পরিকল্পিতভাবেই হিংসার পরিবেশ তৈরি করছে তৃণমূল: মুকুল

স্টাফ রিপোর্টার, নয়াদিল্লি: রামনবমী প্রশ্নে ফের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধনা করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷

বুধবার রাজধানী দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি দাবি করেছেন, ‘‘বিজেপি নয়, রামনবমীতে বাংলায় পরিকল্পিতভাবে হিংসার পরিবেশ তৈরি করেছে তৃণমূল৷ আই-ওয়াশ করতেই সেটা বিজেপির ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে৷’’ তিনি দাবি করেছেন, ‘‘সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ তাই বামেদের কায়দায় রাজ্যে সন্ত্রাসের পরিবেশ জারি রেখেছে শাসক তৃণমূল৷’’

রামনবমীকে কে নিয়ে গত ক’দিন ধরেই শাসক-গেরুয়া শিবিরের তরজা চলছিল৷ এদিন সেই তরজাকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের প্রাক্তন ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ডে’র দাবি, ‘‘মানুষকে কতদিন আর ভুল বুঝিয়ে সঙ্গে রাখা যায়! পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে৷ বাধ্য হয়েই রাজ্যে সন্ত্রাস, হিংসার পরিবেশ কায়েম করছে শাসকদল৷ আর মিথ্যে মামলা করা হচ্ছে আমাদের নেতা-নেত্রীদের নামে৷’’

- Advertisement -

ঘটনাচক্রে রাজধানী দিল্লি থেকে রামনবমী প্রশ্নে যখন তৃণমূলের তুলোধনায় ব্যস্ত মুকুল, ঠিক তখনই বাংলার মাটিতে বসে রামনবমী প্রশ্নে বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি দাবি করেছেন, ‘‘বাংলায় হিংসার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি৷ রামনবমী তার প্রমাণ৷’’

রামনবমী প্রশ্নে ইতিমধ্যে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ো৷ কেন্দ্রের তরফে এদিনই রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে৷

এ হেন প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে এদিন সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকরও৷ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী সরাসরি দাবি করেছেন, ‘‘রামনবমীর দিন শোভাযাত্রায় যারা আক্রমণ করেছিল, তারা তৃণমূলের গুন্ডা৷ ইতিমধ্যে দু’জন মারা গিয়েছেন৷ বোমার আঘাতে একজন পুলিশ অফিসারের হাত উড়ে গিয়েছে৷’’ এই হামলা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। এই দাবি করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়েই জোরালো প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি৷

রামনবমীতে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করলে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নেবে, এই নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেদিকে ইঙ্গিত করেই প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, ‘‘রামনবমীতে বাংলায় মিছিল করার কোনও অনুমতি তো ছিল না৷ তা সত্ত্বেও মিছিল হল কী করে? পুলিশ প্রশাসন কী করছিল?’’ ইতিমধ্যে কেন্দ্রের তরফে রাজ্যকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে রাজ্য চাইলে আধা সামরিক বাহিনী পাঠানো হতে পারে৷ যদিও এর মধ্যে রাজনীতির ‘গন্ধ’ দেখছে শাসকশিবির৷ এই শিবিরের মতে, পঞ্চায়েতের মুখে রাজ্যে আধা সেনা পাঠিয়ে বিজেপি প্রমাণ করতে চাই এ রাজ্যে আইনের শাসন নেই৷

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাম নবমীকে কেন্দ্র করে বাংলায় বর্তমান শাসক বনাম গেরুয়া শিবিরের যা হাল, তাতে এ যে সেই রবি ঠাকুরের ছোটগল্পের সংজ্ঞা, ‘শেষ হয়েও হইল না শেষ’-এর মতো৷ রামনবমী হয়ে গিয়েছে রবিবার৷ কিন্তু তার রেশ এখনও রাজ্যজুড়ে বইছে প্রবলভাবেই৷

Advertisement
---