কীভাবে রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছিল স্বর্ণমন্দিরের এই প্যালেস?

নয়াদিল্লি: দেশের সবথেকে বড় এবং শিখদের জন্য সবথেকে পবিত্র তীর্থস্থানের নাম ‘গোল্ডেন টেম্পল’ বা অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির। শিখদের কাছে এর পরিচিতি ‘দরবার সাহিব’ নামে। শুধুমাত্র শিখরাই নয়, দেশ-বিদেশের বহু মানুষ এই স্বর্ণমন্দির পরিদর্শনের জন্য দূর দূরান্ত থেকে আসেন।

এই মন্দিরের অনেক ইতিহাস আছে। আছে অনেক গল্পও। মন্দিরের গম্বুজটি সোনার তৈরি। তাই সেদিকে দৃষ্টি আটকেই যাবেই। তবে অনেকেই হয়ত জানেন না, এই স্বর্ণমন্দিরের পাশেই ছিল একটি প্যালেস। সেটি এতটাই আকর্ষণীয় ছিল যে, প্রত্যেকেই মুগ্ধ হয়ে যেতেন। মন্দিরের সঙ্গে ওই প্যালেসের ছাড়াও পড়ত জলে। অথচ সেই প্যালেসের চিহ্নমাত্র নেই আজ। বহু ইউরোপিয়ান শিল্পীর আঁকা ছবিতে দেখা যায় ওই প্যালেস।

জানা যায় ১৯৩০ থেকে ১৯৪১-এর মধ্যে তৈরি হয়েছিল ওই দরবার প্যালেস। শিখ সাম্রাজ্যের শেষ রাজা ছিলেন রঞ্জিৎ সিং। তাঁর ছেলে শের সিং এই প্রাসাদে থাকতেন বলে শোনা যায়। রাজা রঞ্জিৎ সিং-এর আমকে একাধিক প্যালেস তৈরি হয়েছিল। তার মধ্যেই অন্যতম এই দরবার প্যালেস। মহারাজা সাধারণত ওইসব প্যালেসের ছাদে বসে স্বর্ণমন্দিরের ‘গুরুবাণী’ শুনতেন।

কিন্তু ব্রিটিশরা চাননি যে বেশি সংখ্যক মানুষ শিখ ধর্মগ্রহণ করুক। ক্রিশ্চান ধর্মকে ছড়িয়ে দিতে তারা একে একে শিখ রাজাদের প্রাসাদ ভাঙতে শুরু করে। ব্রিটিশরা এভাবেই বার্তা দিতে শুরু করেছিল যে, শিখ রাজাদের আর কোনও ক্ষমতা নেই। এই প্যালেসও তার মধ্যে একটা। সেই জায়গায় তৈরি করে দেওয়া হয় একটি লালরঙের নির্মাণ, নাম দেওয়া হয় ঘণ্টাঘর। এভাবেই শিখ ধর্মকে কার্যত শেষ করে দিতে চেয়েছিল ইংরেজরা। যদিও সেটা বাস্তবে হতে দেয়নি শিখরা।

Advertisement
----
-----