তৃণমূলে উপেক্ষিত মুকুল-মদনকে দল ছাড়ার ‘নির্দেশ’ মমতার

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: দলের কোর কমিটিতে থাকলেও খোদ তৃণমূল কংগ্রেসেই এখন উপেক্ষিত মুকুল রায় এবং মদন মিত্র৷ এ দিকে, নারদকাণ্ডে সিবিআইয়ের এফআইআরে এক এবং দুই নম্বরে নাম রয়েছে এই দু’জনের৷ তার উপর, নিজেদের রাজনৈতিক জীবনের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে সরাসরি বিজেপিতে যোগদান করতে না পারলেও, নারদকাণ্ডে অভিযুক্তদের পৃথক দল গঠনের চর্চাও জারি রয়েছে ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে৷ এবং, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে মুকুল রায় এবং মদন মিত্রকে কোর কমিটির বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করার ‘নির্দেশ’ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিলেন বলেই মনে করছে ঘাসফুল শিবিরের ওই সব অংশ৷

আরও পড়ুন: পুজোর পরেই নারদের ‘কাঁটা’য় বিদ্ধ মুকুল রায়ের নেতৃত্বে পৃথক দলের ঘোষণা

শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির বৈঠকে দলনেত্রী এমনই জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, বিজেপির সঙ্গে যাঁরা গোপনে যোগাযোগ রাখছেন, তাঁরা দল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন৷ এবং, স্বয়ং দলনেত্রীর এই ধরনের মন্তব্যের জেরেই খোদ তৃণমূল কংগ্রেসেরই বিভিন্ন অংশে এখন চর্চা চলছে, কোর কমিটির বৈঠকে এই ধরনের কথা যখন বলেছেন দলনেত্রী, তখন যাঁদের লক্ষ্য করে তিনি এই ‘নির্দেশ’ দিয়েছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন৷ তা হলে, তাঁরা, কারা? শুধুমাত্র তাই নয়৷ একই সঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের ওই সব অংশে এমন চর্চাও চলছে যে, বিজেপির তরফে বিভিন্ন সময় দাবি করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অনেকেই আগামী দিনে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করবেন৷ বিজেপির তরফেও তৃণমূল কংগ্রেসের এমন কোনও কোনও নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন৷ তাঁদের কেউ আবার এ রাজ্যের মন্ত্রী হিসাবেও রয়েছেন৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: সিঙ্গুর রায় ঐতিহাসিক: মুকুল রায়

অন্যদিকে, নিজেদের রাজনৈতিক জীবনের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে পৃথক দল গঠন করা ছাড়া নারদকাণ্ডে অভিযুক্তদের সামনে তেমন আর বিকল্প পথ খোলা নেই৷ এবং, তার জন্য নারদকাণ্ডে অভিযুক্তরা যে চেষ্টা করবেন না, তাও নয়৷ সারদাকাণ্ডের তুলনায় নারদকাণ্ড অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছে৷ যে কারণে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে নারদকাণ্ডে অভিযুক্তদের সরাসরি দলে নিতে চাইবে না বিজেপি৷ তবে, নারদকাণ্ডে অভিযুক্তরা যদি পৃথক দল গঠন করেন, তা হলে সেই দলকে বিজেপি সমর্থন করবে৷ ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে শুধুমাত্র আবার এই ধরনের চর্চাই যে জারি রয়েছে, তাও নয়৷

আরও পড়ুন: ডানা ছাঁটল দল, মুকুলের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

একই সঙ্গে এমন চর্চাও জারি রয়েছে, বিজেপির লক্ষ্য এখন পশ্চিমবঙ্গ৷ আর, এই লক্ষ্য পূরণের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে দেওয়াই গেরুয়া শিবিরের অন্যতম লক্ষ্য৷ কারণ, গেরুয়া শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে যে ধরনের কর্মকাণ্ড জারি রয়েছে, তার জেরে নির্বাচনের মাধ্যমে এ রাজ্যে বিজেপির পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়৷ যে কারণে, তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে সরকার গড়ার লক্ষ্যে রয়েছে গেরুয়া শিবির৷ অন্য কয়েকটি রাজ্যেও কার্যত এ ভাবে সরকার গড়েছে বিজেপি৷

