নয়াদিল্লি: হজে যাওয়ার জন্য মুসলিম মহিলাদের পুরুষ অভিভাবকের প্রয়োজন৷ ইসলামের সেই বিধানকে আর এখন মান্যতা দেয়না কেন্দ্র৷ বর্ষশেষের শেষ মন কি বাত অনুষ্ঠানে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ এই ধর্মাচারণ বৈষম্যমূলক বলে বর্ণনা করেছেন মোদী৷

১৩০০ জন মুসলিম মহিলা পুরুষ অভিভাবক ছাড়া হজে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন৷ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ, যদি কোনও মুসলিম মহিলা হজে যেতে চান, তবে তাঁকে পুরুষ সঙ্গী বা অভিভাবকের জন্য অপেক্ষা করতে হয়৷ এই নিয়মের পালন করার অর্থ অন্যায় ও লিঙ্গবৈষম্যকে সমর্থন করা, একে মানা যায়না বলে এদিন তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন মোদী৷

হজযাত্রার জন্য একটি বিশেষ লটারি ব্যবস্থা রয়েছে৷ সেই লটারির মাধ্যমে যাত্রীদের বেছে নেওয়া হয়৷ মোদী জানিয়েছেন, কোনও মুসলিম মহিলা যদি একা হজে যাওয়ার আবেদন করেন, তবে তাঁকে এই লটারি ব্যবস্থায় যোগ দিতে হবে না৷

এরআগে, মুসলিম মহিলারা আগামী বছর থেকে যাতে কোনও পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই হজে যেতে পারেন, সেই প্রস্তাব নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছিল কেন্দ্র৷ তবে বলা হয়েছিল সেই হজযাত্রী মহিলাদের বয়স ৪৫-র বেশি হতে হবে, আর পুরোপুরি একলা নয় – তাদের অন্তত চারজনকে দল বেঁধে যেতে হবে৷ যদিও এই প্রস্তাবের ঘোর বিরোধিতা করেছে মুসলিম ধর্মীয় সমাজ৷ তাদের বক্তব্য, এই প্রস্তাব শরিয়া-বিরোধী এবং মেয়েদের অত দূরে একা যাওয়ার অনুমতি ইসলামে নেই।

কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য দাবি করছে, এটি একটি ‘সংস্কারমূলক পদক্ষেপ’ এবং তা রূপায়নে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। শুধু শর্ত থাকবে তাদের বয়স আর দলের ন্যূনতম আকার নিয়ে।

হজ পর্যালোচনা কমিটির প্রধান আফজাল আমানুল্লার দাবি, এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য তারা ইতিমধ্যেই সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতিও পেয়েছেন, ফলে আগামী বছর থেকে ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে মহিলাদের কোনও দল যদি হজে যেতে চান, তাদের সৌদি ভিসা পেতে কোনও সমস্যা হবে না।

----
--