‘গুরু’ দায়িত্ব নিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন মুকুল

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: যতদিন যাচ্ছে মুকুল ফোটার উত্তেজনার পারদ চড়ছে সব মহলে৷ কেউ বলছে আজই হবে, কারও মুখে আবার না এখনও দেরি আছে৷ তবে রাজধানী সূত্রে খবর, পথ একদম প্রস্তুত যেকোনও সময়ে পদ্ম শিবিরে নাম লেখাতে পারেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা আস্থা ভাজন মুকুল রায়৷ পেতে চলেছেন দুই রাজ্য সহ পঞ্চায়েত ভোটের গুরু দায়িত্ব৷ এক কথায় তৃণমূলের অস্ত্রেই তৃনমূলকে ঘায়েল করার দায়িত্ব৷

নভেম্বরে বিপ্লব ঘটিয়ে পদ্মে ফুটবে মুকুল

দুর্গা পুজোর আগে তৃণমূলের সঙ্গে মুকুল রায়ের সম্পর্ক ছেদ হওয়ার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে৷ এক মাস কেটে গেলেও এখনও হালে পানি পাননি তৃণমূলের একদা ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’৷ কবে ডাক আসবে ১১ অশোক রোড থেকে সেই প্রতীক্ষায় রাজধানীতেই ঘাঁটি গেড়েছিলেন তিনি৷ প্রতীক্ষার শেষ হয় গত ২৮ অক্টোবর৷ সূত্রের খবর, বিজেপি সাংসদ ওম মাথুরের বাড়িতে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন মুকুল রায়৷ উপস্থিত ছিলেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়৷ সূত্রের খবর, যোগদান পর্ব নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়৷ আলোচনার টেবিলে মুকুল কার্যত ইন্টারভিউ দেওয়ার ভঙ্গিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নিজের রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরেন৷ তারপরেই বিজেপি নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেন, চলতি মাসে নয় নভেম্বরে যোগদান পর্ব হবে৷

বিরোধ ভুলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মুকুলকে আমন্ত্রণ রাহুলের

মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়৷ ইতিমধ্যেই রাজ্যের বুথ ধরে ধরে কোথায় বিজেপি দুর্বল, অতি দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় তার তালিকা তৈরি করে রেখেছেন মুকুল রায়৷ এদিনের বৈঠকে রাজ্যের বুথওয়ারি সেই তালিকা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বর হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি৷ একই ভাবে তৃণমূলের শক্তির সমীক্ষাও কিছুটা অমিতের সামনে পেশ করেছেন তিনি৷ কোন কৌশলে হাঁটলে বাংলায় ঘাস ফুলের বাগানে পদ্ম ফোটানো সম্ভব, তাও জানিয়েছেন অমিত শাহদের৷ মিলেছে ইতিবাচক বার্তা৷ সূত্রের খবর, বৈঠকের পরে মুকুলকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে একপ্রকার সবুজ সংকেত দিয়েছে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব৷ সেক্ষেত্রে একদা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া পদ্ম শিবিরে পেতে পারেন অল ইন্ডিয়া জয়েন্ট সেক্রেটারির পদ৷ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার৷ সঙ্গে থাকছে আগামী বছরের গোড়ার দিকে এরাজ্যে হতে চলা পঞ্চায়েত ভোটের গুরু দায়িত্ব৷

তবে বিজেপি-র রাজ্য নেতৃত্ব এখনই মুকুল রায়কে নিয়ে কিছু বলতে চাইছেন না৷ মুকুল বলকে কার্যত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোর্টে পাঠিয়েই ক্ষান্ত থাকতে চাইছেন তারা৷ মুকুলের যোগদান নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে ‘এখনও তেমন কিছু জানান হয়নি’ বলেই ইতি টেনেছেন তিনি৷ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন মুকুল ইস্যু এখনও ঝুলে রয়েছে৷ সোমবার দিল্লি থেকে রাজ্যে ফিরেছেন রাজ্যের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তথা বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়৷ রাজ্যে রয়েছেন গেরুয়া দলের আরও এক শীর্ষ নেতা শিবপ্রকাশ৷ বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে আগামী তিন, চার দিন পশ্চিমবঙ্গে থাকবেন তারা৷ সূত্রের খবর, এরই মধ্যে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে মুকুল ইস্যুকে এখানেই শেষ করতে চাইছেন বিজেপি-র সব নেতৃত্ব৷

Advertisement
----
-----