আর, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেই ঘাসফুল শিবিরের ওই সব অংশে এখন এই ধরনের প্রশ্নও উঠছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগের জন্য কি কোর কমিটির বৈঠকে এ দিন মুকুল রায় এবং মদন মিত্রকে ‘নির্দেশ’ দিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? একই সঙ্গে এমন চর্চাও চলছে যে, নারদকাণ্ডে সিবিআইয়ের এফআইআরে এক নম্বরে মুকুল রায় এবং দুই নম্বরে মদন মিত্রর নাম রয়েছে৷ অথচ, নারদকাণ্ডে অন্য অভিযুক্তদের তলব করা হলেও, এখনও পর্যন্ত এই দু’জনকে তলব করা হয়নি৷ এই দু’জনের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই এমন কোনও তথ্য মিলেছে, যার জন্য এফআইআরে এক এবং দুই নম্বরে তাঁদের নাম রয়েছে৷ তা হলে, কেন এই দু’জনকে এখনও পর্যন্ত তলব করা হল না?

আরও পড়ুন: অভিষেক ‘কাঁটায় বিদ্ধ’ মুকুল, এককাট্টা হচ্ছে আদি তৃণমূল

অন্যদিকে, দলে গুরুত্ব রয়েছে, এমন নেতারাই সাধারণত কোর কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন৷ ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে এমন চর্চাও চলছে, কোর কমিটিতে রাখা হলেও মদন মিত্রকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি৷ আর, মুকুল রায়কে পঞ্জাবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ এ ভাবে এই দু’জনকে দলে যেমন গুরুত্বহীন করে রাখার প্রয়াস জারি রাখা হয়েছে, তেমনই তাঁদের উপেক্ষাও করা হচ্ছে৷

কারণ হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেসের ওই সব অংশে এমন চর্চা চলছে, মাস কয়েক আগে পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন হয়ে গিয়েছে৷ এ দিকে, আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ ২০১৯-এ পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের আগে আগামী বছর ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ এই ধরনের পরিস্থিতিতে পঞ্জাবের দায়িত্ব দিয়ে মুকুল রায়কে কার্যত এই বার্তাই দেওয়া হল যে, হয় তিনি দলে থাকুন, না হয় সঙ্গ ত্যাগ করুন৷ এ ভাবে মুকুল রায়কে দলে আরও গুরুত্বহীন এবং উপেক্ষাও করা হল বলে মনে করছে ওই সব অংশ৷

আরও পড়ুন: মমতার ঘরে দিলীপের হানা, ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মে যোগদান মুকুল ঘনিষ্ঠদের

অন্যদিকে, মদন মিত্রর সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডর বিষয়ে দলনেত্রী ওয়াকিবহাল রয়েছেন বলেও ওই সব অংশ মনে করছে৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ কামারহাটিতে সম্প্রতি ‘বিজেপি ভারত ছাড়ো’-র কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলেও মদন মিত্র অনুপস্থিত ছিলেন৷ তার উপর, প্রাক্তন এই মন্ত্রী তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে অনেক কিছু ঘটে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন৷ এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে মুকুল রায় এবং মদন মিত্রকে এ দিন কোর কমিটির বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করার ‘নির্দেশ’ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিলেন বলেই এখন মনে করছে খোদ ঘাসফুল শিবিরেরই বিভিন্ন অংশ৷

আরও পড়ুন: বিজেপিতেই যাচ্ছেন মুকুল? অরুণ জেটলির বাড়িতে দীর্ঘ বৈঠক

Advertisement ---
---
-----