ছেলে এখন ‘দেশের শত্রু’, গুলি করে মারতে বললেন মা

গুয়াহাটি: ‘ও একটা বিশ্বাসঘাতক। সরকার যদি ওকে মেরে ফেলে তো ফেলুক’, এটাই বলছে অসমের কামার উজ্জামানের পরিবার। কারণ কিছুদিন আগেই সে হিজবুল মুজাহিদীনে যোগ দিয়েছে বলে খবর প্রকাশ্যে এসেছে। অসমের হোজাই জেলার বাসিন্দা ওই যুবকের একটি ছবি কিছুদিন আগেই ভাইরাল হয়েছে। তার কোড নেম ‘ড, হুরাইরা’।

ওই ছবি দেখেই সন্দেহ করা হয় যে কাশ্মীরের জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদীনে যোগ দিয়েছে সে। তার হাতে রয়েছে একটি রাইফেল, যা AK-47 বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। অসমের কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক হয়েছে সে। তবে পুলিশ এটাই খতিয়ে দেখছে যে, শুধুই কাশ্মীর যোগ রয়েছে, নাকি পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের কাছে ট্রেনিং পাচ্ছে ওই যুবক। হয়ত, তাকে ট্রেনিং দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে সে দেশে সন্ত্রাস ছড়াতে পারে। এমনটাই সন্দেহ পুলিশের।

ওই যুবকের মা শাহিরা খাতুন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁর ছেলে যদি সত্যিই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়ে থাকে, তাহলে সে এখন দেশের শত্রু। তাকে মেরে ফেলাই উচিৎ। তিনি আরও বলেন, ‘২০১৭-র জুলাই মাস থেকে ওর সঙ্গে আমরা কোনও যোগাযোগ করতে পারিনি। যদি আমার ছেলে কোনও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে, সরকার ওকে গুলি করে মারতে পারে। আমার এমন ছেলের কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা দেশের সঙ্গে। ওর মৃতদেহও আমরা ছুঁয়ে দেখতে চাইব না।’ যুবকের ভাই মুফিদুলও দাদাকে বিশ্বাসঘাতক বলে উল্লেখ করেছে।

- Advertisement -

২০১৭-র জুলাইতেই ওই যুবকের সঙ্গে শেষবার কথা হয় তাঁর পরিবারের। নিখোঁজ ডায়েরিও করে তাঁর পরিবার। আমেরিকায় কিছুদিন কাটানোর পর ২০০৬ তে ভারতে ফিরে আসে কামার উজ্জামান। এরপর কাশ্মীর যায় সে। পরিবারকে জানায় যে সে পোশাকের একটি ব্যবসা চালাচ্ছে। এরপর গত বছরের জুলাইতে স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলেকে অসমে রেখে আসে। এরপর আর সে ফিরে আসেনি। এনআইএ-র হাতে সব তথ্য তুলে দিচ্ছে অসম পুলিশ।

Advertisement
---