স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: পূর্ব ঘোষণা মতো ‘প্লাষ্টিক মুক্ত শহর’ গড়তে জরিমানার পথেই হাঁটল বাঁকুড়া পুরসভা। শুক্রবার উপ পুরপ্রধান দিলীপ আগরওয়ালের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী, পুর কর্মী ও আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধি দল বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা সংলগ্ন বাজার ও কোর্ট চত্ত্বর এলাকায় প্লাষ্টিকের ব্যবহার রুখতে অভিযান চালান।

পুরসভার নির্দেশ অমান্য করে এদিন প্লাষ্টিক ব্যবহার করার কারণে পাঁচ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও ঐসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক কেজি ক্যারিব্যাগ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

শহরকে প্লাষ্টিক ক্যারিব্যাগ ও থার্মোকল মুক্ত করতে কয়েক মাস আগে থেকেই উদ্যোগ নিয়েছিল বাঁকুড়া পুরসভা। ধারাবাহিক প্রচারের পাশাপাশি উপ পুরপ্রধান দিলীপ আগরওয়াল নিজে নিয়মিত শহরের দোকান গুলিতে ঘুরে ঘুরে প্লাষ্টিক ক্যারিব্যাগ বিক্রি ও ব্যবহার না করতে অনুরোধ করেছিলেন।

এই ধারাবাহিক সচেতনতামূলক প্রচারে প্রাথমিকভাবে কাজ হলেও ক্যারিব্যাগের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। সেকারণে শহরের দোকান গুলিতে একশো শতাংশ ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করতে ‘স্পট ফাইনে’র পথেই নামল পুরসভা বলে জানা গিয়েছে৷

এদিন ক্যারিব্যাগ ব্যবহার করে ‘জরিমানা’ দেওয়া মাচানতলা এলাকার এক ফল ব্যবসায়ী রাজু ডাঙ্গর বলেন, পুরসভা স্বীকৃত ক্যারিব্যাগের দাম প্রতি পিস দু’টাকা করে দাম পড়ছে। সেই টাকা খদ্দেরদের কাছেই তুলতে হবে। জিনিসের দাম বাড়ালে বিক্রি কমছে। ফলে বাজার চলতি ক্যারিব্যাগই ব্যবহার করতাম। এদিন ৫০০ টাকা ‘ফাইন’ দেওয়ার পর আর ক্যারিব্যাগ ব্যবহার করবেন না জানান। একই সঙ্গে ঐ ক্যারিব্যাগ তৈরীর কারখানা গুলি বন্ধে প্রশাসন কেন কোন ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছেনা, সেবিষয়েও প্রশ্ন তোলেন এই ব্যবসায়ী।

অন্য এক ব্যবসায়ী বামাপদ ডাঙ্গরও একই অভিজ্ঞতার কথা শোনান। তিনিও প্লাষ্টিক ক্যারিব্যাগ ব্যবহারের কারণে ৫০০ টাকা জরিমানা দিয়েছেন বলেন স্পষ্টতই স্বীকার করেন।

উপ পুরপ্রধান দিলীপ আগরওয়াল বলেন, এদিন সকালে খবর পাই মাচানতলা পুরসভা ও স্টেট ব্যাঙ্ক সংলগ্ন এলাকার ফল ও সবজি ব্যবসায়ীরা প্লাষ্টিক ক্যারিব্যাগ ব্যবহার করছেন। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে তাদের এই কাজ করতে বারণ করা হলেও তারা শোনেননি। তখন ঐ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও পুর কর্মী-আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে অভিযানে বেরিয়ে পাঁচ জন ফল বিক্রেতাকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শহরের দূষণমুক্ত ও নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক রাখতে প্লাষ্টিক ক্যারিব্যাগ ও থার্মোকলের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এই দুইয়ের ব্যবহারের ফলে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। ফলে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপের সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছে। এই মুহূর্তে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্যারিব্যাগের বন্ধ করা গিয়েছে দাবি করে এই কাজে সংশ্লিষ্ট সকলকে পুরসভার সঙ্গে সহযোগিতার আবেদন জানান। তিনি আরো বলেন, এবার বিক্রেতার ৫০০ টাকার পাশাপাশি ক্রেতাদেরও ৫০ টাকা জরিমানা করা হবে।

--
----
--