নয়াদিল্লি: তিন তলাক হালালার পর এবার সুপ্রিম কোর্টে আর একটি আবেদন জমা পড়েছে৷ তাতে বলা হয়েছে ইসলাম ধর্মের নামে চাঁদ তারা আঁকা সবুজ রঙের পতাকাকে ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হোক৷

আবেদনকারী ওয়াসিম রিজভি তাঁর দলিলে বলেছেন, চাঁদ আর তারা আঁকা মুসলিম লিগের ওই সবুজ পতাকার সঙ্গে ইসলাম ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই৷ এমনকি সবুজ রঙ ও চাঁদ তারার সঙ্গেও ইসলাম ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই৷ এগুলো ইসলামের অভিন্ন অঙ্গও নয়৷ এটা শত্রু দেশের রাজনৈতিক পতাকা৷ ইসলাম ধর্মের নামে এই পতাকা ওড়ায় যারা তার শুধুমাত্র পাকিস্তানের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক রয়েছে এটা ভেবেই করে৷ সিয়া ইউপি ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান ওয়াসিম রিজভি তাঁর আবেদন পত্রে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছেন ১৯০৬ সালে তৈরি এই পতাকা মুসলিম লিগের ছিল৷ ১৯৪৬ এ যেটি শেষ হয়ে যায়৷ দেশ বিভাজনে বিশেষ ভূমিকা বা বড় হাত ছিল যে মুসলিম লিগের তারা ১৯৪৭ পাকিস্তানে গিয়ে নিজেদের গায়ে নতুন বস্ত্র চড়ায়৷ নতুন নাম নেয়৷ কিন্তু পতাকাটি তারা বদল না করে সেই একই সবুজ রঙের উপর চাঁদ তারা আঁকা দলিয় পতাকাটিকেই রেখে দেয়৷

তিনি জানিয়েছেন, পার্টি সেই একই পতাকাকে রেখে দেয় কিন্তু দলের নাম ‘মুসলিম লিগ’ থেকে বদলে ‘কায়দে আজম’ নামে নতুন নামকরণ করা হয়৷ এরপর ওই পতাকারই খানিকটা অংশ সাদা করে দিয়ে পাকিস্তানের পতাকা তৈরি করা হয়৷ দেখতে একই থাকে৷ শুধু সাদা রঙ সংযোজন করা হয়৷ এদেশের বড় বড় বিল্ডিংএ সেই পতাকাকে ধর্মের নামে ওড়ানো কেবল নিজের দেশের সংবিধান, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়৷ ধর্ম বা সংখ্যালঘুত্বের আড়ালে শত্রু দেশের একটি রাজনৈতিক পতাকা নিজেদের বাড়িতে বা বিল্ডিংয়ের মাথায় কিমবা জনসাধারণের সামনে ওড়ানোকে এদেশের সংবিধান কোনও ভাবেই সমর্থন করেনা৷

রিজভি আরও জানিয়েছেন, ইসলামে সবুজ রঙ নয় কালো রঙকে প্রাধান্য দেওয়া হয়৷ তিনি জানিয়েছেন হজরত মহম্মদেরও কালো রঙই বেশি পছন্দের ছিল৷ সেই কারনেই তার আর এক নাম ‘কালি কমলি বালে’৷ হদিশেও বলা আছে, হজরত মহম্মদ সাহেব কালো আমামা পরতেন৷ এর পাশাপাশি কাবা শরিফের গিলাফও কালো রঙের বলেই তাঁর যুক্তিতে জানিয়েছেন ওয়াসিম রিজভি৷ তিনি এও বলেছেন, হজরত মহম্মদ সাহেব যখন কাবায় প্রবেশ করেন তখন তাঁর হাতে সবুজ নয়, শান্তির প্রতীক সাদা রঙের পতাকা উড়ছিল৷ ইতিহাস তার সাক্ষি৷ সুপ্রিম কোর্ট খুব শীঘ্রই এই আবেদনের শুনানি করবে বলে জানা গিয়েছে৷

----
--