কলিনিংগার্ড: মরক্কোর কাছে হারতে হারতে বেঁচে গেল ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা৷ তবে শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্র করে রাশিয়া বিশ্বকাপের নক-আউটে চলে গেল স্পেন৷ শেষ ষোলোয় স্পেনের প্রতিপক্ষ আয়োজক রাশিয়া৷

এদিন ফেভারিট হিসেবে শুরু করেও মরক্কোর কাছে নাস্তানাবুদ হয় ২০১০-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা৷ ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে অাসপাসের গোলে মান বাঁচায় স্পেন৷ সোমবার কলিনিংগাার্ড স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৫ মিনিটে গোল হজম করে ফার্নান্ডো হিয়েরোর ছেলেরা৷

Advertisement

শুরুতেই স্পেনের জালে বল জড়িয়ে বিশ্বকাপে সেরা চমক দেন মরক্কোর খালিদ বুতাইব। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ১-০ এগিয়ে যায় মরক্কো৷ কিন্ত মিনিট পাঁচেক পর ইসকোর গোলে সমতায় ফেরে স্পেন৷ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ২০১০ -এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে হাডাহাড্ডি লড়াই করে আফ্রিকার এই দেশটি৷ ৮১ মিনিটে নেসেরির গোলে ২-১ এগিয়ে যায় মরক্কো৷ জয়ের গন্ধ পেতে থাকে তারা৷ কিন্তু আসপাসের গোলে এড়িয়ে মান বাঁচায় স্পেন৷তিন ম্যাচ শেষে স্পেন ও পর্তুগালের পয়েন্ট সমান ৫। তাদের গোল ব্যবধানও সমান। তবে বেশি গোল করায় শীর্ষে থেকে নক-আউট পৌঁছয় স্প্যানিশরা৷

কালিনিংগার্ড স্টেডিয়ামে মহুর্মুহ আক্রমণে শুরু থেকেই ম্যাচ জমে ওঠে৷ চতুর্দশ মিনিটে মাঝমাঠে আন্দ্রে ইনিয়েস্তা ও সার্জিও রামোস নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করতে গিয়ে তালগোল পাকান৷ সেই সুযোগে বল কেড়ে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক দাভিদ হেয়ার পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে পাঠান বুতাইব।

পাঁচ মিনিট পরই সমতা ফেরায় স্পেন। দারুণ ক্ষিপ্রতায় বাঁ-দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারদের এড়িয়ে কাটব্যাক করেন ইনিয়েস্তা। ফাঁকায় বল ধরে ঠাণ্ডা মাথায় জালে পাঠান রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার ইসকো। ২৫ মিনিটে আবারও স্পেনের রক্ষণে ভীতি ছড়ান বুতাইব। তবে এ যাত্রায় ডি-বক্সে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ৩৭ মিনিটে ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন বার্সেলোনার বুসকেতস।

শুরু থেকে দারুণ খেলতে থাকা ইনিয়েস্তা বিরতির খানিক আগে আবারও বাঁ-দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে গোলমুখে বল বাড়ান। কিন্তু আসরে এখন পর্যন্ত তিন গোল করা দিয়েগো কোস্তা পা লাগাতে পারেননি। বিরতির পর স্পেনের রক্ষণে কিছুটা চাপ বাড়ানো মরক্কো ৫৪ মিনিটে আবারও এগিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না৷ ডি-বক্সের বাইরে থেকে মিডফিল্ডার নুরেদ্দিন আমরাবাতের দূরের পোস্টে নেওয়া বিদ্যুৎ গতির শট ক্রসবারে লেগে ফেরে।

৮১ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় মরক্কো। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল অনেকটা লাফিয়ে হেডে জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা ১০ মিনিট আগে বুতাইবের বদলি নামা এন-নেসাইরি। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে দলকে সমতায় ফেরান ইয়াগো আসপাস। ডান দিক থেকে কারভাহালের ছয় গজ বক্সের মুখে বাড়ানো ক্রসে আলতো টোকায় বল জালে পাঠান সেল্তা এই ভিগোর এই ফরোয়ার্ড। প্রথমে অফসাইডের পতাকা তুলেছিলেন সহকারী রেফারি। পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি।

এই ড্রয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ২৩ ম্যাচ অপরাজিত রইলো স্পেন। রবিবার মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে গ্রুপ-এ রানার-আপ রাশিয়ার বিপক্ষে খেলবে স্পেন।

----
--