বর্ধমান স্টেশনে ধৃত আবদুল্লাকে ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

বর্ধমান: ১২ আগষ্ট থেকে বর্ধমান ষ্টেশনে একটানা গোপনে থাকা ধৃত আবদুল্লা সরকার ওরফে চিন্ময় মণ্ডলকে ঘিরে ক্রমশই রহস্য গভীরতর হচ্ছে। সোমবার ধৃত ব্যক্তিকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১০দিনের জিআরপির হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রবিবার বিকালে বর্ধমান ষ্টেশনের টিকিট কাউণ্টারের কাছ থেকে আবদুল্লা সরকারকে গ্রেপ্তার করে জিআরপি। জিজ্ঞাসাবাদের পর সে জানায় সে থাকে মুম্বাইয়ের মরি রোডের জনতা সেবক সোসাইটিতে। ধৃতের কাছ থেকে পুলিশ জাল আধার কার্ড ও প্যান কার্ড, দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করেছে।

ধৃতের কাছ থেকে হুগলীর এক বাসিন্দার পরিচয় পত্র মিলেছে। হুগলীর বলাগড় থানার কৃষ্ণবাটি বেনালি চরে তার বাড়ি বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে। সে জানিয়েছে, গত১২ আগষ্ট ডাউন মুম্বাই মেলে সে বর্ধমান ষ্টেশনে আসে। তারপর থেকেই সে ষ্টেশনের ওয়েটিং রুমে থাকত। সেখানেই তার সঙ্গে গোপনে বেশ কিছু লোকজন দেখাও করতে আসত। তারা অত্যন্ত নীচু স্বরে আলোচনাও করত। স্বাভাবিকভাবেই তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় গোটা বিষয়টি নজরে আসে গোয়েন্দাদের। এরপর থেকেই গোয়েন্দারা তাকে সর্বক্ষণের জন্য নজরবন্দি করে রাখে। পরে গোয়েন্দাদের নির্দেশ মতই জিআরপি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে রবিবার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের মোবাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, তার মোবাইলে রয়েছে তাজমহলের ছবি। এছাড়াও রয়েছে ট্রেনের ভেতর ও বাইরের বেশ কিছু ভিডিও ছবি।

- Advertisement -

এদিকে, হুগলীর চিন্ময় মণ্ডলের পরিচয় জানতে বর্ধমান জিআরপি যোগাযোগ করে বলাগড় থানার সঙ্গে। বলাগড় থানা থেকে পুলিশ জানিয়ে দেয়, বলাগড় থানার বেনালিচরের বাসিন্দা চিন্ময় মণ্ডল মুম্বাইয়ে কাজ করতে গিয়েছিল। সেখানেই সে তার ভোটার কার্ডটি হারিয়ে ফেলে। কিন্তু ২০০২ সালেই সে যথারীতি বাড়িও ফিরে আসে। তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা মনে করছেন, চিন্ময় মণ্ডলের হারিয়ে যাওয়া ভোটার কার্ডটি জাল করে আবদুল্লা তার নিজের ছবি বসিয়েছে।

Advertisement
---