মুকুলের বিরুদ্ধে এখনই আইনগত ব্যবস্থা নয়! জানাল আদালত

কলকাতা:  মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে রেলের চাকুরির প্রতারনা মামলার শুনানি শেষ , রায়দান স্তগিত । তবে রায় না হাওয়া পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্তা নিতে পারবেন না মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে। রায়ে এমনটাই জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে রেলের চাকুরী দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারনা ১২ টিএফ আই আর রুজু হয় । ৯টি অভিযোগ হয় বিজাপুরথানায় ২ টি নোইহাটি এবং একটি নোয়পাড়া থানায় । সবগুলি এফআই আর খারিজ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুকুল রায় । গত ১১ই জুন ২০১৮ সালে ৯ টি মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্তগিত রাখেন বিচারপতি শিবকান্ত প্রাসাদ। পাশাপাশি বাকি দুটি মামলার শুনানি শেষ না হাওয়া পর্যন্ত মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্তা নিতে পারবেন না বলেও পুলিশ কে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতির ।

বুধবার দুটি মামলাচলাকালীন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন নোয়াপাড়া থানা ও নোইহাটি মামলার প্রসঙ্গে অতিরিক্ত হলফনামা সহ-কেস ডায়রি এবং সৃজন রায়ের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত নথিপত্রের তালিকা আদালতে পেশ করেন তিনি । এবং বলেন, ২০১২ সালের জানুযারিতে জনৈক রবি কুমার যাদবের কাছ থেকে রেলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রথমে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেন মুকুলের শ্যালক সৃজন রায়। এই লেনদেনের মধ্যস্থতা করেন অপর অভিযুক্ত আশিষ দত্ত।

- Advertisement -

এজির অভিযোগ, সৃজন রায়ের বাড়িতে অভিযোগকারী আরও ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিল আশিষ কে । এর পরেও বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা সহ মোট ৩ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। সেই সময়ে রেলমন্ত্রী ছিলেন মুকুল রায় । রবিবাবুকে আশ্বাস দেওয়া হয় মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য এই অর্থ প্রয়োজন। এরপর কাঁচড়াপাড়া রেল হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর সেবছরের আগস্ট মাসে একটি ভুয়ো নিয়োগপত্র দিয়ে ফেয়ারলি প্লেসে রেলের সদর দপ্তরে গিয়ে রবিবাবুকে যোগাযোগ করতে বলে আশিষ দত্ত। এই আশিষ দত্ত রেলের কর্মচারি হলেও ৫ বছর ধরে নিজের কাজে যোগ দেননি। কিন্তু রবিবাবুকে টাকার পরিবর্তে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও তিনি চাকরি পাননি।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে মুকুল রায় সৃজন রায় এবং আশিষ দত্তের বিরুদ্ধে নোয়াপাড়া থানায় এফআইআর দায়ের করেন রবিবাবু। সেই মত তদন্তে নেমে সৃজন রায়ের বাসভবন থেকে রেলের নিয়োগপত্রের ভুয়ো প্যাড ছাড়াও বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তীতেই পুলিশ তদন্তে নামে গ্রেপ্তার করে সৃজন রায়কে । আইনানুয়ায়ী এই মামলা খারিজ করা যায় না । তবে অভিযুক্তেরা গ্রেপ্তারের হাত থেকে বাঁচার জন্যে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। যদি পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয় যে অভিযোগগুলো মিথ্যে তাহলে আদালত চাইলে মামলা খারিজ করতে পারেন ।

কারণ , এফআইআর দায়েরর পর মামালা খারিজ করা যায় না । তখন বিচারপতি প্রসাদ এজি কে প্রশ্ন করেন , রবিবাবুকে যে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল সেটি কোথায়? উত্তরে এজি জানান, সেটিও দ্রুত আদালতে পেশ করা হবে । এরপর অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী সুদীপ্ত মৈত্র বলেন, অভিয়োগকারির কাছ থেকে কি কোনও নিয়োগপত্র বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ ? যে ফাঁকা লেটার হেড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তা ৬ বছর পুরোনো না মামলার জন্যে নতুন করে পরে তা তৈরি করা হয়েছে তাও তদন্ত করা উচিৎ। সব পক্ষ ক্ষতিয়ে দেখে মামালার রায়দান পর্ব স্থগিত করে দেন বিচারপতি।

উল্লেখ্য , ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রী থাকাকালীন মুকুল রায়ের শ্যালক সৃজন রায় রেলের চাকুরী দেওয়ার নাম করে সাড়ে তিনলাখ টাকা করে নিয়ে ছিলেন বলে বিজাপুর থানায় অভিযোগ হয় মুকুল রায় এবং শ্যালক বিজন রায়ের বিরুদ্ধে । পুলিশ তাদের বিরুদ্বে ভারতীয় ফৌজদারির ৪৬৭,৪৬৮,৪৭১,৪৭২,৩৪,এবং ১২০ বি ধারায় মামলাও রুজু করেন । সবগুলি অভিযোগ হয় ২০১৮ সালে ।

Advertisement
---