ছবি- শশী ঘোষ

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আপাততঃ শেষ মুকুল ম্যাজিক৷ ভরসাও শেষ৷ বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত মুকুল ছেড়ে দিলীপেই আস্থা রাখলেন৷৷ মঞ্জু বসু প্রশ্নে মুখ পোড়ার পরও নিজের ‘খাসতালুকে’র অজুহাত দেখিয়ে তিনি চাইছিলেন নোয়াপাড়া থেকে জনপ্রিয় এক ফুটবলারকে প্রার্থী করতে৷ মুকুলের আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দিলীপ ঘোষের দুই অনুগামীকেই নোয়াপাড়া ও উলুবেড়িয়া উপনির্বাচনে প্রার্থী করল কেন্দ্র বিজেপি৷

সোমবার দুপুরে দিল্লির সদর দফতর থেকে নোয়াপাড়া ও উলবেড়িয়া উপনির্বাচনে বিজেপি যাদের নাম ঘোষণা করল, তাঁরা দু’জনেই দিলীপ ঘোষ মনোনীত প্রার্থী৷ যা দেখে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, আপাতত মুকুল নয়, দিলীপেই আস্থা রাখলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব৷

Advertisement

সোমবার দুপুরে এক বিবৃতিতে বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, উলবেড়িয়া লোকসভা উপ-নির্বাচনে লড়বেন দলের হাওড়া গ্রামীণের সভাপতি অনুপম মল্লিক ও নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে লড়বেন সংশ্লিষ্ট এলাকায় দলের দায়িত্বে থাকা নেতা সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দলের অন্দরে দু’জনেই দিলীপ ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত এবং সংশ্লিষ্ট দু’জনের নামই শীর্ষ নেতৃত্বর কাছে পাঠিয়েছিলেন দিলীপবাবু৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, মঞ্জু বসু পিছু হঠায় শুধু কাচরাপাড়া নয়, দলের শীর্ষ নেতৃত্বর কাছেও মুখ পুড়েছে মুকুল রায়ের৷ এই মুহুর্তে দলের অন্দরে তিনি কার্যত কোনঠাসা৷

আগামী ২৯ জানুয়ারী সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের উপ-নির্বাচন৷ ইতিমধ্যে তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম সহ প্রায় সব দলই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছেন৷ নির্বাচন দপ্তরে নমিনেশন পত্র ফাইলও করে ফেলেছেন তাঁরা৷ কিন্তু প্রার্থী করা নিয়ে দিলীপ বনাম মুকুলের দড়ি টানাটানির জেরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না শীর্ষ নেতৃত্ব৷ মুকুলের কথা শুনে যাও বা মঞ্জু বসুকে নোয়াপাড়া থেকে প্রার্থী করা হল, সেখানেও তৃণমূলের কাছে নাক কাটা গেল৷

বুধবারই মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন৷ফলে দ্রুত নাম ঘোষণার চাপ ছিলই৷ সূত্রের খবর, নোয়াপাড়া যেহেতু মুকুল রায়ের ‘খাসতালুক’ তাই রবিবার দুপুরে তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক করে মুকুল রায়ের পছন্দের প্রার্থী মঞ্জু বসুর নাম ঘোষণা করা হয়৷

এরপরই ১৮০ ডিগ্রি পাল্টি খেয়ে মঞ্জুদেবী সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দেন, ‘‘আমি বিজেপির হয়ে লড়ব না৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছি৷’’ যার জেরে চরম অস্বস্তির মধ্যে পড়ে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বরা৷ কারণ, প্রার্থী হিসেবে দল নাম ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পর স্বয়ং প্রার্থী পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত কথা বলছেন- এমন ঘটনা নজিরবিহীন৷ স্বভাবতই, রবিবার দুপুর থেকেই দলের অন্দরে চরম সমালোচনার মুখে পড়েন মুকুল৷ অবশেষে দিলীপ ঘোষের প্রার্থী তালিকায় শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিলমোহড় দেওয়ায় দলের অন্দরে মুকুল রায়ের ‘চাপ’ বাড়ল৷

আপাততঃ দিলীপ ঘোষই যে বঙ্গ বিজেপির মুখ, তা আরেকবার বুঝিয়ে দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ তবে, নোয়াপাড়া বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যা যা ঘটল, তাতে মুকুল রায়ের প্রতি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা যে কমল তা বলাই যায়৷ আর সেটা বোঝাতেই নোয়াপাড়া বিধানসভা আর উলুবেড়িয়া লোকসভা, দুটো উপনির্বাচনেই দিলীপ ঘোষ অনুগামীদেরই প্রার্থী করল তারা৷

----
--