ছেলের সঙ্গে বসেই মাধ্যমিক দিলেন ৪৪ বছরের রজনি

লুধিয়ানা: শেখার কোনও বয়স হয় না। চিরাচরিত এই প্রবাদটি সত্যতা প্রমাণ করে দেখালেন লুধিয়ানার বাসিন্দা রজনি বালা দেবী।

৪৪ বছর বয়সী রজনি বালা চলতি বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন তাঁর ছেলের সঙ্গে। এমনই ছবি দেখা গিয়েছে লুধিয়ানার লাজন্তি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে।

দারিদ্রতার কারণে ১৯৮৯ সালে লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হয়েছিল রাজনি বালা দেবীকে। সেই বছরে তিনি নবম শ্রেণী পাস করে দশম শ্রেণীতে উঠেছিলেন। কিন্তু পারিবারিক চাপের কারণে সেই সময় থেমে যেতে হয়েছিল।

- Advertisement -

ওই বছরের বিয়ে হয়ে যার রজনি বালার। মাথায় চলে আসে সংসারের দায়িত্ব। তিন সন্তানের জননী হয়েও মনের মধ্যে ছিল লেখাপড়া শেষ করার অদম্য ইচ্ছা। অন্তত মাধ্যমিক পরীক্ষাটুকু পাস করতেই হবে। সেই কারণে প্রায় তিন দশক পরে ফের শিক্ষায় ময়দানে নেমেছেন রজনি বালা দেবী।

সেই ইচ্ছার সঙ্গে দোসর ছিল স্বামী এবং শাশুড়ির সহযোগিতা। যার উপর ভর করেই এই বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন রজনি বালা দেবী। তাঁর কথায়, “অনেক বছর ধরেই আমার স্বামী আমাকে লেখাপড়া শেষ করার কোথা বলছিল। আমার তিন ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করেছে। আমি একটা হাসপাতালের কর্মী। এই অবস্থায় আমার মনে হয়েছিল যে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়াটা জরুরি। তারপর আমার ছেলের সঙ্গেই লেখাপড়া করা শুরু করি।”

ছেলের সঙ্গেই নিয়মিত স্কুলে গিয়েছেন। এখনও একসঙ্গেই পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছেন রজনি বালা দেবী। স্বামী শাশুড়ি এবং সন্তানদের সাহায্য ছাড়া তাঁর লেখাপড়ার স্বপ্ন কখনই সফল হতো না বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, “আমার শাশুড়ি নিজে লেখাপড়া না জানলেও আমায় সবসময় উৎসাহ জুগিয়ে গিয়েছেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমায় আর আমার ছেলেকে পড়িয়েছে আমার স্বামী। মেয়েরাও আমায় অনেক সাহায্য করেছে।” এদের সাহায্যেই স্নাতক স্তরের পাঠ শেষ করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর।

বর্তমান সময়ে লেখাপড়া করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন রজনি বালার স্বামী রাজ কুমার সাথী। সেই লক্ষ্য পূরণে বয়স কোনও বাধা নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি ১৭ বছরের ব্যবধানে স্নাতক স্তরের পড়া শেষ করেছিলাম। আমি পারলে আমার স্ত্রী কেন পারবে না!” রজনি বালা এবং তাঁর পরিবারের লোকেরা বর্তমান সমাজের একটা বড় বার্তা বলে জানিয়েছেন লাজন্তি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক পবন গৌর।

Advertisement
----
-----