেলায় এবার কার্যত বড় চাল চালল কংগ্রেস।

গত মাসেই দেশের তিন রাজ্যে সরকার গঠন করেছে কংগ্রেস। যে রাজ্যগুলি আগে ছিল বিজেপির দখলে। এটিকে রাহুল গান্ধীর বড় সাফল্য বলেই দাবি করে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। একই সঙ্গে সেই সাফল্যকে হাতিয়ার করে ফের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য নতুন করে গুটি সাজাতে শুরু করেছে প্রদেশ নেতৃত্ব। যার অন্যতম অঙ্গ হচ্ছে এই বিপুল সংখ্যক মুসলিম রাজনৈতিক কর্মীদের নিজেদের সঙ্গে সামিল করা।

দেশে বিজেপিকে রুখে ফেডারেল ফ্রন্টের ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। সেই ফ্রন্টে সমর্থন জানানোর কথা বলেছিল কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ ছাড়তেও প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু তিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বদলে দিয়েছে সমগ্র চিত্রটা। ফের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন রাহুল। সেই কারণেই জানুয়ারি মাসে তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশে কোনও কংগ্রেস নেতা উপস্থিত থাকছে না। প্রথমে অবশ্য তৃণমূলের সভায় কংগ্রেস নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। যদিও তাতে আপত্তি জানায় প্রদেশ কংগ্রেস।