মৃত্যুর পর কোথায় যায় আত্মা? উত্তর খুঁজতে সুখ ছেড়েছিলেন নচিকেতা

নচিকেতা ছিলেন একজন সত্যান্বেষী৷ সত্যের গভীরে যাওয়াই যার জীবনের মূল লক্ষ্য৷ তবে এটা সত্যি যে সত্যের খোঁজের মধ্যে অনাবিল শান্তি, সেটা কেউই অস্বীকার করতে পারেন না৷ অন্যদিকে, নচিকেতার বাবা ছিলেন একজন পার্থিব মানুষ৷ যার জীবনের মূল ধর্ম ছিল বিশ্বকে জয় করা এবং শেষে নিজের দম্ভকে অগ্রাধিকার দেওয়া৷ যার ফলস্বরূপ তিনি আয়োজন করেন এক বিশালাকার যজ্ঞের৷

সমাজে নিজের স্থান জাহির করতে যজ্ঞ শেষে তিনি ব্রাহ্মণদের উপহার দেন ধনসম্পত্তি সহ গবাদি পশু (গরু)৷ নিজের মনষ্কামনা চরিতার্থ করার জন্য এরকম বহু ধরণের যজ্ঞের উল্লেখ রয়েছে বেদে৷ ব্রাহ্মণদের পুরষ্কৃত করার বিষয়টি খুব ভালভাবে লক্ষ্য করেন নচিকেতা৷ এরপর, নচিকেতা তাঁর বাবাকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি অকোজো গবাদি পশুগুলিকে ব্রাহ্মণদের দান করছেন৷

তবে, নচিকেতা এখানেই থেমে যায়নি৷ তিনি প্রশ্ন করেন, তাঁর বাবা নচিকেতাকে উপহার হিসেবে কাকে দান করতে চলেছে? প্রশ্ন শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নচিকেতার বাবা৷ তিনি বলেন, মৃত্যুর দেবতা যমরাজের হাতে তিনি সমর্পন করতে চান নচিকেতাকে৷ এটি কথা উপনিষধের একটি গল্প৷ যার পরিধি এগিয়েছে মৃত্যুর দেবতা যমরাজ এবং নচিকেতার কথোপকথনের মাধ্যমে৷

- Advertisement -

যমরাজ তিনটি বর দেন নচিকেতাকে৷ তৃতীয় বরে নচিকেতা যমরাজকে জিজ্ঞেস করে আত্মার রহস্যটা কী? মৃত্যুর পর কোথায় যায় এই আত্মা৷ নচিকেতাকে সমস্ত ধরণের পার্থিব প্রলোভন দেন যমরাজ৷ সমস্ত প্রলোভনকে অস্বীকার করে আত্মার রহস্য সর্ম্পকেই পুনরায় জানাতে চায় নচিকেতা৷ শেষমেষ ব্যর্থ হয়ে যমরাজ উত্তর দেন নচিকেতার প্রশ্নের৷

পৃথিবার বুকেই সুখের অস্তিত্ব রয়েছে৷ তবে, পার্থিব সুখ খুবই সাময়িক৷ তাই, নচিকেতা সত্য অন্বেষনকেই বেছে নিয়েছিলেন।

Advertisement ---
---
-----