নিরাপত্তার অভাববোধ করে কলকাতায় থাকতে চান নদিয়ার তৃণমূল বিধায়করা

কৃষ্ণনগর: ভয়, ভয় আর ভয়৷ চোখ বুজলেই তাড়া করছে আতঙ্ক৷ সবই শনিবারের বিধায়ক খুনের ঘটনার রেশ৷ না এই ভয় শুধু কৃষ্ণগঞ্জের মানুষের নয়৷ বিরোধীরাও বলছেন লড়তে হবে৷ কিন্তু শাসক শিবিরের উলটো ছবি৷ আশঙ্কার দিনযাপন নদিয়া জেলার শাসক দলের মন্ত্রী, নেতা, বিধায়কদের৷ কর্মীরাও ভয়ে কাঁটা৷

আরও পড়ুন: অসমে খুন দুই বাঙালি, NRC-র ছায়া দেখছে তৃণমূল

কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক খুনে ২৪ ঘন্টা কাটেনি৷ কিন্তু বিদ্যুতের গতির থেকে যেন দ্রুত গতিতে ছুটছে আশঙ্কার ভ্রুকুটি৷ তৃণমূলের বহু বিধায়ক-ই এখন বলছেন, চাচা আপন প্রাণ বাঁচা৷ ভোটের আগে রাজনৈতির উত্তাপ থেকে বাঁচতে তাদের সাময়িক আস্তানা হয়ে উঠবে কলকাতা৷

 

সে কী? রাজ্যে জোড়া ফুলের রমরমা৷ দলনেত্রীরও নির্দেশ এলাকায় থাকতে হবে বিধায়ক, নেতা, মন্ত্রীদের৷ সুপ্রিমোর সেই নির্দেশ অমান্য করে একী কথা নদিয়ার তৃণমূলের উপরতলার কর্মীদের মুখে৷ নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক বিধায়কের কথায়, যা অবস্থা হচ্ছে তাতে সন্ধ্যের পর আর বের হওয়া যাবে না৷ দুষ্কৃতিতাণ্ডব যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে রেহাই নেই বিধায়কেরও৷ এরপর কার পালা কে যানে৷

আরও পড়ুন: তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বেই খুন বিধায়ক, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

রাজ্যের শাসক দলের দাবি বিরোধী বিজেপি এই কাজ করেছে৷ গেরুয়া শিবিরের দাবি অন্তর্দ্বন্দ্বেই নিহত হয়েছেন কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস৷ ফলে মৃত্যুর দায় নিয়ে শাসক বিরোধী তরজা অব্যাহত৷ এই পরিস্থিতিতে এদিন মৃত বিধায়করে বাড়ি যান দলের তরফে জেলার পর্যবেক্ষক অনুব্রত মণ্ডল, জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তরা৷ পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েই দায় সেরেছেন তাঁরা৷ মুখ্যমন্ত্রীর সহ্গেও কথা হয় প্রয়াত সত্যজিতের স্ত্রী রূপালী বিশ্বাসের৷ তবে নিজের সামাজিক মাধ্যম বা অন্য কোথাউ এই ঘটনায় দল তিনি কিছু বলেনি৷

বিধায়কের মৃত্যুতে দলনেত্রীর এই অবস্থানেই অসন্তুষ্ট জেলার তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ৷ শুরু হয়েছে ক্ষোভের সঞ্চার৷ যদি মেনে আসে খাঁড়ার ঘা৷ তাই প্রকাশ্যে কেউ-ই কিছু বলতে নারাজ৷ দলের মধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ তাদের কথায়, নেতারাই যেখানে সুরক্ষিত নন, সেখানে ভোটের আগে সাদারণ মানুষের কাছে গিয়ে কী বলব?

আরও পড়ুন: কুণাল-রাজীবকে একসঙ্গে বসিয়ে জেরা শুরু সিবিআইয়ের

পঞ্চায়েত ভোটে নদিয়া জেলায় তৃণমূলের ভোটব্যাংকে থাবা বসিয়েছে গেরুয়া শিবির৷ আসন্ন লোকসভায় এই জেলা থেকে ভালো ফলের ব্যাপারে আশাবাদী বিজেপি৷ ফলে লড়াই এখানে সমানে সমানে৷ রয়েছে জোড়াফুল শিবিরের গোষ্ঠীকোন্দল৷ পরিস্থিতি ভালো নয় বুঝেই শ্রী চৈতন্যের জেলায় দলীয় সংগঠনের দায়িত্ব ডাকসাইটে অনুব্রতকে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর তত্ত্বাবধানেই লোকসভায় ভোট পুরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব৷ কিন্তু সত্যজিতের মৃত্যুর পর শাসক দলের বিধায়ক, মন্ত্রীরাই বলছেন আর নয়, এবার থাকার পালা কলকাতায়৷ তবে কী হবে সংগঠনের৷ প্রশ্ন জোড়াফুল শিবিরের অন্দরেই৷

---- -----