বাবুল-রূপা থাকলেও ত্রিপুরায় মুকুল রায়কে ‘সাইড’ করল বিজেপি

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসে ত্রিপুরার দায়িত্বে ছিলেন মুকুল রায়৷ অথচ, ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের মুকুল রায়কে ‘সাইড লাইনে’ রাখল বিজেপি৷

আরও পড়ুন: দুঁদে ‘ব্যবসায়ী’ হবেন নেতারা, বাংলায় প্রথম আইপিএল-কর্মশালা

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন৷ উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারের জন্য গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় স্তর থেকে ৪০ জন নেতার এক তালিকা তৈরি হয়েছে৷ এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের সংসদ সদস্য বাবুল সুপ্রিয় এবং রাজ্যসভার সদস্য রূপা গঙ্গোপাধ্যায় থাকলেও নেই বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের নাম৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: মুকুলের ছায়ায় গেরুয়া সংগঠনের নিশানায় মমতার স্বাস্থ্য দফতর

তবে, শুধুমাত্র বাবুল সুপ্রিয় এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নামও নয়৷ বাঙালি অধ্যুষিত ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির এই তালিকায় অনেক বাঙালি নেতার নামও রয়েছে৷ তার উপর, স্বাভাবিক কারণেই এই তালিকায় হেভি ওয়েট নেতাদেরও নাম রয়েছে৷ অবস্থা এমনই যে, কে নেই এই তালিকায়! অথচ, এই হেভি ওয়েট নেতাদের তালিকায় নেই মুকুল রায়ের নাম৷

আরও পড়ুন: সরকারি ‘প্রতিহিংসা’র জেরে বাংলায় গোপনে পোক্ত হচ্ছে বিজেপির সংগঠন

ত্রিপুরায় নির্বাচনী প্রচারে ৪০ জনের এই তালিকায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের পাশাপাশি মন্ত্রী নীতিন গড়করি এবং মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির নামও৷ তেমনই, এই তালিকায় রয়েছে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, অসমের মন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা সহ বিজেপির নেতা শাহনওয়াজ হোসেন, বসুন্ধরা রাজে, মনোজ তিওয়ারি এবং ঝাড়খন্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অর্জুন মুন্ডার নামও৷

আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক-বাহিনীর অধীনে বাংলায় ফাইনালে গোল করবে বিজেপি

আর, এমনই এক হেভি ওয়েট নেতাদের নামের তালিকায় নেই মুকুল রায়৷স্বাভাবিক কারণেই, এই তালিকার জেরে খোদ গেরুয়া শিবিরেরই বিভিন্ন অংশেই এমনই চর্চা চলছে, মুকুল রায়কে এ ভাবে কি ‘সাইড লাইনে’ পাঠিয়ে দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব? না হলে, বাবুল সুপ্রিয়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম থাকলেও কেন নেই মুকুল রায়? ত্রিপুরায় একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের বিস্তারের জন্য মুকুল রায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল৷ স্বাভাবিক কারণে, ত্রিপুরার বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন এই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বেশ ওয়াকিবহাল বলেই মনে করছে গেরুয়া শিবিরের ওই সব অংশ৷

আরও পড়ুন: অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে? কমিশনে বিজেপি

আর, এই ধরনের যুক্তির উপর ভর করে গেরুয়া শিবিরের ওই সব অংশে কারণ খোঁজার চেষ্টাও চলছে, ৪০ জনের এই তালিকায় কেন নেই মুকুল রায়ের নাম? তবে, শুধুমাত্র আবার গেরুয়া শিবিরের ওই সব অংশেও নয়৷ রাজনৈতিক সহ ওয়াকিবহাল মহলের বিভিন্ন অংশেও এই তালিকাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে, মুকুল রায়কে সত্যিই তা হলে ‘ব্রাত্য’ করে রাখা হল ত্রিপুরার নির্বাচনী প্রচারে? তা হলে, মুকুল রায়কে নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কি অন্য কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? না কি, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জন্যই মুকুল রায় বিজেপির নেতা?

কোনও কোনও মহলে আবার এমন চর্চাও চলছে, পশ্চিমবঙ্গে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের উপর ‘রাজনৈতিক চাপ’ বৃদ্ধির বিষয়টি রয়েছে বিজেপির কাছে৷ তেমনই, মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বিষয়টিও ‘প্রশ্নে’র সম্মুখীন হয়েছিল৷ যে কারণে, মুকুল রায় এখন বিজেপির নেতা৷ তবে, এই তালিকার বিষয়ে মুকুল রায়ের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ কিন্তু, তাঁকে একাধিকবার ফোন কল করা হলেও তিনি ধরেননি৷

Advertisement ---
---
-----