প্রতিবেশীর তরুণী স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে ভয়ঙ্কর পরিণতি চারকন্যার পিতার

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: অসুস্থ বাবাকে নিয়ে কলকাতায় গিয়েছেন ছেলে৷ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণীর প্রেমিকার ঘরে ঢুকে পড়েছিলেন মধ্য বয়স্ক এক ব্যক্তি৷ গভীর রাতে ফাঁকা বাড়িতে যখন ঘনিষ্ঠতার মাত্রা প্রায় চরমে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই বাড়ি ফেরেন ওই তরুণীর স্বামী৷

ওই তরুণীর বিয়ে হয়েছে মাস তিনেক আগেই৷ ফলে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে প্রতিবেশীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন ওই যুবক৷ পরকীয়ায় আচমকা ছন্দপতনের জেরে কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলেন তরুণী ও তাঁর মধ্যবয়স্ক প্রেমিক৷

আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়ায় সুখবর পাড়লেন আবীর

- Advertisement -

অভিযোগ, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আক্রান্ত হন মধ্যবয়স্ক প্রেমিক৷ তরুণীর স্বামী তাঁকে প্রথমে শিল-নোড়া দিয়ে আক্রমণ করেন৷ তাতে নাড়ুগোপাল জানা নামে বছর ৪২-এর ওই ব্যক্তি গুরুতর জখম হন৷ এর পর তাঁকে কাটারি দিয়ে কোপান ওই অভিযুক্ত৷

আক্রমণের হাত থেকে বাদ যাননি বিশ্বনাথ হাতি নামে ওই যুবকের স্ত্রীও৷ তিনি গুরুতর জখম হন৷ আপাতত তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক৷

আরও পড়ুন: জল সরতেই ভগবানের হাতের দর্শন পেল কেরল

শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটে পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগর থানার মহিষদা গ্রামে৷ স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ৷ গ্রেফতার করে অভিযুক্ত বিশ্বনাথ হাতিকে৷ নাড়ুগোপালের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়৷ পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্বনাথ খুনের কথা স্বীকার করেছেন৷ স্ত্রী প্রতিবেশীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ায় এই খুন বলেই তিনি পুলিশের কাছে দাবি করেছেন৷

ওই গ্রামেরই বাসিন্দা মানসী হাতি৷ তিনি বলেন, ‘‘রাতে চিৎকার শুনে আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম বিশ্বনাথের ঘরে কেউ বিদ্যুৎষ্পৃষ্ট হয়েছেন। সেই জন্য পাড়ার কয়েকজন গিয়ে ট্রান্সফরমারের জাম্পার ফেলে আসেন। পরে ওঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে নাড়ু আর বিশ্বনাথের স্ত্রী। কাটারি হাতে দাঁড়িয়ে বিশ্বনাথ। এরপরই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।’’

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের দাবি মেনে মেট্রো স্টেশনে তৈরি হবে “পাবলিক টায়লেট”

নাড়ুগোপালের সঙ্গে বিশ্বনাথের স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জানতে পেরে হতবাক প্রতিবেশীরা৷ কারণ, মাত্র তিন মাস আগেই বিশ্বনাথের ওই তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হয়৷ দু’জনের সম্পর্ক ভালোই ছিল৷ তার উপর নাড়ুগোপাল মধ্যবয়স্ক৷ বিবাহিত৷ তাঁর চার মেয়ে বর্তমান৷ বড় মেয়ের বিয়েও হয়ে গিয়েছে৷ ফলে এমন একটি অসম সম্পর্ক কীভাবে হল, সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন এলাকার বাসিন্দারা৷

আরও পড়ুন: প্রয়াত প্রাক্তন সাংসদের মৃতদেহের সঙ্গে সেলফি হাসপাতাল কর্মীদের

Advertisement ---
---
-----