স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: অগ্নিদগ্ধ হয়ে দাদার মৃত্যু ঘিরে দুই বোনের আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টার ঘটনায় গোটা বাঁকুড়া জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল৷ এবার সেই ঘটনাই নিল নয়া মোড়৷ তিরিশের বৃন্দাবন মণ্ডলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর দাবি উঠেছিল সোমবার৷ তবে পুলিশি তদন্তে মঙ্গলবার উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ ঘটনাটি বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ব্রাহ্মন বহড়া গ্রামের৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, সোমবার গভীর রাতে বৃন্দাবন মণ্ডলের বাড়ি থেকে চিৎকার শুনতে পাওয়া যায়৷ চিৎকার শুনে তাঁর বাড়িতে স্থানীয়রা গিয়ে দেখে বাড়ির ভিতরে ধোঁয়া ভরতি৷ এমনকি বাড়ির কিছুটা অংশে আগুনও লেগে গিয়েছে৷ স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগেই সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে৷ অন্যদিকে, ঘরের ভিতর তখন রক্তের স্রোত বইছে৷ স্থানীয়রা ঘরের ভিতর ঢুকতেই দেখতে পান বৃন্দাবনবাবুর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে৷ আর ওই একই ঘরে তাঁর দুই অবিবাহিত বোন হাতের শিরা কাটা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছে।

Advertisement

স্থানীয়রাই তড়িঘড়ি সিউড়ি থানায় খবর দেয়৷ পরে পুলিশ এসে দুই বোনকে উদ্ধার করে সিউড়ি হাসপাতালে ভরতি করে৷ পাশাপাশি তাঁদের বাবা প্রভাত মণ্ডলকে আটক করেছে পুলিশ৷ তবে প্রভাতবাবুকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে ওই বাড়িতে তদন্ত শুরু করে পুলিশের দল৷ আর সেখানেই রহস্যের গন্ধ পায় পুলিশ৷

ঘটনার পর যাতে প্রমাণ লোপাট না হয় সে কারণে মৃত বৃন্দাবনবাবুর ঘরটি আগে থেকেই বন্ধ করে রাখে পুলিশ৷ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সেখানে তদন্তে যায়৷ ওই বাড়ির রান্নাঘর থেকে তিনটে খাবারের থালা উদ্ধার হয়৷ পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তিনটি থালার মধ্যে একটা থালা খাবার সহ সাজানো অবস্থায় পড়ে ছিল৷ বাকি দু’টো থালা থেকে অর্ধেক করে খাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

পাশাপাশি আরও জানা গিয়েছে, ওই রান্নাঘর থেকে রক্তের ছাপ বৃন্দাবনের ঘর পর্যন্ত পৌঁছয়৷ রান্নাঘর থেকে বৃন্দাবনের ঘরের দূরত্বের মধ্যে যে সিঁড়ি পড়ে সেই সিঁড়িতেও মিলেছে রক্তের ছাপ৷ এরপরই রহস্য দানা বাঁধে পুলিশের মনে৷ পুলিশের সন্দেহ, তাহলে কি আগেই খুন করা হয়েছে বৃন্দাবন মণ্ডলকে? আর তারপর আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় তাঁর গায়ে? শুধু তাই নয়, একই বাড়িতে বৃন্দাবনের বোনেরা থাকার পরেও কিভাবে এই ঘটনা ঘটে? আগুন লাগলে তাঁরা জানতে পারতেনই৷ তাহলে তাঁরা কেন চিৎকার করে সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবেশীদের জানালো না? খুনের সময় তাহলে তাঁরা কোথায় ছিল আর কি করছিল৷ বোনেদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ মহলে৷

এলাকাবাসীদের দাবি, বিবাহ না হওয়ায় মানসিক অবসাদে ভুগত ওই দুই বোন৷ তাদের ধারণা ছিল দাদাই তাদের বিবাহ দিচ্ছে না৷ আর এই ঘটনার জেরেই দুই বোন এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিবেশীরা৷ এরপর নিজেরাও হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে৷ পরে পুলিশ এসে দুই বোনকে সিউড়ি হাসপাতালে ভরতি করে৷ যদিও বর্তমানে পুলিশি ঘেরাটোপে দুই বোনকে রাখা হয়েছে৷ তাঁদের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছে জেলা পুলিশ৷ পাশাপাশি বৃন্দাবনবাবুর বাড়ির সামনেও বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে৷ দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তি যাতে প্রমাণ লোপাট না করতে পারে সে দিকেও নজর রেখেছে পুলিশ৷ এই গোটা ঘটনা ঘিরে এখন রহস্য দানা বেঁধেছে বাঁকুড়ায়৷

----
--