মেয়েকে অত্যাচারের অভিযোগে গ্রেফতার মা ও সৎ বাবা

স্টাফ রিপোর্টার, বারুইপুর: বছর নয়েকের শিশুকে মারধর ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ উঠল মা ও সৎ বাবার বিরুদ্ধে৷ এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করল সোনারপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম মনীষা দাস ও অসিত দাস। দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুর থানার কোদালিয়া কালীবটতলা এলাকার ঘটনা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

প্রসঙ্গত, নির্যাতিতা চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীর বয়ান অনুযায়ী কোদালিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জুভেনাইল জাস্টিস কেয়ার অ্যান্ড প্রটেকশন অ্যাক্টে মামলা করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে সোনারপুর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ওই ছাত্রীটি স্কুলে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। ওই শিশুর এক বছর বয়সেই তার বাবা মারা যান। মায়ের কাছেই বড় হতে থাকে সে।

প্রথম শ্রেণীতে ভরতির পর পেশায় সেলসম্যান অসিত দাস নামে এক যুবক তাকে টিউশনি পড়াতে শুরু করেন। আর সেই সূত্রেই তার মা মনীষার সঙ্গে ওই যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। কিছুদিনের মধ্যে দু’জনে বিয়েও করে ফেলেন। অভিযোগ, এরপর থেকেই ছোট্ট শিশুটির উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার বাড়তে থাকে। অভিযোগ সৎ বাবা ও মা দু’জনেই তাকে মারধরের পাশাপাশি মানসিক অত্যাচারও করতো। মা সকালে আয়ার কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলে বাড়ির সমস্ত কাজও করতে হত শিশুটিকে। আর ঠিক তখনই অসিত দাস তার উপর অত্যাচার করতো। এমনকি তাকে দু’বেলা পেট ভরে খেতেও দেওয়া হতো না।

দিনের পর দিন এই অত্যাচারে মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করে ছোট্ট শিশুটি। দু’দুবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করে সে। মঙ্গলবার বোতল ভরতি বায়োকেমিকের ওষুধ নিয়ে স্কুলে যায় ওই শিশু। সেখানে বন্ধুদের জানায় সে আর পৃথিবীতে থাকতে চায় না। এরপরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। সহপাঠীদের কাছে বিষয়টি জানার পর স্কুলের শিক্ষিকারা চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীর মুখ থেকে সমস্ত ঘটনার কথা জেনে সেই বিষয়ে সোনারপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত বাবা ও মা’কে গ্রেফতার করে সোনারপুর থানার পুলিশ। অন্যদিকে, শিশুটিকে উদ্ধার করে হোমে পাঠিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ।

----
-----