স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলায় গোপন রিপোর্ট জমা দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক৷ মামলার বয়ান অনুযায়ী, ২৪ শে নভেম্বর ২০১৭-য় বিধাননগর পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা কেন, এই প্রশ্নেই কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন৷ তাঁর আবেদন ছিল, রাজ্যের মানুষের টাকায় কেন একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তিকে এই নিরাপত্তা দেওয়া হবে?

গত ডিসেম্বর মাসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট তলব করে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কোন পরিপ্রেক্ষিতে মুকুল রায় কে ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে৷ সেই শুনানিতে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল কৌশিক চন্দ্র জানিয়েছিলেন, মুকুল রায় নিজেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে৷

Advertisement

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে মুকুল রায়ের আইনজীবী পার্থ ঘোষ আদালতে জানান, বিজেপি নেতা মুকুল রায় যখন তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন তখন রাজ্য সরকার তাঁকে নিরাপত্তা দিয়েছিল৷ তখন কেন এই ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেননি মামলাকারী?

যদিও মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, যখন মুকুল রায়ের ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা ছিল তখন তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন৷ তাই রাজ্য সরকার তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল৷ কিন্তু বর্তমানে মুকুল রায়ের পরিচয় তিনি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়া আর কিছু নয়৷ তা হলে কেন তাঁর জন্য সরকারি কোষাগারের টাকা নষ্ট করে এই নিরাপত্তা?

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল কৌশিক চন্দ্র বলেন, মুকুল রায়কে প্রথমে রাজ্য সরকার জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দিয়েছিল৷ পরে সেটা ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা করা হয়৷ এবং, সর্ব শেষে মুকুল রায় পেতেন ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা৷ সমস্ত বিষয় মূল্যায়ণের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁর নিরাপত্তা দিয়েছে৷

মামলাকারীর আইনজীবী বলেন, তা হলে দেশের প্রতিটি নাগরিককেই তো নিরাপত্তা দিতে হয়৷ প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য বলেন, মুকুল রায়কে নিরাপত্তা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ তাতে আপনার সমস্যা কোথায়? এ দিন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল কৌশিক চন্দ্র মুখ বন্ধ খামে প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা রিপোর্ট জমা দেন৷ জুন মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে৷

----
--