মমতাকে হারানোর জন্যে আমাদের সঙ্গে এসেছেন মুকুলজি: অমিত শাহ

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর জন্যে আমাদের সঙ্গে এসেছেন মুকুল রায়জি৷’’ মঞ্চ থেকে মুকুল রায়ের উদ্দেশ্যে বললেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ এর আগে কলকাতা বিমানবন্দরে অমিতকে অভ্যর্থনা করাতে রাজ্য বিজেপির যে দল পৌঁছেছিল সেখানেও ছিলেন মুকুল৷ সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে সেখানেই তাঁর দেখা হয়েছে৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ৭ হাজার আসনে জয় পেয়ে অমিত শাহে খাতায় ইতিমধ্যেই বড় নম্বর পেয়েছেন মুকুল৷ দিল্লির নেতৃত্বের ‘গুড বুকে’ই যে রয়েছেন মুকুল রায়, তা মঞ্চ থেকে তাঁর উদ্দেশ্যে অমিত শাহের সম্ভাষণই বুঝিয়ে দিয়েছে৷

তৃণমূল কংগ্রেস ফেরৎ মুকুল রায় ২০১৭ সালের মভেম্বর মাসে বিজেপিতে এসেছেন৷ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন একদল বিক্ষুদ্ধ তৃণমূলের নেতা-কর্মীসহ বড়মাপের জনসমর্থন৷ এই কয়েক মাস তিনি কী কী করতে পেরেছেন, তা নিয়ে ছবির-পুস্তিকাও প্রকাশ করেছেন মুকুল৷ তিনি দলে যোগ দেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত কোনও বিধানসভা বা লোকসভা উপনির্বাচনে জেতেনি বিজেপি৷ কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজেপির ভোট বেড়েছে৷ সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ‘কামাল’ করেছেন বাংলার রাজনীতির চাণক্য৷ কংগ্রেস-বামফ্রন্টকে দূরে ছুঁড়ে ফেলে গ্রাম বাংলায় প্রধান বিরোধী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন বিজেপি৷ শাসকদলের ‘মেশিনারি’ সেখানে বড় বাধা না হয়ে দাঁড়ালে আরও বড় সাফল্য আসতে পারতো, সেখথা বুঝেছেন অমিত শাহ ৷

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে মুকুল রায়কে পার্টির পঞ্চায়েত নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক হয়৷ অমিত শাহ তাঁকে পঞ্চায়েতের দায়িত্ব দিয়ে যে কোনও ভুল করেনি তা বুঝিয়ে দিয়েছেন মুকুল৷ অনেকেই বলে থাকেন, বিজেপিতে বড় পদে চাকরি করছেন মুকুল৷ পারফরম্যান্সই তার শেষ কথা৷ যে দলটা খাতায় কলমে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ছিল, কিন্তু নির্বাচনের মার্কশিটে যাদের দুরবীন দিয়ে দেখতে হত, সেই দলটাকেই এখানে প্রাসঙ্গিক বানিয়েছেন মুকুল৷ সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন মমতাকে৷ আর এই পারফরম্যান্সের কারণেই কিছুদিন আগে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন মুকুল৷

- Advertisement -

২০১৭ নভেম্বরে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে মুকুল রায় বিজেপিতে আসার পরই সবংয়ে উপনির্বাচন হয়েছিল৷ সেই নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী গীতারানি ভুঁইয়া ৬৪ হাজার ১৯২টি ভোট পেয়ে ওই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন৷ সিপিএমের প্রার্থী ৪১ হাজার ৯৮৯টি ভোট এবং বিজেপির প্রার্থী ৩৭ হাজার ৪৮৩টি ভোট পেয়েছিলেন৷ ভোট গণনার শেষে দেখা যায়, বিজেপি প্রার্থী কিন্তু ২.৬ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত ভোট বাড়িয়ে নিতে পেরেছেন৷

এর পর গত জানুয়ারিতে উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী অনুপম মল্লিকের ভোট বেড়েছে ৬০০ শতাংশ ৷ ২০০৯-এ ওই কেন্দ্রে বিজেপি ভোট পেয়েছিল মাত্র ৪২ হাজার ৪৪৩ টি৷ জানুয়ারিতে একই সঙ্গে নোয়াপাড়া বিধানসভার উপনির্বাচন হয়েছিল৷ বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৮ হাজার ৭১১ টি ভোট পেয়েছেন ৷ সন্দীপের পাওয়া ভোটের বিশ্লেষণ দেখা গিয়েছে ওই কেন্দ্রে বিজেপির ভোট বেড়েছে ৪০০ শতাংশ ৷

Advertisement ---
-----