বাবরকে গোরক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন হুমায়ুন, দাবি বিজেপি নেতার

বাবর এবং হুমায়ুন

জয়পুর: ইতিহাসবিদরা গায়ে নেবেন না৷ আর যারা ইতিহাসটা অল্প-স্বল্প জানেন তাঁরাও হেসে ফেলার আগে ভেবে দেখুন নেতাদের পড়াশুনার দৌড়৷

আরও পড়ুন- গোরক্ষার মত ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না: শীর্ষ আদালত

গোরক্ষায় মরিয়া বিজেপি নেতা বলেই ফেললেন -মৃত্যু শয্যায় মুঘল সম্রাট হুমায়ুন বাবর(মুঘল প্রতিষ্ঠাতা) কে বলেছিলেন গরুকে সম্মান করতে৷ বিরল এই বক্তব্যটি রেখেছেন রাজস্থানের বিজেপি সভাপতি মদনলাল সাইনি৷ যিনি দাবি করেছেন- হুমায়ুনই বাবরকে দেশ শাসন করার তিনটে উপায় বলেছেন৷ ভারত শাসন করতে হলে গরু,নারী ,ব্রাহ্মণকে সম্মান করতে হবে৷ তাহলেই মুঘল সাম্রাজ্য শিখরে পৌঁছবে৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন- শাসক দলকে হারাতে রাজ্যে গোরক্ষা যজ্ঞের আয়োজন বিজেপির

বিজেপি সভাপতি ইতিহাসের ছাত্র ছিলেন কি না তা জানা যায়নি৷ তবে, ইতিহাস, তাও আবার মুঘল সাম্রাজ্যকে হাতিয়ার করেই গরু রক্ষার ঐতিহ্যকে দৃপ্ত কন্ঠে বলতে একটুও আটকে যাননি৷ ইতিহাসটা অধিকাংশের জানা- ১৫২৬ সালে পানিপথের যুদ্ধ, ইব্রাহিম লোদিকে হারিয়ে বাবরের মুঘল সাম্রাজ্য গঠন৷ ১৫৩১ সালে বাবরের মৃত্যু৷ এর ২৫ বছর পর অর্থাৎ. ১৫৫৬ সালে বাবরের ছেলে হুমায়ুনের মৃত্যু৷

মদল লাল সাইনি এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে

এই ক্রমবর্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মদল লাল সাইনি বলেই চললেন৷ জানালেন, গোরক্ষার ইতিহাস প্রাচীণ৷ হুমায়ুন বাবরকে বলেছিলেন, গরুকে না ভালোবাসলে দেশকে ভালোবাসা যায় না৷ সেই সময় থেকেই গোরক্ষার চল৷ অবশ্য, গোরক্ষকদের আইন হাতে নিয়ে মারধরকে তিনি একেবারেই সমর্থন করেননি৷ জানিয়েছেন, গোরক্ষা করা অন্যায় নয়৷ তবে, আইনের তোয়াক্কা না করে মারধর কার উচিত নয়৷

আরও পড়ুন- গো-মাংস পাচারকারী সন্দেহে ট্রাক চালককে বেধড়ক মারধর গোরক্ষা বাহিনীর

গো রক্ষার ধ্বজা উড়িয়ে গণপিটুনিতে দেশে যখন একটার পর একটা মৃত্যু হচ্ছে, তখন মদনলালের ইতিহাসকে নরবরে করে দেওয়া বার্তাকে ‘হাস্যকর’ বলছে কংগ্রেস৷ রাজস্থানের কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানাচ্ছেন, ইতিহাস না জেনে কথা বলাটাই বিজেপির অভ্যাস৷ সব কিছুর উর্ধ্বে উঠে, ইতিহাসকে প্রাঞ্জল ভাষায় বিকৃতি করাকে ‘কর্তব্যহীনতা’ বলে মন্তব্য করছেন ইতিহাসবিদরা৷

আরও পড়ুন- গোরক্ষা: সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করায় আদালত অবমাননার নোটিশ তিন রাজ্যকে

রাজ্যসভার সাংসদ মদন লাল সায়িনি গত মাসেই রাজস্থানের বিজেপি সভাপতি হয়েছেন৷ যদিও ইতিহাস বিকৃতি বিতর্কে মুখে কুলুপ বসুন্ধরা প্রশাসনের৷

Advertisement
---