মাশরুম চাষ করে রোজগার করছেন চা শ্রমিকরা

ছবি:প্রতীকী

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়িঃ চা ছেড়ে মাশরুম চাষে মন দিয়েছেন চা বাগানের শ্রমিকরা৷ আর এই মাশরুম চাষ করে ধীরে ধীরে লক্ষ্মীর মুখ দেখতে শুরু করেছেন তারা৷ আসলে ডুয়ার্সের বন্ধ এবং রুগ্ন চা বাগানের শ্রমিকদের কর্মস্থানমুখী করে তুলতে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন৷ এর ফলে চা বাগানের শ্রমিকদের অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য অনেকটাই ফিরে আসবে বলে মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা৷ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ সেই মাশরুম যাতে মিডডে মিল ও হাসপাতালের রোগীদের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় কিনা এখন সেই নিয়ে চলছে চিন্তাভাবনা৷

ইতিমধ্যে শ্রমিকদের মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে৷ শ্রমিকদের মধ্যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করে তাদের মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু শ্রমিক মাশরুম চাষ করে এখন থেকেই লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। শ্রমিকরা লাভের মুখ দেখায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি জেলা প্রশাসনও৷ জেলা শাসক রচনা ভগত জানিয়েছেন, মাশরুম চাষে সময় কম ব্যয় হয় এবং পরিশ্রমও অনেক কম৷ এর ফলে চা বাগানের শ্রমিকদের অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য অনেকটাই ফিরে আসবে৷ এই মাশরুম যাতে মিডডে মিল ও হাসপাতালের রোগীদের খাবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় সেই চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে৷

বর্তমানে জলপাইগুড়ি জেলায় বন্ধ ও রুগ্ন বাগানের সংখ্যা ১৯টি৷ প্রায় আট হাজার শ্রমিক কর্মহীন৷ বাগানে কাজ না থাকায় অর্থ সংকটে ভুগছেন তারা৷ কেউ তাই কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছে ভিন রাজ্যে৷ কেউ আবার নদীতে পাথর ভেঙে সামান্য অর্থ উপার্জন করে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে৷ কিছু বাগান খোলা থাকলেও বেতন অনিয়মিত বলে অভিযোগ৷ এই পরিস্থিতিতে চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়৷ তাই তাদের দিয়ে মাশরুম চাষের পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন৷

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, চা বাগানের প্রায় ৮ হাজারের বেশি মানুষকে সংঘবদ্ধ করে ৭৬৮টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। ৭৬৮টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মধ্যে ৪০৩টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা ইতিমধ্যে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বাকি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ চলছে। প্রথম ধাপে সামসিং, কিলকোট, নাগেশ্বরী, বাগরাকোট, রেডব্যাংক সহ বেশ কয়েকটি চা বাগানের শ্রমিকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে মাশরুম চাষ শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে নাগেশ্বরী ৩৮০কেজি, সামসিং ৪৪০ কেজি, বাগরাকোট ৪০০ কেজি এবং রেডব্যাংক চা বাগান ১৩৪ কেজি মাশরুম উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করা হয়েছে৷ তাতে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে তারা৷ এতে যেমন শ্রমিকদের মনোবল বাড়ছে, তেমনই আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন৷

প্রাথমিক পর্যায়ে মাশরুম চাষের জন্য ঘর থেকে শুরু করে যাবতীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজ করে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে মাশরুমের ভালো চাহিদা রয়েছে। এমনকি পাহাড়ি এলাকা থেকেও মাশরুম কেনার জন্য যোগাযোগ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক জেলা আধিকারিক। মাশরুম যেহেতু প্রোটিন এবং ভিটামিন জাতীয় খাদ্যের মধ্যে পড়ে, তাই পরবর্তীতে মিডডে মিলের খাদ্য তালিকায় সংযোজন করা যায় সেই চিন্তাভাবনা ইতিমধ্যে শুরু করেছে জেলা প্রাশসন। সেই সাথে জেলার হাসপাতাল এবং সরকারি কলেজগুলোর হোস্টেলের ছাত্রছাত্রীদের খাদ্য তালিকায় এই মাশরুমকে সংযোজন করা যায় সেই বিষয়টিও দেখছে জেলা প্রশাসন।

Advertisement ---
-----